হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সৈয়দ হোসেন মুমিনি পবিত্র হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.)-এর মাজার শরীফে ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হুরের সেনাবাহিনীর মুখোমুখি প্রদত্ত বক্তৃতার উল্লেখ করে বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.) ঘোষণা করেছিলেন যে দ্বীন থেকে শুধু নামটুকু অবশিষ্ট আছে, কিন্তু দ্বীনের কোনো কর্ম বা চিহ্ন আর দৃশ্যমান নয়। এটি সমাজে জুলুমের বাস্তবায়নকে নির্দেশ করে; যে জুলুম হলো সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং সরল পথ থেকে বেরিয়ে যাওয়া।
তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) গাদিরের খুতবায় বলেছিলেন যে সরল পথ হলো আমি, আলী ও আমার বংশধরগণ। কিন্তু মানুষ আলী (আ.) থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করল এবং এই দূরত্বই সব বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াল। আহলে বাইত (আ.)-এর ওপর যা কিছু অত্যাচার ও বিপর্যয় নেমে এসেছে, তার সবকিছুই মানুষের বেলায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং তাদের যুগের ইমাম সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকেই উদ্ভূত হয়েছে।
পবিত্র মাজার শরীফের এই বক্তা স্পষ্ট করে বলেন, যদি বেলায়াতের নূর (আলো) মানুষের অন্তরে প্রবেশ না করে, তবে তা অন্ধকার ও মলিন হয়ে যায় এবং ইমামের প্রতি পরিচিতি ও জ্ঞানই মানুষকে এসব ক্ষতি ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে।
হুজ্জাতুল ইসলাম মুমিনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করে মানব সৃষ্টির মূল দর্শনকে আল্লাহর পরিচিতি (মারিফত) হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, যখন আল্লাহ চেনা যায়, তখন ইবাদত অর্থবহ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং মানুষ অন্য কারও সামনে নয়, বরং আল্লাহর সম্মুখেই মাথা নত করে। আল্লাহর এই পরিচিতি মানুষকে প্রশান্তি ও তৃপ্তি প্রদান করে এবং তাকে ভবিষ্যতের সকল দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত রাখে। ইমাম হুসাইন (আ.) আরও বলেন, আল্লাহর পরিচিতি বলতে প্রতিটি যুগের ইমামের পরিচিতিকেই বোঝানো হয়েছে। অতএব, যদি জনগণ তাদের যুগের ইমামকে চিনতে পারে, তবে তাদের অন্তরে প্রশান্তি ও মর্যাদা বিরাজ করবে।
পবিত্র মাজার শরীফের বক্তা আশুরা-পরবর্তী বিপর্যয় ও বেদনাদায়ক ঘটনাবলীর উল্লেখ করে বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ওপর যে নৃশংস অত্যাচার ও জুলুম চালানো হয়েছিল, তা ছিল বেলায়াত থেকে দূরত্বের কারণে সৃষ্ট জুলুমেরই ধারাবাহিকতা। আজও যদি সমাজে ইমাম মাহদী (আ.)-এর প্রতি যথাযথ পরিচিতি ও জ্ঞান না থাকে, তবে এই ক্ষতি ও বিপর্যয়গুলো আবারও পুনরাবৃত্ত হবে।
আপনার কমেন্ট