শুক্রবার ১৭ জুলাই ২০২৬ - ০৯:১৯
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরাশক্তির মর্যাদাকে যেভাবে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে ইরান

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়।

প্রথম আলোর এ খবর নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু কথা:
ইসলামের প্রাণকেন্দ্র বলে বিখ্যাত ভূখণ্ড ও দেশটির নাম সৌদী আরব নয় বরং এর প্রকৃত নাম হচ্ছে হিজায ও শিবহু জাযীরাতিল আরব (হিজায ও আরব উপদ্বীপ)।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইসলামের ১ নং দুশমন জঘন্য সাম্রাজ্যবাদী উপনিবেশবাদী খ্রিষ্টান নাসরানী পরাশক্তি যুরা অর্থাৎ ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ মদদ, সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতায় ওয়াহহাবী মতাবলম্বী সৌদী রাজবংশ (আল-ই স'ঊদ) সমগ্র হিজায ও আরব উপদ্বীপ জবর দখল করে নেয় এবং এ ভূখণ্ডের ভৌগলিক, ঐতিহাসিক, ঐতিহ্যবাহী, জাতীয় ও ইসলামী নাম পরিবর্তন করে জবর দখলকারী ক্ষমতাসীন গোত্র ও রাজবংশের নামে এই পবিত্র ভূখণ্ডের নামকরণ করা হয় আল-মামলিকাতুল আরাবীয়াতুস স'ঊদীয়াহ্(المملكة العربية السعودية) বা সৌদী আরব।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরাশক্তির মর্যাদাকে যেভাবে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে ইরান

গোত্র তান্ত্রিক সৌদী রাজবংশকে ক্ষমতায় বসিয়ে প্রথমে নাসরানী (বিধর্মী খ্রিষ্টান) যুরা (যুক্তরাজ্য বা ব্রিটেন) ইসলামের সূতিকাগার ও প্রাণকেন্দ্র হিজায ও আরব উপদ্বীপের ওপর রাজনৈতিক, সামরিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তামূলক কর্তৃত্ব, আধিপত্য ও প্রভুত্ব বিস্তার করে যা [[ মহান আল্লাহ কখনোই মুমিনদের ওপর কাফিরদের কর্তৃত্ব,আধিপত্য ও প্রভুত্বের (বৈধতার) কোনো পথ দেন না (অর্থাৎ কখনোই মহান আল্লাহ মুসলমানদের ওপর কাফির বিধর্মীদের কর্তৃত্ব, প্রভুত্ব ও আধিপত্য স্থাপনের বৈধতার বিধান প্রণয়ন করেন না)। ولن يجعل الله للكافرين على المؤمنين سبيلاً]]---পবিত্র কুরআনের সূরা-ই নিসার ১৪১ নং আয়াত এবং 'আরব উপদ্বীপ থেকে বিধর্মীদের বহিস্কার করা' সংক্রান্ত হযরত রাসূলুল্লাহর (সা) আদেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং হারাম (অবৈধ)।

((তাই মুসলমানদের যে কোনো দেশ ও ভূখণ্ডের ওপর যে কোনো বিধর্মী শক্তি ও জাতির আধিপত্য,শাসন কর্তৃত্ব ও প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে সকল মুসলিম উম্মাহর ওপর ওয়াজিব ও ফরয দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে দখলদার বিধর্মীদের হাত থেকে ঐ ভূখণ্ড ও মুসলিম জনপদকে মুক্তি ও উদ্ধারের জন্য জিহাদ করা এবং বিধর্মীদের দখলকৃত উক্ত ভূখণ্ডের মুসলিম বাসিন্দাদেরও উচিত বরং ওয়াজিব ও ফরয হচ্ছে বিজেতা বিধর্মীদের আধিপত্য ও শাসন কর্তৃত্ব কোনো ভাবেই মেনে না নেওয়া এবং নিজেদের মুক্ত ও স্বাধীন করার জন্য জিহাদ করা।

অতএব, হিজায ও আরব উপদ্বীপ (সৌদী আরব) এবং অন্য সকল আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রের জনগণের উচিত বরং ওয়াজিব ও ফরয দায়িত্ব হচ্ছে সকল মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল, দেশ বিশেষ করে হিজায ও আরব উপদ্বীপ, ফিলিস্তীন (ইসরাইল),রাজ শাসিত তেলসমৃদ্ধ পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশ সমূহ থেকে বিধর্মী নাসারা (খ্রিষ্টান) ইয়াহূদীদের আধিপত্য, কর্তৃত্ব ও প্রভুত্ব এবং সামরিক ঘাঁটি সমূহ ধ্বংস করা।))

আর পরবর্তীতে (২য় বিশ্বযুদ্ধের পর হতে) ব্রিটেনের স্থান দখল করে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) পুরো হিজায ও আরব উপদ্বীপ (সৌদী আরব) এবং অন্য সকল পারস্য উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক আরব দেশসমূহের ওপর কর্তৃত্ব, প্রভুত্ব ও আধিপত্য বজায় রেখে এ সব দেশের তেল,খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন করছে। 

ইসলামী প্রজাতন্ত্রী বিপ্লবী ইরান ইসলামের ১নং এবং সবচেয়ে বড়,ভয়ঙ্কর ও জঘন্য শত্রু মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও ইতরাইলের (ইসরাইল) বিরুদ্ধে গত বছর (২০২৫ সাল) থেকে এ পর্যন্ত (জুলাই ২০২৬) যুদ্ধ ও জিহাদ রত। (আর এ জিহাদ আসলে ইসলামী শরিয়তের নির্দেশিত আত্মরক্ষা ও প্রতিরক্ষামূলক ওয়াজিব ফরয জিহাদ)।এ বছর (২০২৬) রমযানের যুদ্ধের (৪০ দিনের যুদ্ধে) এক পর্যায়ে সৌদী আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরান মাত্র ২০,০০০ ডলারের ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়ে রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ৭০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়ো জাহাজ ধ্বংস করে যা আধুনিক সামরিক যুদ্ধ ও রণকৌশলের ইতিহাসে এক অতি অভিনব ও বিস্ময়কর বিষয় ও ঘটনা।

এখন প্রশ্ন:ইসলামের ১ নং দুশমনের বিমান বাহিনী তথা সামরিক বাহিনী কিভাবে সৌদী আরবে (হিজায ও আরব উপদ্বীপে) এবং অন্য সকল আরব ও মুসলিম দেশগুলোয় সামরিক ঘাঁটি গেড়ে মুসলিম ইসলামী দেশ ও রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে হামলা ও আগ্রাসন চালাচ্ছে এবং যুদ্ধ করছে?!! এ সব আরব ও মুসলিম দেশের সরকার,জনগণ ও আলেম সমাজের কি প্রকৃত ঈমান আছে?!!!কোন্ মুখে তারা ঈমান ও মুসলমানিত্বের দাবি করে?!!

অতএব,পবিত্র কুরআন ও হযরত রাসূলুল্লাহর (সা) পবিত্র সুন্নাহ মোতাবেক কে প্রকৃত মুসলমান ইরান নাকি তথাকথিত আরব ও মুসলিম দেশগুলো? আপনারাই বিচার করুন।

ইসলামী চিন্তাবিদ গবেষক ও লেখক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha