শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ - ১০:৫৮
ধর্মীয় শিক্ষায় ‘উত্তম বাক্য’: রিজিক বৃদ্ধি ও প্রিয়ভাজন হওয়ার মাধ্যম

মানুষের একটি সুন্দর কথা শুধু হৃদয় জয়ই করে না; বরং তা সম্পদ ও রিজিকে বরকত আনে, আয়ু দীর্ঘায়িত করে এবং পরিবার-পরিজনের কাছে মানুষকে আরও প্রিয় করে তোলে। মহানবী (সা.)-এর বর্ণিত এক নৈতিক হাদিসের আলোকে আলোচ্য শিক্ষায় আরও বলা হয়েছে, ‘কওলুন হাসান’ বা উত্তম বাক্য কেবল দুনিয়াবি কল্যাণের উৎস নয়; বরং পরকালেও তা মানুষকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: শহীদ আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনেয়ী (কুদ্দিসা নাফসুহুয্‌ যাকিয়্যাহ) তাঁর ফিকহের উচ্চতর পাঠের (দারসে খারিজ) সূচনায় একটি নৈতিক হাদিসের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছিলেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি বাণীর আলোকে ‘উত্তম বাক্যের প্রভাব’ শীর্ষক সেই নৈতিক আলোচনার ভিডিও ও বক্তব্যের পাঠ নিচে তুলে ধরা হলো:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।

حَدَّثَنَا أَبُوحَمْزَةَ الثُّمَالِي عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ: الْقَوْلُ الْحَسَنُ يُثْرِي الْمَالَ

আবু হামযা সুমালি ইমাম আলী ইবনুল হুসাইন (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, “উত্তম বাক্য মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি করে।”

অর্থাৎ, সুন্দর ও কল্যাণকর কথা মানুষের পার্থিব সম্পদ বৃদ্ধির কারণ হয়।

وَيُنَمِّي الرِّزْقَ

“এটি মানুষের রিজিক বৃদ্ধি করে এবং তাতে প্রাচুর্য দান করে।”

وَيُنْسِئُ فِي الْأَجَلِ

“এটি মানুষের আয়ুকে দীর্ঘায়িত করে।”

وَيُحَبِّبُ إِلَى الْأَهْلِ

“এটি মানুষকে তার পরিবার-পরিজনের কাছে প্রিয় করে তোলে।”

এসবই উত্তম বাক্যের দুনিয়াবি প্রভাব। অর্থাৎ এমন কথা, যা শরিয়তের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—যেমন আল্লাহ, নবী, কিয়ামত, দুনিয়া, হাদিস, ধর্মীয় জীবন এবং সৌভাগ্যময় জীবন সম্পর্কে আলোচনা; এবং একই সঙ্গে তা হাসিমুখে উপস্থাপিত হয়। কারণ, উত্তম বাক্যের স্বাভাবিক দাবি হলো—তা সুন্দর আচরণ ও মধুর ভাষায় উচ্চারিত হবে। এগুলোই এর পার্থিব প্রভাব।

وَيُدْخِلُ الْجَنَّةَ

“এবং এটি মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করায়।”

এটিই উত্তম বাক্যের পরকালীন প্রভাব—এটি মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়।

তথ্যসূত্র: আল-আমালি, শাইখ সাদুক, পৃষ্ঠা ৫০

এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানুষের জিহ্বা কেবল ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়; বরং তা তার ব্যক্তিত্ব, সম্পর্ক ও পরিণতিরও নির্মাতা। একটি উত্তম বাক্য যেমন মানুষের জীবনে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও কল্যাণ বয়ে আনতে পারে, তেমনি তা দুনিয়াবি বরকত ও আখিরাতের মুক্তিরও কারণ হতে পারে। তাই ইসলামী শিক্ষার আলোকে প্রত্যেক মুমিনের উচিত কথা বলার আগে তার সত্যতা, কল্যাণকর দিক এবং উপস্থাপনার সৌন্দর্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া; যাতে তার বাক্য মানুষের জন্য রহমত, প্রেরণা ও হেদায়াতের উৎস হয়ে ওঠে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha