হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতাপপুর (১০ জুলাই ২০২৬):
ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনেয়ীর শাহাদাত (বা স্মরণ) উপলক্ষে প্রতাপপুর দরবার শরিফে এক বিশাল শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সভায় পীরজাদা সৈয়দ রুহুল আমিন আল হোসাইনি তাঁর জীবনাদর্শ, ত্যাগ ও ইসলামের প্রতি অদম্য ভালোবাসার চিত্র তুলে ধরেন এবং মুসলিম উম্মাহকে শেকলমুক্ত করার আহ্বান জানান।
পীরজাদার ভাষণ:
শোকসভার মূল বক্তা পীরজাদা সৈয়দ রুহুল আমিন আল হোসাইনি তাঁর ভাষণের শুরুতেই বলেন, ইসলামের মর্যাদা, মুসলিম জাতির আত্মমর্যাদা এবং অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের যে অনন্য শিক্ষা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী রেখে গেছেন, তা শুধু ইতিহাসের পাতায় নয়-বরং প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ, আজান-ভিত্তিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল পাথেয়।
তিনি বিশ্ব মুসলিমদের বর্তমান দুঃসময়ের প্রসঙ্গ টেনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আমরা যদি আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর পথে চলতে চাই, তবে আমাদেরকে গোত্রীয় ও রাজনৈতিক বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। আজ মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন পারস্পরিক ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা। বিভেদ নয়, বরং পবিত্র কুরআন ও আহলে বাইত (আ.)-এর অমলিন আদর্শ অনুসরণ করেই বিশ্বে প্রকৃত শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
পীরজাদা আরও স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের উচিত পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে ইসলামি মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা এবং মানবজাতির কল্যাণে একযোগে কাজ করা।
তিনি মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার নিপীড়িত মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ করেন যে মুসলিম বিশ্ব যদি খামেনেয়ীর দেখানো ‘তওহীদভিত্তিক প্রতিরোধ’ পথে চলে, তবে কোনও শক্তি তাদের মাথা নিচু করতে পারবে না।
শেষ পর্যায়ের দোয়া ও মোনাজাত:
বার্তার শেষ পর্যায়ে প্রতাপপুর দরবার শরিফের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালিত হয়। পীরজাদা রুহুল আমিন আল হোসাইনি নিজে হাত তুলে প্রার্থনা করেন-“হে আল্লাহ, তুমি আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর নেক আমল কবুল কর, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান কর এবং তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ বাস্তবায়নের তাওফিক আমাদের দান কর। সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে তুমি ঐক্য, শান্তি ও সৎপথে (হেদায়েত) পরিচালিত কর।”
উপস্থিত সকলে ‘আমিন’ বলে এই দোয়ার সমর্থনে নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সমাপ্তি বার্তা:
দীর্ঘ এই শোকসভার সমাপ্তি ঘটে মাগরিবের নামাজের মাধ্যমে। উপস্থিত সাধারণ মানুষরা জানান, এই সভা তাদেরকে খামেনেয়ীর জীবনাদর্শ নিয়ে নতুন করে পড়াশোনা ও গবেষণার প্রেরণা দিয়েছে। পীরজাদা সৈয়দ রুহুল আমিন আল হোসাইনি শেষবারের মতো উপস্থিত সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের আন্দোলন হবে আত্মশুদ্ধির, আর লক্ষ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি। সেটাই হবে আসল শ্রদ্ধা-যা আমরা আমাদের নেতাদের কাছে দিতে পারি।
আপনার কমেন্ট