হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আবদুল হুসাইন দস্তগাইব (রহ.) তাঁর এক বক্তব্যে বলেন, অজ্ঞতাই মিথ্যা মাহদাভিয়াতের বা মাহদিবাদ প্রভাব বিস্তারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
তিনি বলেন, প্রত্যেক মুসলমানের ওপর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উত্তরসূরি বারো ইমামকে যথাযথভাবে চেনা ও তাঁদের সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য। তাঁদের নাম, বৈশিষ্ট্য, ইমামত ও বিলায়াত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। এ ধারার প্রথম ইমাম হলেন আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.) এবং সর্বশেষ ইমাম হলেন হযরত ইমাম মাহদী (আ.ফা.)।
তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইমামদের যথার্থভাবে চিনবে, সে কখনো অতীতে কিংবা ভবিষ্যতে আবির্ভূত হওয়া মিথ্যা মাহদী দাবিদারদের ভিত্তিহীন প্রচারণায় বিভ্রান্ত হবে না। কারণ, ইমামতের মর্যাদা অত্যন্ত মহান ও অতুলনীয়।
শহীদ দস্তগাইব (রহ.) উল্লেখ করেন, 'মুনতাকিমে হাকিকি' গ্রন্থে ইতিহাসের প্রায় ১৫০ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে, যারা নিজেদের মাহদী বলে দাবি করেছিল। তাদের মধ্যে আলী মুহাম্মদ বাব শিরাজী, গোলাম আহমদ কাদিয়ানিসহ আরও অনেকে ছিল। সময়ের সঙ্গে তাদের ভ্রান্ত দাবি উদ্ঘাটিত হয়েছে এবং তারা ইতিহাসের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব ভণ্ড দাবিদার মানুষের অজ্ঞতাকেই পুঁজি করে। যখন মুসলমানরা নিজেদের দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা ও আকিদা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করে না, তখন তারা সহজেই ভিত্তিহীন দাবি ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার শিকার হয়।
তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে, সর্বশেষ ইমাম হযরত মাহদী (আ.ফা.) কোনো নতুন ধর্ম বা শরিয়ত নিয়ে আসবেন না।
তিনি বলেন, আজ যদি ইমাম মাহদী (আ.ফা.) আবির্ভূত হন, তবে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও বিধানে কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। বর্তমান কুরআনই তাঁর কুরআন। বর্তমান শরিয়তই তাঁর শরিয়ত। নামাজ, রোজা, যাকাত, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ এবং তাকওয়া—এসবই ইসলামের চিরন্তন বিধান হিসেবে বহাল থাকবে।
তবে তাঁর আবির্ভাবের পর তিনি ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও সত্যকে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন, মানুষের অন্তরকে ঈমানের আলোয় উদ্ভাসিত করবেন, ঈমানকে সুদৃঢ় করবেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত ইসলামী বিধান পুনরুজ্জীবিত করবেন এবং আল্লাহর বিধান ও ন্যায়বিচার সমাজে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা করবেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি মহানবী (সা.)-এর একটি প্রসিদ্ধ হাদিস উদ্ধৃত করেন—
حلالُ محمدٍ حلالٌ إلى يوم القيامة، وحرامُ محمدٍ حرامٌ إلى يوم القيامة.
মুহাম্মদ (সা.) যা হালাল ঘোষণা করেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত হালাল থাকবে; আর যা হারাম ঘোষণা করেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত হারামই থাকবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মিথ্যা দাবিদাররা মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নেয়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা, বিশুদ্ধ আকিদা সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ে সর্বদা সজাগ থাকা।
আপনার কমেন্ট