মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২৬ - ১৫:১৮
সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে ১৫ বছর আগে হরমুজ প্রণালি বন্ধের সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছিল

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ও সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ ইয়াহইয়া সাফাভি বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (রহ.)’র সরাসরি নির্দেশে ২০১১ সালে (১৩৯০ হিজরি শামসি) হরমুজ প্রণালি বন্ধের একটি সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছিল।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) প্রযোজিত টেলিভিশন প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘আখারিন দিদার’ (শেষ সাক্ষাৎ)-এর এক পর্বে মেজর জেনারেল সাফাভি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

জেনারেল সাফাভি বলেন, “২০১১ সালে সর্বোচ্চ নেতা আমাকে ডেকে বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধের একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করা সম্ভব কি না। আমি জানতে চাই, এ কাজের জন্য কত সময় দেওয়া হবে। তিনি তিন মাস সময় নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু নৌবাহিনীর তৎকালীন কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ এবং জেনারেল হোসেইন সালামির সহযোগিতায় আমরা মাত্র এক মাসের মধ্যেই পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত করি।”

তিনি জানান, ১০ থেকে ১৫ পৃষ্ঠার ওই পরিকল্পনাটি সর্বোচ্চ নেতার কাছে উপস্থাপনের পর তা সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এবং প্রয়াত ড. পিরজাদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে সাফাভি বলেন, “আজ হরমুজ প্রণালিতে যা ঘটছে, তা ১৫ বছর আগে প্রণীত সেই পরিকল্পনারই ধারাবাহিকতার অংশ। এটি সর্বোচ্চ নেতার দূরদর্শিতা ও কৌশলগত প্রজ্ঞার পরিচায়ক। তিনি প্রায় দেড় দশক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন যে, একসময় হরমুজ প্রণালিকে জাতীয় শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হতে পারে।”

আইআরজিসির সাংগঠনিক বিকাশ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাহিনীর প্রজন্ম বদলেছে, সামরিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে এবং যুদ্ধক্ষেত্র পবিত্র প্রতিরক্ষার (ইরান-ইরাক যুদ্ধ) ট্রেঞ্চ থেকে বিস্তৃত হয়ে দূর সমুদ্র ও আঞ্চলিক আকাশসীমা পর্যন্ত পৌঁছেছে। কিন্তু দায়িত্ববোধ, আদর্শ ও পারস্পরিক আস্থার যে অদৃশ্য বন্ধন আইআরজিসিকে সর্বোচ্চ নেতার নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে, তা কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। বরং নানা কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে এবং বাহিনীর অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, এসব বক্তব্য ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কেন্দ্রীয় গণমাধ্যম ইউনিট প্রযোজিত প্রামাণ্যচিত্র ‘আখারিন দিদার’ (শেষ সাক্ষাৎ)-এর একটি অংশে প্রকাশ করা হয়েছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha