শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ - ২৩:০৭
মহররমের শোকানুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করবেন না: বাহরাইনের শাসকদের প্রতি দেশটির আলেমসমাজের কঠোর হুঁশিয়ারি

বাহরাইনের আলেমসমাজ দেশটির শিয়া জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চলমান দমনমূলক নীতি ও ধর্মীয় বিধিনিষেধের পরিণতি সম্পর্কে দেশটির শাসকগোষ্ঠীর প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বাহরাইনের আলেমরা শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অব্যাহত বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ ও সীমাবদ্ধতা আরোপের নীতির সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে, হুসাইনি শাআইর (ইমাম হুসাইন (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত ধর্মীয় নিদর্শন ও আচার-অনুষ্ঠান) পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে কিছু খতিব ও নওহাখানকে তাঁদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ এবং নাগরিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বাহরাইনের আলেমসমাজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “আশুরার শোকমৌসুম ও পবিত্র মহররম মাসের সূচনালগ্নে বাহরাইন সরকার এক অন্যায়, দমনমূলক এবং অত্যন্ত উসকানিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারা হুসাইনি মিম্বরের কয়েকজন খতিব এবং শোকমিছিলের কিছু নওহাখানকে হুসাইনি শাআইর সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে তাঁদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রেখেছে।

এই পদক্ষেপ ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সুস্পষ্ট আগ্রাসন, দেশের সংবিধানের প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের সেই স্বীকৃত অধিকার হরণ করার শামিল, যার মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ধর্মীয় মারজাইয়াতের নির্ধারিত ফিকহি বিধান অনুযায়ী তাঁদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। অথচ এই ঐতিহ্য শত শত বছর ধরে বাহরাইনের সমাজে প্রচলিত ও স্বীকৃত।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বহু বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত এই সংগঠিত নীতি সরকার কর্তৃক প্রচারিত ‘ধর্মীয় সহনশীলতা’ এবং ‘সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা’-সংক্রান্ত দাবির অসারতা ও ভণ্ডামিকে উন্মোচিত করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অমুসলিম ধর্মাবলম্বী, এমনকি অবিশ্বাসী ও মুশরিকরাও এ দেশের মুসলিম নাগরিক এবং এই ভূখণ্ডের আদিবাসী অধিবাসীদের তুলনায় অধিক স্বাধীনতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে।”

মহররমের শোকানুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করবেন না: বাহরাইনের শাসকদের প্রতি দেশটির আলেমসমাজের কঠোর হুঁশিয়ারি

আলেমসমাজ এই অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এ ধরনের পদক্ষেপ বন্ধ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা সরকারকে উসকানিমূলক নীতি থেকে সরে এসে আশুরার শোকাবহ পরিবেশের পবিত্রতা রক্ষা এবং সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট না করার আহ্বান জানান।

তাঁরা সতর্ক করে বলেন, জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে যদি এই দমনমূলক নীতি অব্যাহত রাখা হয়, তবে তার নেতিবাচক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।

এই প্রেক্ষাপটে বাহরাইনের আলেমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা যেন অবিলম্বে এই অন্যায্য সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে, নাগরিকদের ধর্মীয় অধিকারকে সম্মান জানায় এবং মহররম ও আশুরার শোকানুষ্ঠানকে রাজনৈতিক চাপ বা নিরাপত্তাজনিত অজুহাতের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করার নীতি থেকে বিরত থাকে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha