শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২৬ - ১২:৫৪
কোমে শহীদ ইমামের জানাজা অনুষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা

হাওজা / কোমে শহীদ ইমামের বিদায় ও শেষকৃত্যানুষ্ঠান আয়োজক কমিটির প্রধান বলেছেন, ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার মরদেহবাহী শোভাযাত্রা হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.)-এর পবিত্র মাজার থেকে পবিত্র জামকারান মসজিদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হাওজা সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোমে শহীদ ইমামের বিদায় ও জানাজা অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির প্রধান ব্রিগেডিয়ার ফাতহুল্লাহ জামিরি বলেন, ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার জানাজা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কোম প্রদেশ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কারণে কোম সবসময়ই মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনের দায়িত্ব শহরের প্রশাসন ও জনগণের ওপর আরও বেড়ে গেছে।

তিনি জানান, অনুষ্ঠান পরিকল্পনার প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়িত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাহী কার্যক্রম, উদ্ধার ও জরুরি সেবা, জনসেবা, আবাসন, স্বাস্থ্য, খাদ্য, লজিস্টিক, পরিবহন এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণ-সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে সারা দেশ থেকে আগত তীর্থযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

হযরত মাসুমা (সা.)-এর পবিত্র মাজার থেকে শহীদ নেতার জানাজার শোভাযাত্রার সূচনা

কোমে ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) বাহিনীর কমান্ডার বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনী (রহ.) বহুবার কোমের সঙ্গে শহীদ আলেমদের বিশেষ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাই শহীদ নেতার পবিত্র মরদেহকে স্বাগত জানানো কোমের জনগণ ও কর্মকর্তাদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনার পর পয়গম্বরে আযম (সা.) বুলেভার্ডকে নামাজ ও জানাজা অনুষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। কারণ এখানে পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতা, সহজ যোগাযোগ এবং জামকারান মসজিদের অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জামিরি জানান, অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট সময় তেহরান থেকে মরদেহ স্থানান্তরের সময়সূচির ওপর নির্ভর করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোরের প্রথম প্রহরে অনুষ্ঠান শুরু করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে মানুষ তীব্র গরমে কম কষ্ট পায়।

তিনি আরও বলেন, অতীতে জাতীয় পর্যায়ের কিছু অনুষ্ঠানের মতো-যেমন ‘শহীদে খেদমত’ এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের শহীদদের জানাজা অনুষ্ঠানে-জানাজা স্থানান্তরের সময়সূচিতে পরিবর্তন হলে চূড়ান্ত কর্মসূচিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে জনগণকে যথাসময়ে জানানো হবে।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা এবং তাঁর পরিবার সবসময় জনসাধারণের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই নীতির আলোকে পুরো অনুষ্ঠান নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষাকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিত হয়েছে।

তিনি যোগ করেন, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে যাতে মানুষ শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন এবং কোনো ধরনের ভিড় বা দুর্ঘটনা তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে না ফেলে।

নিরাপত্তা নির্দেশনা

ব্রিগেডিয়ার জামিরি তীর্থযাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বড় ব্যাকপ্যাক বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন না করাই ভালো। এগুলো শুধু যাত্রীদের জন্যই অসুবিধা সৃষ্টি করবে না, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণকেও কঠিন করে তুলবে।

তিনি বলেন, ধারালো অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র বা নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে নিষিদ্ধ যেকোনো বস্তু বহনের অনুমতি থাকবে না এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে এ বিষয়টি তদারকি করবে।

তিনি আরও বলেন, যদিও অনুষ্ঠানস্থলে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে, তবুও বিপুল জনসমাগমের কথা বিবেচনা করে জিয়ারতকারীদের নিজ নিজ পানীয় পানি, ছাতা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই অনুষ্ঠানে জনসমাগম অতীতের অনুরূপ অনেক অনুষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশি হবে। কারণ অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ একটি নির্দিষ্ট এলাকায় একত্রিত হবেন। তাই নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

যানবাহন, পার্কিং ও আবাসনের ব্যবস্থা

ব্রিগেডিয়ার জামিরি বলেন, বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আগত কাফেলার জন্য যানবাহনের ধরন অনুযায়ী পার্কিং ও অবস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি জানান, পয়গম্বরে আযম (সা.) বুলেভার্ডে প্রবেশের বিভিন্ন পথ খোলা থাকবে। কিছু জিয়ারতকারীরা জামকারান মসজিদের দিক থেকে এবং অন্যরা হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.)-এর পবিত্র মাজারমুখী সড়ক দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করবেন।

প্রতিটি ঘর হবে একটি মওকিব ও যাত্রী নিবাস

তিনি কোমবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেমন আরবাঈন উপলক্ষে ইরাকে মানুষ নিজ নিজ বাড়ি জিয়ারতকারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন, তেমনি কোমের মানুষও যেন নিজেদের বাড়িকে যাত্রীদের আবাসন ও আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুত করেন। ‘কোমের প্রতিটি ঘর একটি মওকিব (সেবাকেন্দ্র) এবং একটি যাত্রী নিবাসে পরিণত হোক।‘

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে আগত বহু জিয়ারতকারীরা তেহরানে না গিয়ে সরাসরি কোমে চলে আসবেন। তাই তাঁদের আবাসন ও আপ্যায়নে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শেষে ব্রিগেডিয়ার জামিরি বলেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলা, প্রবীণ ও শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং আয়োজকদের সঙ্গে সহযোগিতা করলে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি আরও বলেন, এই উপস্থিতি শুধু ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই নয়, বরং ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেয়ীর প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করারও প্রতীক হবে এবং এটি বিশ্বের সামনে ইরানি জাতির ঐক্য, সংহতি ও শক্তির বার্তা পৌঁছে দেবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha