রবিবার ১২ জুলাই ২০২৬ - ২০:৫০
‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধের’ শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি

ইরানের হাওজা ইলমিয়ার ‘বালাগে মুবীন’ সমন্বিত যুদ্ধ সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক বার্তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধের’ শহীদদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণের নির্দেশ একটি ‘ঐশী দায়িত্ব’, যা কোনো আপস বা সমঝোতার বিষয় নয়। একই সঙ্গে তারা জনসমাগম অব্যাহত রাখা, প্রচারমূলক কার্যক্রম জোরদার করা এবং অপরাধীদের জন্য নিরাপত্তাহীন পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি:  ‘বালাগে মুবীন’ সমন্বিত যুদ্ধ সদর দপ্তর তাদের ৩৪ নম্বর বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরে।

বিবৃতির শুরুতে পবিত্র কুরআনের সূরা আশ-শূরার ৪১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করা হয়— “যে ব্যক্তি তার ওপর সংঘটিত জুলুমের প্রতিশোধ নেয়, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।” (সূরা আশ-শূরা: ৪১)

এরপর বিবৃতিতে বলা হয়, সর্বোচ্চ নেতার ঘোষণার আলোকে ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধের’ সব শহীদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ একটি ঐশী দায়িত্ব।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লাখো মানুষের শোকযাত্রায় অংশগ্রহণ এবং ‘প্রতিশোধ’ স্লোগানকে জনগণের জাতীয় ও আদর্শিক আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ, আহলুল বাইত (আ.)-এর অনুসারী, ধর্মীয় প্রচারক এবং জিহাদ ও তাবলিগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের উদ্দেশে কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মূল্যায়ন
বিবৃতিতে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—
• সাম্প্রতিক গণসমাবেশ ও শোকযাত্রাকে প্রতিশোধের দাবির প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
• অতীতের বিভিন্ন সমঝোতা ও চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষ সেগুলোকে নিজেদের শক্তি পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং কখনোই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।
• পশ্চিমা দেশ ও তাদের মিত্রদের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে শত্রুতামূলক উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ প্রয়োজন।
• ধর্মীয় প্রচারক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তাঁরা জনগণের মধ্যে আশুরার চেতনা জাগ্রত করা, প্রতিশোধের দাবিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা, অপরাধীদের মধ্যে কৌশলগত ভীতি সৃষ্টি এবং নিজেদের ভাষ্য অনুযায়ী পশ্চিমাপন্থী ও বিরোধী গোষ্ঠীর অবস্থানের সমালোচনা অব্যাহত রাখেন।

প্রস্তাবিত করণীয়
বিবৃতিতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের জন্য কয়েকটি করণীয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
• জনসমাগম ও বিপ্লবী কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
• কূটনীতি সম্পর্কে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করা এবং প্রতিশোধের দাবিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
• বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ অব্যাহত রাখা।
• সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে সক্রিয় প্রচারণার মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া জনগণের অঙ্গীকার এবং সর্বোচ্চ নেতার ঘোষণার মধ্যে একটি অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

বিবৃতির সমাপ্তিতে কারবালার প্রতি ইঙ্গিত করে একটি স্লোগান উদ্ধৃত করা হয়েছে— “যার কারবালায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে—সে এগিয়ে আসুক।”

— বালাগে মুবীন সমন্বিত যুদ্ধ সদর দপ্তর, হাওজা ইলমিয়া

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha