বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২৬ - ১৭:২৮
সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল-উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (রহ.) শাহাদাত স্মরণে শোক আলোচনা সভা

খুলনা, ৮ জুলাই ২০২৬: ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল-উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (রহ.) ও তাঁর শহীদ পরিবারের সদস্যদের স্মরণে খুলনার মসজিদ-এ-ওয়ালী আসরে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, জাতীয় সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল-উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (রহ.) শাহাদাত স্মরণে শোক আলোচনা সভা

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও রাহবার আয়াতুল্লাহিল-উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (রহ.) ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যবৃন্দের
শাহাদাত স্মরণে ৮ই জুলাই ২০২৬ইং তারিখে মসজিদ-এ-ওয়ালী আসর এ রাত ৮টায় শোক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইরান থেকে আগত ড. সাইয়্যেদ আলী যাদেহ মুসাভী, রাহবার দপ্তরে বাংলাদেশ প্রতিনিধি। জনাব সাইয়্যেদ মোস্তফা মুসাভী, সিনিয়র শিক্ষক ও গবেষক, ইসলামিক সেমিনারী, কোম, ইরান| জনাব গাসেম শিবানকিরি, সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়, তেহরান, ইরান| জনাব মাহদি মোলাঈ আরানি, কালচারাল কাউন্সিলর, ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঢাকা।
অনুষ্ঠানটি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া ইমামে জামান পাঠের মাধ্যমে শুরু করা হয়।
শোক অনুষ্ঠানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্সি ভাষা শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজালাল বলেন, ইমাম আলী খোমেনী (রহ.) এর কি অপরাধ ছিল? উনি মজলুমের পক্ষে ছিলেন এটা কি তার অপরাধ| উনাকে বলেছে, আপনি জনগণের চক্ষু আড়ালে চলে যান কিন্তু উনি নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে শাহাদাত বরণ করেন। কারবালায় ইমাম হোসাইন (রা.) সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ এই নীতিটি অটুল রাখার জন্য শাহাদাত বরণ করেন ঠিক তেমনি উনি একই পথে একই পথে এগিয়ে গেলেন| বড় শয়তান আমেরিকা এবং ছোট শয়তান ইসরাইন ইরানে হাসপাতালে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরিহ মানুষকে হত্যা করেছে।
সমাজ সেবক এ.এইচ.এম জালাল উদ্দিন বলেন, ১৯৮০ সালে একটি তাজিয়া মিছিল দেখি সেই থেকে আমি খুলনা ইমামবাড়ীতে যাতায়াত শুরু করি। ফিলিস্তিনে ২০ হাজার শিশুকে ইসরাইল ও আমেরিকা হত্যা করে।
খুলনা জজ কোর্টের পিপি এ্যাডভোকেট ড. জাকির হোসেন বলেন, উনি মজলুম ছিলেন, বিপ্লবী ছিলেন, উনি ইমাম হোসাইন (আ.)-এর পথকে দৃঢ়ভাবে ধরে পৃথিবীকে বুঝিয়ে গেছেন ইসলাম মজলুমের পক্ষে এবং জালিমের বিপক্ষে। খুলনা সকল আইনজীবিরা ইরানের উপর হামলায় নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। মুসলিম বিশ্ব সরকার ইরানের বিরুদ্ধে থাকলেও মুসলিম উম্মাহ ইরানের পক্ষে রয়েছে।
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, আল্লাহ আমাকে জিজ্ঞাসা করেন তুমি ইসলামের জন্য কি করেছো। আমি বলবো, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী (রহ.)কে মনে প্রাণে ভালবাসি। তার শোকসভায় উপস্থিত হয়েছি। সুরা তাগাবুন-এর তাফসীর পড়ে আমি অবাক হয়েছি উনি কত উচ্চমাপের তাফসীরকারক আমার জীবনদশায় দেখিনি।
নিছারিয়া মাদ্রাসা অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী (রহ.)’র মাধ্যমে শিয়া-সুন্নির ঐক্য তৈরি হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, শুরা সদস্য, খুলনা বিএল কলেজের সাবেক অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী তিনি ছিলেন এযুগের শ্রেষ্ঠ শহীদ, শ্রেষ্ঠ রাহবার, শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক। রাহবার শহীদ হয়েছেন বটে কিন্তু ইরানের নৈতিকতা কোন পরিবর্তন হয়নি। তিনি স্বপরিবারে জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, ইসলাম কোন জালিমের পক্ষে মাথা নত করবে না।
মাওলানা ইব্রাহীম ফায়জুল্লাহ, সভাপতি, জামিয়াতে মুহিব্বিনে আহলে বায়েত। তিনি বলেন, কারবালার ময়দানে আজান এজিদের তাবুতে হয়েছে, ইমাম হোসাইনের (রা.) তাবুতে হয়েছে। আমরা কোন দিকে যাব। জালিমের জুলুম যদি আমরা এই প্রজন্মকে তুলে না ধরি তাহলে ইসলাম নিচিহ্ন হয়ে যাবে। আসুন আমরা মজলুমের পক্ষে, জালিমের বিপক্ষে অবস্থান করি।
ইরানী মেহমান জনাব গাসেম শিবানকিরি বলেন, রাহবার কেন শহীদ করা হলো কারণ উনি ছিলেন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিলেন। ইসলামী বিপ্লব তখন আসেনি শাহ আমলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ছিলেন আমাদের রাহবার। ইরাক এবং ইরানের যুদ্ধে তিনি ছিলেন সবার আগে। উনি সাধারন জীবন যাপন করতেন। উনা সাধারন জীবন যাপন করতেন। উনার বাসায় কোন দামী জিনিসপত্র ছিল না। রাহবারের প্রতি এত আক্রোশ কি কারণে? তিনি মজলুমের পক্ষে সবসময় অবস্থান করতেন। আপনাদের রাহবারের প্রতি ভালোবাসা আমি রাহবারের দপ্তরে জানাবো।
জনাব মাহদি মোলাঈ আরানি বলেন, রাহবার অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিত্ব থেকে ভিন্ন ছিলেন। রাহবার যখন শহীদ হন তখন তিনি স্টাডি রুমে ছিলেন। তিনি শুরু ধর্মীয় বই পড়তেন না তিনি বিজ্ঞান, দর্শন ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের বই পড়তেন। উনার পরিবার যারা শাহাদাত বরণ করেন তারা সবাই শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিলেন। আলী খামেনি বলেন, আমার মত ব্যক্তি এজিদের মত ব্যক্তির কাছে বায়াত করবে না।
জনাব সাইয়্যেদ মোস্তফা মুসাভী বলেন, রাহবার সবসময় বলতেন শহীদদের সম্মান জানানো আমাদের সবার জন্য একটি অপরিহার্য দায়িত্ব। কারণ এমন কিছু ক্ষতিকর শক্তি ও যড়যন্ত্র রয়েছে, যারা বিপ্লবের আদর্শ, বিশেষ করে জিহাদ ও শাহাদাতের চেতনাকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে চায়। আমাদের অবশ্যই সেই নীতিগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। শহীদরা হলেন নিঃস্বর্থপরতার প্রতীক।

ড. সাইয়্যেদ আলী যাদেহ মুসাভী বলেন, শহীদ রাহবারের প্রতি ভালোবাসা আমি বুঝতে পেরেছি কেন রাহবার এই অঞ্চলকে কেন এত ভালবাসতেন। বৃষ্টির মধ্যে জানাজাতে শরীক হয়েছে সাধারন জনগণ। তিনি শতাধিক ছাত্রদেরকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে শিক্ষা দিতেন।
সর্বশেষে সংক্ষিপ্ত দোয়ার মাধ্যমে শোক অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়। সংক্ষিপ্ত দোয়া পরিচালনা করেন, খুলনা ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ ইব্রাহীম খলীল রাজাভী।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha