শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ - ১৫:০৩
খুলনায় পবিত্র আশুরা পালিত

খুলনায় পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাস্টের আয়োজনে ১০ দিনব্যাপী শোক আলোচনা সভা ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বক্তারা কারবালার চেতনাকে গাজার নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পবিত্র মহররম উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাস্টের উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী শোক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে| প্রায় চৌদ্দশত বছর আগের এই দিনে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর ৭২ জন সঙ্গী-সাথী সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
১লা হতে ১০ই মহররম পর্যন্ত এই আলোচনা সভায় মূল বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী। সমাপনী দিনে হযরত ইমাম হোসাইন (আ.)-এর পবিত্র শাহাদত স্মরণে নগরীর আলতাপোল লেনস্থ  কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ি হতে এক শোক মিছিল বের করা হয়।
শোক মিছিলপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী বলেন: “কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনায় মুসলমানদের জন্য এক গভীর শিক্ষা রয়েছে। কারবালার আদর্শ মুসলমানদের অন্যায় ও মিথ্যার সাথে আপোস না করা এবং সত্যের পতাকাকে সমুন্নত রাখার চেতনা জাগ্রত করে| ইমাম হুসাইন (আ.)-এর এই আত্মত্যাগ কেবল কোনো ক্ষমতার লড়াই ছিল না, এটি ছিল জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের এবং অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের চিরন্তন সংগ্রাম। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, জীবন দিয়ে হলেও কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়| আজ বিশ্বজুড়ে যেখানেই নিপীড়ন, সেখানেই কারবালার চেতনা আমাদের প্রেরণা জোগায়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা এবং ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গীদের শাহাদাতের পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এর গুরুত্ব ও মর্যাদা এতটুকুও কমেনি; বরং সময়ের সাথে সাথে আশুরার চেতনা বিশ্বব্যাপী আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তা জায়নবাদকে অন্যায়ের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন: "আজকের গাজা যেন আধুনিক যুগের আরেক কারবালা। সেখানে নিষ্পাপ শিশু ও ¯^জনহারা মানুষদের ওপর যে বর্বরতা চালানো হচ্ছে, তা কারবালার এজিদীয় নির্মমতাকেও হার মানায়। তাই যারা নিজেদের হোসাইনী আদর্শের সৈনিক মনে করেন, গাজার মজলুম ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ানো এবং ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া তাদের প্রধান ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।"
মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ’র চেয়ারম্যান এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। তিনি বলেন, “কারবালার চেতনা আমাদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়| মুসলিম উম্মাহ যদি আজ ক্ষুদ্র ¯স্বার্থ ও বিভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হতে পারে, তবে বিশ্বের কোনো অন্যায় শক্তি মুসলমানদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।”
আলোচনা সভা শেষে একটি বিশাল শোক মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবাড়িতে এসে শেষ হয়| এই শোক মিছিলে বিপুল সংখ্যক শিয়া মুসলিম নারী ও পুরুষ অংশ নেন।
সমগ্র মিছিল পরিচালনা করেন আঞ্জুমান-এ-টাঞ্জাতানী ট্রাস্ট এর সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসিরুল হাসান।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha