হাওজা নিউজ এজেন্সি: সম্মানিত শহীদদের পবিত্র দেহাবশেষ, বিশেষ করে শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.) ও তাঁর সম্মানিত সঙ্গীদের দাফনকে সামনে রেখে দাফনের প্রথম রাতের আমল ও বিধান নিয়ে বিভিন্ন শরয়ি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, নামাজে লাইলাতুদ দাফন ঠিক কখন আদায় করতে হবে এবং একাধিক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে বা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দাফন হলে তা কীভাবে আদায় করা হবে।
এ বিষয়ে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মুহাম্মাদী শাহরুদী বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
প্রশ্ন: নামাজে লাইলাতুদ দাফন সম্পর্কে একটি প্রশ্ন রয়েছে। এ নামাজ কি এখনই আদায় করা যাবে, নাকি শহীদ নেতার দাফনের রাতেই তা আদায় করতে হবে?
এছাড়া, যদি তাঁর পরিবারের সদস্য বা সঙ্গীরা পৃথক পৃথক স্থানে দাফন হন, তাহলে কি প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে এই নামাজ আদায় করতে হবে?
উত্তর: হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মুহাম্মাদী শাহরূদী: “এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ নামাজকে 'সালাতু লাইলাতিদ দাফন' বা নামাজে লাইলাতুদ দাফন বলা হয় এবং শরয়ি দৃষ্টিতে এর নির্ধারিত সময় হলো দাফনের পরবর্তী প্রথম রাত; অর্থাৎ যে রাতে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়, সেই রাতেই এ নামাজ আদায় করা হয়। এটি মৃত্যুর রাতের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
অতএব, শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.) ও তাঁর সঙ্গীদের দাফন সম্পন্ন হওয়ার আগে এই নামাজের সময় শুরু হয় না। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রথম রাতেই এ মুস্তাহাব নামাজ আদায় করা হবে।
একাধিক মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফিকহি বিধান অনুযায়ী, এই নামাজ প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির জন্য পৃথকভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং, যদি তারা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দাফন হন, তাহলে প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে নামাজে লাইলাতুদ দাফন আদায় করা যেতে পারে এবং পৃথকভাবে আদায় করাই অধিক উত্তম।
উল্লেখ্য, কিছু ফকিহ মৃত্যুর রাতেও এ নামাজ আদায়ের একটি সীমিত পর্যায়ের সুপারিশের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তা দাফনের রাতের নামাজের বিকল্প নয়। এ আমলের মূল গুরুত্ব ও বিশেষ সুপারিশ দাফনের পরবর্তী প্রথম রাতের সঙ্গেই সম্পর্কিত।
নামাজ আদায়ের পর মৃত ব্যক্তির রূহের উদ্দেশে সওয়াব হাদিয়া করার সময় এ দোয়া পাঠ করা যেতে পারে:
اللهم صل علی محمد و آل محمد و ابعث ثوابها الی قبر فلان بن فلان.
অর্থ: 'হে আল্লাহ! মুহাম্মদ ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন এবং এই নামাজের সওয়াব অমুক ইবনে অমুকের কবরে পৌঁছে দিন।'
তবে এ নিয়ত বা প্রার্থনা নিজ ভাষায়ও ব্যক্ত করা যেতে পারে। মূল বিষয় হলো, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যে তিনি যেন এই নামাজের সওয়াব নির্দিষ্ট মৃত ব্যক্তির রূহের নিকট পৌঁছে দেন।
যদিও একটি নামাজের সওয়াব একাধিক মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে উৎসর্গ করা বৈধ, তথাপি প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির জন্য পৃথকভাবে একটি করে নামাজে লাইলাতুদ দাফন আদায় করাই অধিক উত্তম ও অধিক ফজিলতপূর্ণ।”
আপনার কমেন্ট