হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, মাশহাদ সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মহাসমারোহী বিদায়ের মহাকাব্যের কেন্দ্রবিন্দু হতে; সেই মহাকাব্য যা খোরাসানের সেই সঙ্গীপ্রিয় বন্ধুর সূক্ষ্ম স্বাদ ও কবিত্বপূর্ণ রুচির উপযোগী।
মাশহাদ সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়েছে-শোকের কালো পোশাকে-জাতির পিতা ও উম্মতের অভিভাবকের শোকে; তিনি যিনি বিশ্বের নিপীড়িত ও বঞ্চিতদের পক্ষে উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অত্যাচারী ও বিশ্ব-শোষকদের বিরুদ্ধে ছিলেন ইস্পাতকঠিন ইচ্ছাশক্তির অধিকারী; তিনি যিনি অর্থ, ক্ষমতা ও প্রতারণার এই জগতে ছিলেন নিপীড়িত ও নগ্নপদ মানুষের আশা ও নির্ভরতার কেন্দ্রবিন্দু।
মাশহাদ সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার শহীদ সংগ্রামী সন্তানের দেহ থেকে ক্লান্তির ধূলো ঝেড়ে ফেলতে এবং তাকে চিরশান্তির নিবাসে পৌঁছে দিতে।
মাশহাদ বক্ষে হাত রেখে, সম্পূর্ণ সম্মানে দাঁড়িয়েছে সেই মানুষটির প্রতি, যিনি ছিলেন সমসাময়িক ইতিহাসের অপরাধীদের চোখের কাঁটা; তিনি ছিলেন লোভীদের ও বিশ্ব-আধিপত্যবাদীদের চোখের কাঁটা, এবং এই পথে তিনি কোনো অপমান মেনে নেননি, সম্মানের সাথে দাঁড়িয়েছেন এবং সম্মানের সঙ্গেই শহীদ হয়েছেন।
মাশহাদ সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই মানুষটির প্রতি সম্মান জানাতে, যিনি তাঁর শহীদ পূর্বপুরুষ হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর চৌদ্দশ বছর পর আবারও চিৎকার করে বলেছেন, "আমার মতো কেউ ইয়াজিদের সাথে বাই'আত করে না"-এবং এভাবেই তিনি "হায়হাতু মিন্না যিল্লাহ" (অপমান আমাদের থেকে দূর) এই স্লোগানকে নিজের রক্তিম শিরায় বাস্তবায়িত করেছেন।
মাশহাদ দাঁড়িয়েছে বিশ্বকে দেখাতে যে, সেই প্রজ্ঞাবান বুযুর্গের আদর্শের প্রতি সমর্থনে তারা চিরকাল একহৃদয় ও এককণ্ঠ।
মাশহাদ দাঁড়িয়েছে তার সমসাময়িক ইতিহাসে গৌরব ও মহাকাব্যের একটি নতুন অধ্যায় নথিবদ্ধ করতে; ইরান ও বিশ্বের সমসাময়িক ইতিহাসের সেই মহামানবের জানাজা ও কৃতজ্ঞতার মহাকাব্য।
আপনার কমেন্ট