শনিবার ৪ জুলাই ২০২৬ - ১২:০৪
খামেনেইয়ের জানাজায় মন ভার করছে ছোট্ট কফিন

খামেনেইয়ের জানাজায় মন ভার করছে ছোট্ট কফিন

পেন্টাগন হামলার শিকার আয়াতুল্লার ১৪ মাসের নাতনিও

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় কফিনবন্দি অবস্থায় শায়িত রয়েছেন ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেই। তাঁর ঠিক পাশেই রাখা হয়েছে অপর একটি একরত্তি কফিন। যেখানে শুয়ে আছে জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় কফিনবন্দি অবস্থায় শায়িত রয়েছেন ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেই। তাঁর ঠিক পাশেই রাখা হয়েছে অপর একটি একরত্তি কফিন। যেখানে শুয়ে আছে জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি। খামেনেইয়ের ১৪ মাসের নাতনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পেন্টাগন হামলার শিকার হতে হয়েছে তাকেও।

সেই কফিনের উপর রাখা একটি ছবি। সেই ছবিতে মুখে চুষি দিয়ে নিষ্পাপ নীল চোখে তাকিয়ে আছে জাহরা। যেন সত্যিই তাকিয়ে আছে, দেখছে, অবাক হচ্ছে…

শুক্রবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের কফিনবন্দি দেহ নিয়ে যাওয়া হয়। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়া ছিল কফিনগুলি। তবে এতদিন পর্যন্ত সেই দেহ গুলো কোথায় রাখা ছিল, তা ইরানের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি। এদিন খামেনেইয়ের পাশে তাঁর একরত্তি নাতনির কফিন দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বহু সাধারণ মানুষ। ওঠে আমেরিকার বিরুদ্ধে 'বদলা চাই, বিচার চাই' স্লোগান।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার থেকে ছ'দিন ধরে ইরান এবং ইরাকের বিভিন্ন শহরে খামেনেই এবং তাঁর আত্মীয়দের শেষবিদায় জানাবেন মানুষজন। সোমবার পর্যন্ত তাঁদের দেহ রাখা থাকবে তেহরানে। এরপর মঙ্গলবার কোমে নিয়ে যাওয়া হবে কফিনগুলি।

বুধবার ইরাকের বিভিন্ন শহরে ঘোরানো হবে। শেষে বৃহস্পতিবার খামেনেইয়ের নিজের শহর, উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশাদে হবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। সমাধিস্থ করা হবে খামেনেই ও তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের। আর এই গোটা প্রক্রিয়ায় যেন কোনভাবেই শত্রু দেশের কু-নজর না পড়ে তার দিকে বিশেষ নজর রাখবে প্রশাসন ও সেনা।

ইতিমধ্যেই খামেনেইয়ের জানাজায় যোগ দিতে ভারত থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল অবসরপ্রাপ্ত লেফ্‌টেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন গিয়েছেন। এছাড়াও উপস্থিত হয়েছেন তুর্কমেনিস্তান, রাশিয়া, ইরাক, আর্মেনিয়ার প্রতিনিধিরা। গিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। রয়েছে বাংলাদেশ, ওমান, উজবেকিস্তান, আজারবাইজান, বেলারুস, কিরঘিস্তান-সহ বহু দেশের প্রতিনিধিরা। তবে আমেরিকা ও ইজরায়েলের আক্রমণে সমর্থন করা এমন কোনও দেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি ইরান।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় কফিনবন্দি অবস্থায় শায়িত রয়েছেন ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেই। তাঁর ঠিক পাশেই রাখা হয়েছে অপর একটি একরত্তি কফিন। যেখানে শুয়ে আছে জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি। খামেনেইয়ের ১৪ মাসের নাতনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পেন্টাগন হামলার শিকার হতে হয়েছে তাকেও। সেই কফিনের উপর রাখা একটি ছবি। সেই ছবিতে মুখে চুষি দিয়ে নিষ্পাপ নীল চোখে তাকিয়ে আছে জাহরা। যেন সত্যিই তাকিয়ে আছে, দেখছে, অবাক হচ্ছে…

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha