হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, ন্যাটো জোট এবং কিছু আরব রাষ্ট্রের জোট, অন্যদিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও তার জনগণ-যারা অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নিজেদের ঈমান, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল রয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দ্বন্দ্ব কেবল ভূ-রাজনৈতিক নয়; বরং এটি মূল্যবোধ, স্বাধীনচেতা জাতীয়তাবাদ ও আগ্রাসী পরাশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সংগ্রাম।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও জনগণ বারবার ঘোষণা দিয়েছেন যে তারা কোনো অত্যাচারী শক্তির কাছে মাথানত করবেন না। সম্প্রতি এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা এই অপরাধীদের এবং শয়তানের সহযোগীদের সাথে যুদ্ধরত, এবং কোনো অবস্থাতেই শান্তি চুক্তিতে রাজি হব না যা আমাদের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে।
ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা তাঁদের বক্তব্যে এই প্রতিরোধকে ঐতিহাসিক দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁরা মনে করেন, এই জাতি ইতিহাসের সঠিক পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভাষ্যে বলা হয়,
নিঃসন্দেহে এই মহান জাতি পরকালে আল্লাহর দরবারে ও রাসূলের (সা.) উপস্থিতিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। ইতিহাসই বিচার করবে এবং আগামী প্রজন্ম গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে যে তাদের পিতা-মাতা বিশ্বের অপরাধীদের কাছে মাথা নত করেননি।
ইরানের অভ্যন্তরীণ মহল থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, তারা সকল প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দ্বন্দ্ব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তবে ইরানের জনসমর্থন ও আদর্শিক দৃঢ়তাই তাদের প্রধান শক্তি।
পাশাপাশি, আরব অঞ্চলের কিছু দেশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, ইরান মনে করছে তাদের বিরুদ্ধে যে জোট গঠিত হয়েছে তা কৃত্রিম এবং টেকসই নয়।
ইরানের গণমাধ্যমগুলো জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের এই ধারাকে সামনে রেখে জনগণকে আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইরানে ব্যাপক জনসমাগম ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে, যা স্পষ্ট করে দেয় যে তারা কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।
আপনার কমেন্ট