শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২৬ - ১০:২২
শহীদের রক্ত: ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থিতি, মর্যাদা ও ধারাবাহিকতার নিশ্চয়তা

শাহাদাত কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হওয়ার নাম নয়; বরং এটি আল্লাহর সঙ্গে লেনদেন, ঐশী অঙ্গীকার পূরণ এবং দ্বীনি মূল্যবোধ রক্ষায় আত্মোৎসর্গের এক মহিমান্বিত সত্য। শহীদরা ইসলামী বিপ্লবের স্থায়ী পুঁজি, জাতির মর্যাদা ও গৌরবের উৎস, সমাজের অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি এবং ইখলাস, আত্মত্যাগ, প্রতিরোধ ও চিরন্তন জীবনের জীবন্ত আদর্শ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদদের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (রহ.)’র পবিত্র জানাজার দিনগুলোতে শাহাদাতের কুরআনিক ও জ্ঞানগত ভিত্তিগুলো পুনরায় স্মরণ করার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। নিচে উপস্থাপিত তাঁর বক্তব্যগুলো শাহাদাতের প্রকৃত অর্থ, শহীদের মর্যাদা, আত্মত্যাগের সংস্কৃতি, উত্তরসূরিদের দায়িত্ব এবং ইসলামী উম্মাহর মর্যাদা, স্বাধীনতা ও অবিচলতার ধারাবাহিকতায় শহীদের রক্তের ভূমিকা সম্পর্কে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

মানুষের সেবার পথে শাহাদাত আল্লাহর নিকট চিরন্তন জীবন
শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.) বলেন, “বিপদের মুখোমুখি হলে আমাদের করণীয় কী—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি এর আগে এই মহান ক্ষতি (সম্মানিত রাষ্ট্রপতি ও তাঁর সফরসঙ্গীদের শাহাদাত) প্রসঙ্গে এই নূরানী আয়াতের মাধ্যমে আলোচনাকে আলোকিত করতে চেয়েছিলাম:

وَ لا تَقولوا لِمَن یُقتَلُ فی‌ سَبیلِ اللهِ ‌اَمواتٌ بَل اَحیاءٌ وَ لکِن لا تَشعُرون.

‘যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত, যদিও তোমরা তা উপলব্ধি করতে পার না।’

এই আয়াতের আগে বা পরে কোথাও যুদ্ধ, সামরিক অভিযান বা সশস্ত্র সংঘাতের আলোচনা নেই; এখানে কেবল বলা হয়েছে—‘আল্লাহর পথে’।

অতএব, ‘আল্লাহর পথে নিহত হওয়া’ বলতে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হওয়াকেই বোঝানো হয়েছে—এমন দাবি করার কোনো ভিত্তি এই আয়াতে নেই। সূরা আলে ইমরানের আয়াতে অবশ্য জিহাদের প্রেক্ষাপট রয়েছে, কিন্তু এখানে তা নেই; এটি সাধারণ ও সর্বজনীন।

মানুষের সেবার পথ আল্লাহর পথ। জনগণের জন্য জিহাদি কর্মযজ্ঞ আল্লাহর পথ। ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা আল্লাহর পথ। ইসলামী ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অগ্রগতি আল্লাহর পথ।

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট রাইসী ও তাঁর সঙ্গীরা দেশের অগ্রগতি, জনগণের সেবা এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের উন্নতির পথে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাই তারা এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। তাদের মৃত মনে করো না; তারা জীবিত—যেমনটি শহীদদের সম্পর্কে বলা হয়েছে।”

বক্তব্যের তারিখ: ১৪০৩/০৩/১৪ (৩ জুন ২০২৪)

শাহাদাত—জান্নাতের বিনিময়ে আল্লাহর সঙ্গে জীবনের লেনদেন
তিনি বলেন: “শহীদদের সম্পর্কে আহলে বাইত (আ.) এবং ইসলামী বিপ্লবের নেতৃবৃন্দ বহু মূল্যবান কথা বলেছেন। কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে পবিত্র কুরআনের বক্তব্য।

আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করেছেন জান্নাতের বিনিময়ে।’

আল্লাহ লেনদেন করেন—এটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়। আমরা কোথায়, আর আল্লাহ কোথায়! অথচ তিনি আমাদের জীবনকে এমন এক মহান উপহারের বিনিময়ে গ্রহণ করেন, যা একজন মানুষ লাভ করতে পারে—আর তা হলো জান্নাত, আল্লাহর সন্তুষ্টির জান্নাত।

এরপর তিনি বলেন: ‘তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, হত্যা করে এবং নিহত হয়।’

এটি শুধু ইসলামের শিক্ষা নয়; তাওরাত, ইনজিল ও কুরআন—সব ঐশী গ্রন্থেই এই প্রতিশ্রুতির উল্লেখ রয়েছে।

আরেক আয়াতে বলা হয়েছে: ‘আল্লাহর পথে যারা নিহত হয়েছে, তাদের কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট জীবিত এবং জীবিকা প্রাপ্ত।’

শহীদদের মর্যাদা ও শাহাদাতের ফজিলত সম্পর্কে এর চেয়ে উচ্চতর বক্তব্য আর কী হতে পারে?”

বক্তব্যের তারিখ: ১৪০২/১১/০৩ (২৩ জানুয়ারি ২০২৪)

শহীদদের নাম ও স্মৃতি চিরস্থায়ী; তবে তা জীবিত রাখার দায়িত্ব আমাদের
তিনি বলেন: “শহীদদের নামের মধ্যেই স্থায়িত্ব ও জীবনের বৈশিষ্ট্য নিহিত রয়েছে। আল্লাহর পথে আত্মত্যাগের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যই হলো তা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকা। পবিত্র কুরআনের ভাষায়: ‘ফেনা তো বিলীন হয়ে যায়, কিন্তু যা মানুষের উপকারে আসে তা পৃথিবীতে স্থায়ী হয়ে থাকে।’

শাহাদাত এবং আল্লাহর পথে আত্মোৎসর্গও এমনই একটি সত্য, যা স্বাভাবিকভাবেই টিকে থাকে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিরোধী শক্তি ও বিভ্রান্তিকর প্রবণতাগুলো এর ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। ইতিহাসে বহু মহান মূল্যবোধকে আঘাত করা হয়েছে, কারণ সত্যের অনুসারীরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বহু নবী, ওলী এবং মহামানবের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অন্যায় সাময়িকভাবে প্রাধান্য বিস্তার করেছে, কারণ সত্যের পক্ষের মানুষ তাদের কর্তব্যে অবহেলা করেছে।

অতএব, শহীদরা স্বভাবতই চিরস্থায়ী, কিন্তু তাদের স্মৃতি ও আদর্শকে জীবিত রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের উচিত শহীদদের নামকে জীবন্ত রাখা, তাদের বার্তা ও আত্মত্যাগের শিক্ষা থেকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে সাজানো। আমাদের সমাজ ও বৈশ্বিক মানবসমাজ—উভয়ই সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক জীবনব্যবস্থার প্রয়োজন অনুভব করছে, আর শহীদদের শিক্ষা ও উত্তরাধিকার সেই পথে আমাদের সহায়তা করতে পারে।”

বক্তব্যের তারিখ: ১৪০২/০৭/০৫

শাহাদাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হওয়ার নাম নয়
তিনি বলেন: “শাহাদাতের প্রকৃত অর্থ সঠিকভাবে উপলব্ধি করা জরুরি। শাহাদাত কেবল যুদ্ধের ময়দানে নিহত হওয়ার নাম নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অসংখ্য মানুষ নিজেদের দেশের যুদ্ধে অংশ নেয় এবং নিহত হয়। তাদের অনেকেই দেশপ্রেম ও ভূখণ্ড রক্ষার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে।

কিন্তু আমাদের শহীদের অবস্থান এর চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। ইসলামের একজন মুজাহিদ যখন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেন, তখন তিনি কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেন না; তিনি বিশ্বাসের সীমান্ত, নৈতিকতার সীমান্ত, ধর্মের সীমান্ত, সংস্কৃতির সীমান্ত এবং জাতিসত্তা ও পরিচয়ের সীমান্ত রক্ষার জন্য সংগ্রামে অবতীর্ণ হন।

অবশ্যই ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা একটি মূল্যবান কাজ; কিন্তু ঈমান, আদর্শ, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের সুরক্ষার সঙ্গে যখন তা একত্রিত হয়, তখন তার মর্যাদা ও তাৎপর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। আমাদের শহীদদের অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য এখানেই।”

শহীদ আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকারের সত্যনিষ্ঠ রক্ষক
তিনি বলেন: “শহীদ প্রকৃতপক্ষে সেই ব্যক্তির প্রতীক, যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করেছেন জান্নাতের বিনিময়ে।’

শহীদ নিজের জীবনকে আল্লাহর সঙ্গে লেনদেন করেন। আবার কুরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে:
‘মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন; তাদের কেউ কেউ তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন এবং কেউ কেউ এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছেন।’

শহীদ সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতির প্রতি সত্যনিষ্ঠ থাকেন।

এ কারণেই আল্লাহর পথে সংগ্রামরত একজন মুমিন যোদ্ধা পৃথিবীর সাধারণ সৈনিকদের থেকে ভিন্ন। যুদ্ধক্ষেত্রে তার ইখলাস বৃদ্ধি পায়, আল্লাহর ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়, বিনয় ও তাকওয়া বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর সীমারেখা রক্ষার ব্যাপারে সে আরও সতর্ক হয়ে ওঠে।”

বক্তব্যের তারিখ: ১৪০০/০৮/৩০

শহীদের রক্ত: ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থিতি, মর্যাদা ও ধারাবাহিকতার নিশ্চয়তা

শহীদের রক্ত রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব ও মর্যাদার গ্যারান্টি
তিনি বলেন: “শহীদদের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা শহীদদের জন্য যে মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন, আমাদেরও তাদের সেই মর্যাদায় মূল্যায়ন করতে হবে।

আল্লাহর পথে যারা সংগ্রাম করে, হত্যা করে এবং নিহত হয়—তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

রেওয়ায়েতে এসেছে, শহীদ যখন শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করেন, তখন তিনি পৃথিবী ছাড়ার আগেই আল্লাহর রহমতের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করতে শুরু করেন। বলা হয়েছে, যুদ্ধে ঘোড়া থেকে মাটিতে পড়ার আগেই শহীদ তার জন্য নির্ধারিত পুরস্কারের আভাস লাভ করেন।

যদি এই আত্মত্যাগ ও শাহাদাত না থাকত, তবে এই রাষ্ট্র ও এই বিপ্লব টিকে থাকত না। অসংখ্য ঝড় ও ষড়যন্ত্রের মুখেও যে এই বৃক্ষ আজ শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার অন্যতম কারণ শহীদদের রক্ত, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা।

এই উত্তরাধিকারকে সংরক্ষণ করতে হবে এবং শত্রুর ষড়যন্ত্র ও কৌশলকে সঠিকভাবে চিনতে হবে।”

বক্তব্যের তারিখ: ১৩৯৫/০৯/১৫ ফার্সি সন

সন্ত্রাসের শিকার শহীদরা জাতির দৃঢ়তার প্রতীক
তিনি বলেন: “আমাদের দেশে সন্ত্রাসবাদের শিকার সতেরো হাজার শহীদ রয়েছে। এ সংখ্যা কোনো ছোট সংখ্যা নয়।

এই সন্ত্রাসের শিকারদের মধ্যে ছিলেন ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, আলেম, নারী, শিশু এবং সাধারণ মানুষ। অথচ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত অনেক ব্যক্তি আজ পশ্চিমা দেশগুলোতে অবাধে চলাফেরা করছে।

এই বাস্তবতা একদিকে তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী শক্তিগুলোর দ্বিচারিতা ও ভণ্ডামিকে উন্মোচিত করে, অন্যদিকে প্রমাণ করে যে এত রক্ত ও ত্যাগের পরও ইরানের জনগণ তাদের বিপ্লব ও আদর্শের পক্ষে অবিচল রয়েছে।

এই শহীদদের আত্মত্যাগই জাতির শক্তি, মর্যাদা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।”

বক্তব্যের তারিখ: ১৩৯৬/০৪/০৬ ফার্সি সন

শাহাদাত বাহ্যিকভাবে বিচ্ছেদ, কিন্তু প্রকৃত অর্থে চিরন্তন উত্থান
তিনি বলেন: “পৃথিবীর মানুষের দৃষ্টিতে শাহাদাত বেদনাদায়ক। বিশেষত একজন পিতা, মাতা, স্ত্রী বা সন্তানের জন্য এটি প্রিয়জনকে হারানোর গভীর কষ্ট ও শূন্যতার অনুভূতি সৃষ্টি করে।

কিন্তু শাহাদাতের অন্তর্নিহিত সত্য এর চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। এর প্রকৃত অর্থ হলো, একজন মানুষ হঠাৎ করেই আল্লাহর নৈকট্যের উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত হন, এমন এক মর্যাদায় যা ফেরেশতাদের অবস্থানেরও ঊর্ধ্বে।

কিয়ামতের দিন, যখন অনেক মানুষ অন্ধকার ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে, তখন শহীদদের নূর তাদের সামনে ও চারপাশে আলোকিত হবে। সেই নূর হবে তাদের ঈমান, ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের ফল।”

বক্তব্যের তারিখ: ১৩৯০/১০/২৯ ফার্সি সন

ইসার ও শাহাদাতের সংস্কৃতি সমাজের চালিকাশক্তি
তিনি বলেন: “শহীদ ও আত্মত্যাগের সংস্কৃতি কখনো পুরোনো হয়ে যায় না। এটি একটি জাতি ও সমাজের অগ্রযাত্রার প্রধান শক্তি।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর রক্ত বৃথা যায়নি। বরং তাঁর শাহাদাত ইসলামের পুনর্জাগরণ এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার চিরন্তন প্রেরণায় পরিণত হয়েছে।

এ কারণেই ইমাম সাজ্জাদ (আ.) এবং হযরত যায়নাব (সা.) আজীবন কারবালার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের এই প্রচেষ্টা প্রতিশোধের জন্য ছিল না; বরং সত্য, ন্যায় ও ইসলামী আদর্শকে জীবিত রাখার জন্য ছিল।

শহীদদের স্মৃতি ও আদর্শ জাতির অগ্রযাত্রার পতাকা হয়ে থাকবে।”

বক্তব্যের তারিখ: ১৩৮৩/০৪/১৬

শহীদের রক্ত: ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থিতি, মর্যাদা ও ধারাবাহিকতার নিশ্চয়তা

শাহাদাত সর্বোচ্চ মর্যাদা ও আত্মত্যাগের শীর্ষস্থান
তিনি বলেন: “সমস্ত জাতি ও সভ্যতায় আত্মত্যাগী মানুষ সম্মানিত। যে যুবক নিজের জীবনকে মহান আদর্শের জন্য উৎসর্গ করে, সে জাতির সবচেয়ে প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়।

কিন্তু ইসলামে আল্লাহর পথে আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে: ‘প্রত্যেক নেক আমলের ঊর্ধ্বে আরও নেক আমল রয়েছে, অবশেষে আল্লাহর পথে শাহাদাতে উপনীত হওয়া পর্যন্ত; আর এর ঊর্ধ্বে কোনো আমল নেই।’

এই কারণেই ইসলামে শাহাদাতকে মানবজীবনের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ এবং সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।”

বক্তব্যের তারিখ: ১৩৭৮/ ০৬/০৯ ফার্সি সন

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha