হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পটভূমি: এক বিরল শোকানুষ্ঠানে ভারতের উপস্থিতি
মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ী ও তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর গত ৩ জুলাই তেহরানে শুরু হয় এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এই জানাজায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষ অংশ নিয়েছেন। সাত দিনব্যাপী এই আনুষ্ঠানিকতা ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে চলবে এবং আগামী ৯ জুলাই খামেনেয়ীর নিজ শহর মাশহাদে সমাপ্ত হবে।
এই বিরল শোকানুষ্ঠানে ভারত থেকে একাধিক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। সরকারি পর্যায়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিত্ব করেছেন বিদেশমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা ও বিহারের রাজ্যপাল লে. জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন। পাশাপাশি ইরান সরকারি চ্যানেল এড়িয়ে কংগ্রেস পার্টিকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানায়, যাতে সালমান খুরশিদ দলের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে বিশিষ্ট ধর্মশাস্ত্রবিদ হিসেবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বিশেষ আমন্ত্রণেই তেহরান পৌঁছান মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী।
বৈঠকের বিবরণ ও আলোচ্য বিষয়
জমিয়ত সূত্রে জানা গেছে, এই সৌজন্য বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়:
· মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরান-সহ গোটা অঞ্চলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় করেন উভয় নেতা।
· দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ: আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা কীভাবে ভারতের স্বার্থকে প্রভাবিত করতে পারে, তা বিশ্লেষণ করা হয়।
· আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিবর্তনশীল সমীকরণ: বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্রের মধ্যে সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস এবং তাতে ভারতের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়।
মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী বৈঠকে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি ও জমিয়তের অবস্থান তুলে ধরেন। অন্যদিকে সালমান খুরশিদ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্ব সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে কথা বলেন।
একাধিক সূত্রে খবর
হাওজা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হওয়ার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ড. আব্দুল মাজিদ হাকিম এলাহির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন মাওলানা চৌধুরী। সফরকালে ইরানে সুন্নি সম্প্রদায়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন বলে জমিয়ত সূত্রে জানা গেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মোসল্লায় খামেনেয়ী ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের জানাজা জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ দিল্লিতে ইরানি দূতাবাসে গিয়ে শোক প্রকাশ করে ইরানের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী।
বৈঠকের তাৎপর্য
ইরান সরকারি চ্যানেল এড়িয়ে কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানানোয় এই সফরকে অনেক বিশ্লেষক কূটনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সালমান খুরশিদের অংশগ্রহণ ভারতীয় রাজনীতির একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রতিনিধি ও পশ্চিমবঙ্গের গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী হিসেবে এই সফরে অংশগ্রহণ করে ভারতের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রের সঙ্গেই ইরানের সম্পর্কের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরেছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জমিয়ত সূত্র জানায়, বৈঠকে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় স্তরে সংলাপ অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সাত দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।
আপনার কমেন্ট