রবিবার ২১ জুন ২০২৬ - ১৪:০৬
পবিত্র মহররম উপলক্ষে আঞ্জু-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাষ্ট-এর উদ্যোগে শোক মজলিস অনুষ্ঠিত

পবিত্র মহররম উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাষ্টের আয়োজনে ১০ দিনব্যাপী শোক আলোচনা সভা গত ৫ মহররম (২০ জুন, শনিবার) বাদ মাগরিব মার্সিয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী প্রথম দিনের বক্তৃতায় বলেন, কারবালার শিক্ষাই ইসলামী বিপ্লবের মূলমন্ত্র এবং আহলে বায়েতের শানে হাদিসগুলো আজ রাজনীতিতে স্থান পায়নি; ইমাম হুসাইন (আ.)-এর রক্ত এজিদের সাম্রাজ্যকে চিরতরে দাফন করেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পবিত্র মহররম উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাষ্ট আয়োজিত ১০ দিন ব্যাপী শোক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে|

প্রায় চৌদ্দশ’ বছর আগের এই দিনে ইরাকের কারবালায় বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স.)’র প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর ৭২ জন সঙ্গী-সাথী সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন|

১লা হতে ১০ই মহররম পর্যন্ত শোক আলোচনা করবেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী|

গত ৫ মহররম ২০ জুন ২০২৬ (শনিবার) বাদ মাগরিব এ মজলিসের সূচনা হয় মার্সিয়া মাধ্যমে|

৫ মহররমে শোক মজলিসে বক্তব্য রাখেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী। তিনি বলেন, হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর ওফাতের পর বনি উমাইয়া যারা ইসলামের বিজয়ের পর নামধারী মুসলমান হয়েছে তারা আহলে বায়েতের শানে হাদিসগুলো পর্দার আড়ালে রেখে গোপন করে, টাকার বিনিময়ে জাল হাদিস সৃষ্টি করা হয়েছে।

এখন বর্তমানে আহলে বায়েতের শানে হাদিস সিয়াসাত্তায় খুজে পাওয়া যাবে না। একটু চিন্তা করে দেখেন, নামাজের দরুদ না পড়লে নামাজ হয় না সেই আহলে বায়েতের শানে কোন হাদিস পাওয়া যায় না। কারবালায় ইমাম হোসাইন (আ.) এর রক্তে এজিদের সাম্রাজ্যকে দাফন করা হয়েছে। ইসলামকে বুঝতে হলে কারবালাকে বুঝতে হবে, কারবালাকে বুঝলে ইসলামকে জানা যাবে।

বিশ্বে অনেক ইসলামী দল রয়েছে কেউ ইসলামী বিপ্লব ঘটাতে পারিনি একমাত্র ইরান ছাড়া কেননা যারা কারবালা থেকে শিক্ষা নিয়েছে তারাই ইসলামী বিপ্লব ঘটিয়েছে। কারবালার ২টি প্রভাব; যারা কারবালা চর্চা করে তারা ইসলামী বিপ্লব ঘটাতে পারে এবং যারা অসুস্থ্য, ঋণগ্রস্ত, মহাবিপদে আছে তারা জিয়ারতের আশুরা ৪০দিন পর্যন্ত পড়লে সেগুলো সমস্যার সমাধান অবশ্যই ঘটে।

তিনি আরো বলে, মুসলমানরা যারা নামাজ পড়ে তাদের নামাজ এবং যারা আজাদারী সাইয়্যেদা’র নামাজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তারা নামাজ পড়ে জানে না নামাজ কে সংরক্ষণ করেছে বা রক্ষা করে আমাদের পর্যন্ত পৌছে দিয়েছে। মসজিদে হযরত আলী (আ.) নামাজ পড়াচ্ছে তখন আবু হুরাইরা (রা.) বলেছে, ২৫ বছর পর আমি সেই নামাজ পড়েছি যেটা রসুলুল্লাহ (সা.) এর পিছনে পড়েছিলাম। হযরত আলী (আ.)’র নামাজই হচ্ছে রসুলুল্লাহ (সা.) এর নামাজ।

এই শোকসভার আয়োজনে মুসলমানদের ¯^ত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইমাম হোসাইন (আ.)-এর প্রতি আজাদারী শিক্ষার বহিঃপ্রকাশ। মজলিসের শেষে মাতম, যিয়ারতে আশুরা, দোয়া-এ-ইমাম জামান (আ.) এবং তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে শোক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha