হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, তুর্কি সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মুজাহিদ গুলতেকিন তাঁর লেখায় ইরানের শহীদ নেতার জানাজায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ও তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেন, এই জনসমুদ্র কেবল একটি জানাজা নয়, বরং এটি বিশ্বকে একটি নতুন সভ্যতার দৃষ্টান্ত দিয়েছে।
মূল বক্তব্য:
· ইরানের শক্তি অস্ত্রে নয়, ইচ্ছায়: ইরানকে টিকিয়ে রেখেছে ব্যালিস্টিক মিসাইল বা সেনাবাহিনী নয়, বরং অত্যাচারের সামনে মাথানত না করার অদম্য ইচ্ছাশক্তি। এই ইচ্ছাই আসলে সেই মিসাইলও তৈরি করেছে।
· দুটি ভিন্ন ভাষা: আন্তর্জাতিক রাজনীতির ‘বাস্তববাদী’ ভাষা কথা বলে ক্ষমতা, অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার মাধ্যমে। কিন্তু ‘প্রতিরোধের ভাষা’ কথা বলে ন্যায়, ইজ্জত, ধৈর্য ও শাহাদাতের ভাষায়। প্রতিরোধ জিজ্ঞাসা করে— "আমরা কি ন্যায়পথে আছি?" আত্মসমর্পণ কি কখনো বৈধ?
· পাশ্চাত্যের অন্ধত্ব: ট্রাম্প ইরানকে ‘পাগল’ বলেছেন, কারণ তারা এই ‘প্রতিরোধের ভাষা’ বুঝতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের আসল ভয় হলো— পৃথিবীর অন্য দেশগুলো যেন এই ভাষা শিখে না ফেলে। ক্রীতদাস যতক্ষণ প্রভুর ভাষায় কথা বলে, ততক্ষণ সে নিজের শিকল চিনতে পারে না।
· ইরানি নাগরিকের বাণী: লেখক এক ইরানি নাগরিকের উক্তি তুলে ধরেন— "আমরা সবচেয়ে বড় ক্ষতি (নেতা হারানো) সহ্য করেছি। ফার্সি প্রবাদ বলে, 'কালোর বাইরে আর কোনো রং নেই' (এর চেয়ে খারাপ কিছু আর নেই)। তাই আমাদের ভয় নেই। আমেরিকা বা চীন নয়, আমরাই এই অঞ্চলের নিয়ম নির্ধারণ করব।"
উপসংহার: ইরান শুধু যুদ্ধ করছে না, বরং বিশ্বকে শেখাচ্ছে যে প্রতিরোধ সম্ভব, এবং ‘অন্য একটি বিশ্ব’ গড়ে তোলা সম্ভব—যদি মানুষ এই অন্য ভাষাটি বুঝতে শেখে।
আপনার কমেন্ট