শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ - ১৮:২৫
ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাব ও শাসনব্যবস্থায় নারীদের ভূমিকা ও অবস্থান | শেষ পর্ব

ইতিহাস এমন সব নারীর উপস্থিতির সাক্ষ্য বহন করে, যাদের হৃদয় ঈমান ও আল্লাহ্‌র পরিচয়ের আলোয় পরিশুদ্ধ ও দীপ্তিমান হয়েছিল। এই ঈমান ও মারিফাতের বরকতেই তারা আল্লাহ্‌র সর্বশেষ মনোনীত প্রতিনিধি, শেষ যুগের ঐশী হুজ্জতের সহচর এবং ‘রজআত’কারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন কিংবা করবেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমাম মাহদী (আজ্জাল্লাহু তাআলা ফারাজাহুশ শরীফ)-সংক্রান্ত শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা প্রসারের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত ‘একটি আদর্শ সমাজের দিকে’ শীর্ষক মাহদাভিয়াত বিষয়ক ধারাবাহিক আলোচনায় আপনাদের স্বাগতম।

পূর্ববর্তী দুই পর্বে আমরা মানবজাতির মুক্তিদাতা ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাবের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা এবং আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নারীদের সাধারণ দায়িত্ব ও তাদের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছি। এই পর্বে আমরা ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাব ও শাসনব্যবস্থায় নারীদের ভূমিকা ও মর্যাদা সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর উপস্থাপন করব।

ইমাম মাহদী (আ.ফা.)’র ৩১৩ জন বিশেষ সাহাবির মধ্যে কি নারীরাও থাকবেন?
ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির (আ.) থেকে জাবির কর্তৃক বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে এসেছে—

وَاللَّهِ ثَلَاثُمِائَةٍ وَبِضْعَةَ عَشَرَ رَجُلًا فِيهِمْ خَمْسُونَ امْرَأَةً يَجْتَمِعُونَ بِمَكَّةَ عَلَى غَيْرِ مِيعَادٍ

অর্থাৎ: “আল্লাহ্‌র শপথ! তিনশত তেরোজনের কিছু বেশি লোক একত্রিত হবে; তাদের মধ্যে পঞ্চাশ জন নারী থাকবে। তারা কোনো পূর্বনির্ধারিত সময় বা প্রতিশ্রুতি ছাড়াই মক্কায় সমবেত হবে।” (তাফসির আল-আইয়্যাশি, খণ্ড ১, পৃ. ৬৫)

এই বর্ণনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, «فِيهِمْ» (তাদের মধ্যে) শব্দবন্ধটির দুটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়—
প্রথমত, ৩১৩ জনের মধ্যেই ৫০ জন নারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

দ্বিতীয়ত, ৩১৩ জন পুরুষের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫০ জন নারী উপস্থিত থাকবেন।

আরও একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, এই বর্ণনাটি তাফসির আল-আইয়্যাশিতে এসেছে। কিন্তু আইয়্যাশি কর্তৃক বর্ণিত অধিকাংশ হাদিসের মতো এটিও মুরসাল হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনার অবকাশ রয়েছে। মুরসাল হাদিস বলতে এমন বর্ণনাকে বোঝায়, যার পূর্ণ সনদ বা বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করা হয়নি।

একই বর্ণনা আল-গায়বাহ (নু‘মানী) গ্রন্থে পূর্ণ সনদসহ এসেছে; তবে সেখানে «فِيهِمْ خَمْسُونَ امْرَأَةً»—“তাদের মধ্যে পঞ্চাশ জন নারী থাকবে”—এই অংশটি অনুপস্থিত।

فَيَجْمَعُ اللَّهُ عَلَيْهِ أَصْحَابَهُ ثَلَاثَمِائَةٍ وَثَلَاثَةَ عَشَرَ رَجُلًا وَيَجْمَعُهُمُ اللَّهُ لَهُ عَلَى غَيْرِ مِيعَادٍ

অর্থ: “আল্লাহ্‌ তাঁর জন্য তিনশত তেরোজন পুরুষ সঙ্গীকে একত্র করবেন এবং কোনো পূর্বঘোষণা বা নির্ধারিত সময় ছাড়াই তাঁদের তাঁর কাছে সমবেত করবেন।” (আল-গায়বাহ, নু‘মানী, পৃ. ২৮২)

একইভাবে শাইখ মুফিদের আল-ইখতিসাস গ্রন্থেও বর্ণনাটি এসেছে, কিন্তু সেখানে উল্লিখিত অংশটি নেই—

فَيَجْمَعُ اللَّهُ لَهُ أَصْحَابَهُ ثَلَاثَ مِائَةٍ وَثَلَاثَةَ عَشَرَ رَجُلًا فَيَجْمَعُهُمُ اللَّهُ لَهُ عَلَى غَيْرِ مِيعَادٍ

(আল-ইখতিসাস, পৃ. ২৫৫)

আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বিভিন্ন বর্ণনার প্রাসঙ্গিকতা বিচার করলে দেখা যায়, «رَجُل» শব্দটি দ্বারা এখানে ‘পুরুষ’ বোঝানো হয়েছে; নারী নয়।

বদরযুদ্ধের সাহাবিদের সঙ্গে তুলনা

يَجْمَعُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ مِنْ أَقَاصِي الْبِلَادِ عَلَى عَدَدِ أَهْلِ بَدْرٍ ثَلَاثَمِائَةٍ وَثَلَاثَةَ عَشَرَ رَجُلًا

অর্থ: “আল্লাহ্‌ পৃথিবীর দূর-দূরান্ত থেকে তাঁর জন্য বদরযুদ্ধের সাহাবিদের সংখ্যার সমপরিমাণ তিনশত তেরোজন পুরুষকে একত্র করবেন।” (কামালুদ্দীন ওয়া তামামুন নি‘মাহ, পৃ. ২৬৪)

তালুত (আ.)-এর সঙ্গীদের সঙ্গে তুলনা

الْقَلِيلُ الَّذِينَ لَمْ يَشْرَبُوا وَلَمْ يَغْتَرِفُوا ثَلَاثَمِائَةٍ وَثَلَاثَةَ عَشَرَ رَجُلًا

অর্থ: “যারা সেই পানি পান করেনি কিংবা হাতে তুলে নেয়নি, তাদের সংখ্যা ছিল তিনশত তেরোজন পুরুষ।” (তাফসির নূরুস সাকালাইন, খণ্ড ১, পৃ. ২৪৮)

এটি সুস্পষ্ট যে, বদরযুদ্ধের ৩১৩ জন এবং তালুত (আ.)-এর সেই নির্বাচিত সঙ্গীরাও সবাই পুরুষ ছিলেন।

অতএব, হাদিসশাস্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে ৩১৩ জন বিশেষ সাহাবির মধ্যে কিংবা তাঁদের সঙ্গে নারীদের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা কঠিন। কারণ, এ বিষয়ে সরাসরি ইঙ্গিতবাহী মাত্র একটি মুরসাল বর্ণনা পাওয়া যায়। অন্যদিকে নির্ভরযোগ্য সনদসমৃদ্ধ বর্ণনাগুলো ৩১৩ জনকে পুরুষ হিসেবেই উপস্থাপন করে।

তবে পূর্ববর্তী আলোচনাগুলো এবং পরবর্তী বর্ণনাগুলোর আলোকে একটি বিষয় পরিষ্কার—৩১৩ জনের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি প্রমাণিত না হওয়া কখনোই নারীর মর্যাদা, গুরুত্ব বা আধ্যাত্মিক অবস্থানকে খাটো করে না। কেননা, ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে অসংখ্য সহায়ক ও অনুসারী যুক্ত হবেন, যাদের সংখ্যা গণনার অতীত। ফলে ইমাম মাহদী (আ.ফা.) আবির্ভাব ও শাসনব্যবস্থায় নারীদের ভূমিকা ও মর্যাদা নিঃসন্দেহে বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

যারা রজআত করবেন, তাঁদের মধ্যে কি নারীরাও থাকবেন?
এই আলোচনায় আমরা নারীদের র’জআতের সময়কাল, তাঁদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা তাঁদের পূর্ণ পরিচয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করব না। আমাদের আলোচনার মূল বিষয় হলো—নারীদের রজআতের মৌলিক সত্যতা।

অর্থাৎ, ইতিহাসে এমন সব নারী ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন, যারা ঈমান ও আল্লাহ্‌র পরিচয়ের সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হয়েছেন; এমনকি শেষ যুগের আল্লাহ্‌র সর্বশেষ মনোনীত প্রতিনিধির সহচর হিসেবে পুনরায় পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সৌভাগ্যও তাঁদের হবে।

ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে—

يُكَرُّ مَعَ الْقَائِمِ عَلَيْهِ السَّلَامُ ثَلَاثَ عَشْرَةَ امْرَأَةً...

অর্থ: “কায়েম (আ.)-এর সঙ্গে তেরোজন নারী পুনরাগমন করবেন।” (দালাইলুল ইমামাহ, খণ্ড ১, পৃ. ৪৮৪)»

বর্ণনাকারী বলেন, “আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাঁদের কী দায়িত্ব থাকবে?”

তিনি বললেন, “তাঁরা আহতদের চিকিৎসা করবেন এবং অসুস্থদের সেবাযত্ন করবেন; যেমন তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেও করতেন।”

আমি বললাম, “তাঁদের নামগুলো আমাকে বলুন।”

তিনি বললেন, “কানওয়া বিনতে রাশিদ, উম্মে আইমান, হাবাবাহ আল-ওয়ালিবিয়্যাহ, সুমাইয়্যা—আম্মার ইবন ইয়াসিরের মা, যুবাইদাহ, উম্মে খালিদ আল-আহমাসিয়্যাহ, উম্মে সাঈদ আল-হানাফিয়্যাহ, সুবানাহ (ফেরাউনের কন্যার পরিচর্যাকারিণী), এবং উম্মে খালিদ আল-জুহানিয়্যাহ।”

অন্যান্য গ্রন্থেও আরও কিছু রজআতকারী নারীর নাম ও সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, যেমনটি বলা হয়েছে, সেগুলো আমাদের বর্তমান আলোচনার বিষয় নয়।

বরং এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই নারীদের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। কারণ তাঁদের বৈশিষ্ট্যগুলো নারীদের ঈমানে দৃঢ়তা, আল্লাহ্‌র পরিচয় অর্জন এবং দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে।

র’জআতকারী নারীদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য
স্বাধীনচেতা মনোভাব, বাতিলের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং সত্যের পক্ষে অবিচল প্রতিরোধ—এই গুণগুলোই তাঁদের অন্যতম প্রধান পরিচয়।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ফেরাউনের কন্যার পরিচর্যাকারিণী সুবানাহ সম্পর্কে বলেছেন— “যখন আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আমি এক অপূর্ব সুগন্ধ অনুভব করলাম। আমি জিবরাইলকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এটি কিসের সুগন্ধ?’ তিনি বললেন, ‘এটি ফেরাউনের পরিবারের পরিচর্যাকারিণী নারী এবং তার সন্তানদের সুগন্ধ।’

সে ফেরাউনের কন্যার চুল আঁচড়াচ্ছিল। এমন সময় তার হাত থেকে চিরুনি পড়ে যায় এবং সে বলে ওঠে, ‘বিসমিল্লাহ।’

ফেরাউনের কন্যা জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কি আমার পিতার নাম নিয়েছ?’

সে বলল, ‘না; বরং আমার, তোমার এবং তোমার পিতার রব হলেন আল্লাহ্‌।’

মেয়েটি বলল, ‘আমি অবশ্যই বিষয়টি আমার পিতাকে জানাব।’

নারীটি বলল, ‘তুমি চাইলে জানাতে পারো।’

মেয়েটি তার পিতাকে বিষয়টি জানালে, ফেরাউন তাকে ও তার সন্তানদের ডেকে পাঠায় এবং জিজ্ঞেস করে, ‘তোমার রব কে?’

সে উত্তর দেয়, ‘আমার ও তোমার রব আল্লাহ্‌।’

তখন ফেরাউন তামার তৈরি একটি চুল্লি উত্তপ্ত করার নির্দেশ দেয়। এরপর তার সন্তানদের একে একে সেই আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। সবশেষে তার দুগ্ধপোষ্য শিশুর পালা এলে শিশুটি কথা বলে ওঠে— ‘হে মা! ধৈর্য ধারণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছেন।’

অতঃপর তাকেও তাঁর শিশুসন্তানের সঙ্গে সেই চুল্লিতে নিক্ষেপ করা হয়।” (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ১৩, পৃ. ১৬৩)

অন্যদিকে, আম্মার ইবন ইয়াসিরের মা সুমাইয়্যা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—

وَكَانَتْ مِمَّنْ تُعَذَّبُ فِي اللَّهِ لِتَرْجِعَ عَنْ دِينِهَا فَلَمْ تَفْعَلْ، فَمَرَّ بِهَا أَبُو جَهْلٍ فَطَعَنَهَا فِي قَلْبِهَا فَمَاتَتْ

অর্থ: “তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাঁদের আল্লাহ্‌র পথে এমনভাবে নির্যাতন করা হতো যাতে তাঁরা নিজেদের ধর্ম থেকে ফিরে যান। কিন্তু তিনি তা করেননি। অতঃপর আবু জাহেল তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে বর্শাঘাতে আঘাত করে; ফলে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।” (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ১৮, পৃ. ২৪১)

এ ধরনের আরও বহু দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিদ্যমান।

একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
সমাজ ও পরিবেশগত পরিস্থিতিকে অনেকে—বিশেষ করে কিছু নারী—নিজেদের ঈমানের দুর্বলতা বা দ্বীনি শৈথিল্যের অজুহাত হিসেবে তুলে ধরেন। অথচ ইসলামের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকা নারীদের জীবন আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথে কোনো ব্যক্তি, কোনো পরিবেশ কিংবা কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিই মানুষের জন্য অতিক্রম অযোগ্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌ তাআলা হযরত আসিয়া (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর কথা উল্লেখ করার সময় তাঁর নাম উচ্চারণ না করে তাঁকে «امْرَأَتَ فِرْعَوْنَ»—“ফেরাউনের স্ত্রী” বলে উল্লেখ করেছেন। যেন সকল মুমিন নারী-পুরুষ উপলব্ধি করতে পারেন যে, তিনি যুগের সবচেয়ে বড় অত্যাচারীর প্রাসাদে বসবাস করেও, কোনো পার্থিব সহায়তা ছাড়াই কেবল আল্লাহ্‌র ওপর নির্ভর করে সমগ্র মানবজাতির জন্য আদর্শে পরিণত হয়েছিলেন।

শেষকথা
র’জআত কেবল অতীতের মানুষের জন্য নির্ধারিত নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এ কারণেই আমাদেরকে দু‘আয়ে আহাদ পাঠ করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে—

اللَّهُمَّ إِنْ حَالَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ الْمَوْتُ الَّذِي جَعَلْتَهُ عَلَى عِبَادِكَ حَتْمًا مَقْضِيًّا، فَأَخْرِجْنِي مِنْ قَبْرِي مُؤْتَزِرًا كَفَنِي، شَاهِرًا سَيْفِي، مُجَرِّدًا قَنَاتِي، مُلَبِّيًا دَعْوَةَ الدَّاعِي فِي الْحَاضِرِ وَالْبَادِي

অর্থ: “হে আল্লাহ! যদি আমার ও তাঁর (ইমাম মাহদী আ.ফা.)-এর মাঝে সেই মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়, যাকে আপনি আপনার বান্দাদের জন্য অবধারিত ও অনিবার্য করে রেখেছেন, তবে আমাকে আমার কবর থেকে বের করে আনুন—কাফনে আবৃত অবস্থায়, তলোয়ার উন্মুক্ত করে, বর্শা হাতে নিয়ে, নগর ও মরুপ্রান্তে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া প্রদানকারী হিসেবে।”

এই হৃদয়মুগ্ধকর লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের উচিত সেই সব গুণে নিজেদের সুশোভিত করা, যেগুলো বর্ণনাগুলোতে রজআতকারীদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এই পথে নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে সত্যের ওপর অবিচল থাকার, ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর প্রকৃত প্রতীক্ষাকারী হওয়ার এবং তাঁর সহচরদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ইমাম মাহদী (আ.ফা.) বিষয়ক ধারাবাহিক আলোচনা সমাপ্ত!

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha