হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী বিপ্লবের নেতা শহীদ হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.)-এর এই বক্তব্যে কুরআনের দৃষ্টিতে নারীর অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি কুরআনের আয়াতের আলোকে ঈমান ও কুফরের ক্ষেত্রে নারীর প্রকৃত আদর্শসমূহ উপস্থাপন করেন এবং ইসলাম ও পশ্চিমা সভ্যতার দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন—
যখন পশ্চিমা সভ্যতায় পুরুষকে শ্রেষ্ঠ ও মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয় এবং সেই সভ্যতা মূলত পুরুষকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, তখন এর স্বাভাবিক ফল হলো নারী নিজের আদর্শ হিসেবে পুরুষকে গ্রহণ করে এবং পুরুষই নারীর মানদণ্ডে পরিণত হয়। ফলে নারী পুরুষের মতো আচরণ ও কাজের দিকে অগ্রসর হয়—এটাই সেই চিন্তাধারার স্বাভাবিক ফলাফল।
এর বিপরীতে কুরআন একটি আয়াত উপস্থাপন করে, যেখানে বলা হয়েছে—
ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ
অর্থাৎ আল্লাহ কাফেরদের জন্য দুটি নারীর উদাহরণ দিয়েছেন: নূহ (আ.)-এর স্ত্রী এবং লুত (আ.)-এর স্ত্রী। এরা তাদের স্বামীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।
কুরআন আরও বলে—
فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا
অর্থাৎ তাদের স্বামীরা নবী হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর শাস্তির মোকাবিলায় তাদের কোনো উপকারে আসেনি। এটি কাফেরদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত।
এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِلَّذِينَ آمَنُوا امْرَأَتَ فِرْعَوْنَ
অর্থাৎ মুমিনদের জন্যও আল্লাহ একটি নারীর উদাহরণ দিয়েছেন—ফিরআউনের স্ত্রী।
তিনি বলেন, কুরআন এখানে দুই নারীকে ঈমানের আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেছে: একজন ফিরআউনের স্ত্রী এবং অন্যজন হযরত মারিয়াম (আ.)।
অর্থাৎ যদি সমগ্র মানবজাতি—নারী ও পুরুষ উভয়ই—ঈমানের আদর্শ অনুসরণ করতে চায়, তবে কুরআন তাদের সামনে নারীদেরকেই আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
ফিরআউনের স্ত্রী ছিলেন চরম পবিত্রতা ও নৈতিকতার অধিকারী। তিনি হযরত মুসা (আ.)-কে হত্যার হাত থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন—“তাকে হত্যা করো না।” পরে তিনি হযরত মুসা (আ.)-এর প্রতি ঈমান আনেন এবং শেষ পর্যন্ত নির্যাতনের মধ্যেও শহীদ হন—এটাই তাঁর আদর্শ।
অন্যদিকে হযরত মারিয়াম বিনতে ইমরান (আ.), যিনি নিজের পবিত্রতা ও সতীত্ব কঠোরভাবে রক্ষা করেছিলেন—«الَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا»—তিনি কঠিন পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নিজেকে সংরক্ষণ করেছেন এবং পূর্ণ পবিত্রতার অনন্য উদাহরণ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন—
পশ্চিমা সভ্যতা যেখানে পুরুষকে আদর্শ হিসেবে দাঁড় করায়, সেখানে কুরআন নারীকেই আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করে—শুধু নারীদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য। কুফর ও ঈমান—উভয় ক্ষেত্রেই কুরআন নারী চরিত্রকে মানবতার মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরে।
সংযোজন: সারকথা হলো, কুরআনের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা লিঙ্গভিত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব বা অনুকরণের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং ঈমান, চরিত্র ও নৈতিকতাই মূল মানদণ্ড। পশ্চিমা সভ্যতায় নারীকে প্রায়ই পুরুষের মানদণ্ডে নিজেকে গড়তে হয়, কিন্তু কুরআন নারীকে স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করে।
ফিরআউনের স্ত্রী ও হযরত মারিয়াম (আ.)-এর মতো উদাহরণ প্রমাণ করে যে, নারীও সমগ্র মানবতার জন্য আদর্শ হতে পারেন—এটাই ইসলামের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি।
আপনার কমেন্ট