রবিবার ৫ জুলাই ২০২৬ - ১৯:৩৭
তেহরানে ঐক্যের সেতুবন্ধন: মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ফোরাম ফর প্রক্সিমিটির মহাসচিবের বৈঠক

ইরান সফররত অবস্থায় তেহরানে ওয়ার্ল্ড ফোরাম ফর প্রক্সিমিটি অফ ইসলামিক স্কুলস অফ থট-এর মহাসচিব ড. হামিদ শাহরিয়ারের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠক করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী। শিয়া-সুন্নিসহ বিভিন্ন ফেরকাভিত্তিক বিভাজনের উর্ধ্বে উঠে মিল্লি ঐক্য প্রতিষ্ঠায় বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে এই সংস্থা। বৈঠকে উভয় নেতা ইসলামি বিশ্বের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সমন্বয়ের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ী (রহ.)-এর জানাজায় অংশগ্রহণ করতে সম্প্রতি তেহরানে পৌঁছান মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী। এই শোকানুষ্ঠানেই ‘ওয়ার্ল্ড ফোরাম ফর প্রক্সিমিটি অফ ইসলামিক স্কুলস অফ থট’-এর সদর দপ্তরেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে এই ফোরাম প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মূল লক্ষ্য—মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করা।

কে এই ড. হামিদ শাহরিয়ার?
ড. হামিদ শাহরিয়ার ইরানের একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ও প্রতিষ্ঠানিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ২০১৯ সাল থেকে এই ফোরামের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ইসলামি কম্পিউটার বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান এবং ইরানের বিচার বিভাগের পরিসংখ্যান ও তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি মালয়েশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে ইসলামি ঐক্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাকফির (অমুসলিমদের প্রতি বৈরিতা) ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন।

বৈঠকের সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়
যদিও বৈঠকের পুরো বিবরণ প্রকাশিত হয়নি, তবে ফোরামের মূল উদ্দেশ্য এবং বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে:

· শিয়া-সুন্নি ঐক্য: বিভিন্ন ফেরকার মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহাবস্থানের পথনির্দেশ।
· বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ: ইসলামি বিশ্বের সামনে বিদ্যমান সংঘাত ও বিভেদ মোকাবিলার কৌশল।
· আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: ভারত-ইরান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ।
· আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও তার সম্ভাব্য প্রভাব।

বৈঠকের তাৎপর্য
মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী শুধু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামার সভাপতি নন, তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার মন্ত্রীও। ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর এই সফর ও বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের এই শোকানুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে—যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জমিয়ত সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় স্তরে সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ধর্মীয় ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই উদ্যোগ আগামী দিনে আরও বেগবান হবে বলে প্রত্যাশা করা যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘ওয়ার্ল্ড ফোরাম ফর প্রক্সিমিটি অফ ইসলামিক স্কুলস অফ থট’ প্রতিবছর তেহরানে ‘আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলন’ আয়োজন করে থাকে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ইসলামি পণ্ডিত ও চিন্তাবিদরা অংশগ্রহণ করেন।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha