হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমে অবস্থিত হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.আ.)’র পবিত্র মাজার শরীফের বক্তা হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সাইয়্যেদ আহমদ হুসাইনি তাসুয়ার শোকানুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যে বলেন, সমাজ সংস্কারের প্রথম ভিত্তি হলো মানুষের আকীদা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সংশোধন। আর ইসলামী বিশ্বাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইমামত ও বেলায়েত।
তিনি বলেন, ইমামতের প্রতি বিশ্বাসের অর্থ হলো ইমামের আনুগত্যে বিশ্বাস স্থাপন করা। ইমাম সেই ব্যক্তি, যার আনুগত্য পালন করা মুমিনদের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য।
তিনি হযরত আবুল ফজল আল-আব্বাস (আ.) এবং মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়ার আচরণের পার্থক্যের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ভাই মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া কল্যাণকামিতার বশে তাঁকে ইরাকের পরিবর্তে ইয়েমেনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শুভ, তবে তিনি ইমামের সফরে সঙ্গী হননি।
অন্যদিকে, হযরত আবুল ফজল আল-আব্বাস (আ.) ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতিটি নির্দেশের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন করেছিলেন। বক্তার ভাষায়, পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণ ইমামত-বিশ্বাসের পার্থক্য এখানেই সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তিনি আহলে বাইতের কবি সৈয়দ হিমইয়ারীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ইমাম জাফর সাদিক (আ.) তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি তাঁর যুগের হুজ্জাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেননি; বরং মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়াকেই ইমাম হিসেবে মনে করতেন।
বক্তা হযরত আবুল ফজল আল-আব্বাস (আ.)-এর মর্যাদা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি নবী নন, ইমামও নন; তবুও তাঁর এমন এক সম্মানজনক মর্যাদা রয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর নাম উচ্চারিত হলে তাঁর নামও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, হযরত আবুল ফজল আল-আব্বাস (আ.) ‘বাবুল হাওয়ায়িজ’—অর্থাৎ মানুষের প্রয়োজন পূরণের দ্বার—হিসেবে মুসলিম সমাজে সুপরিচিত।
আপনার কমেন্ট