সানানদাজে হাওজা নিউজ এজেন্সি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামোস্তা মুহাম্মাদ আমিন রাস্তি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, আলোচনার সূচনা এবং যুদ্ধবিরতির কথা ওঠার প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র এই সুযোগকে নিজেদের শক্তি পুনর্গঠন এবং দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার মাধ্যমে পুনরায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর হামলার প্রস্তুতির জন্য ব্যবহার করবে।
সানানদাজ জেলার ইফতা পরিষদের এই সদস্য বলেন, দ্ব্যর্থবোধক ও মিথ্যা বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা কোনো প্রস্তাব বা সমঝোতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। বরং অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও গণহত্যাই তাদের নীতির অংশ।
সানানদাজের অস্থায়ী জুমার ইমাম আরও বলেন, দুঃখজনকভাবে আজ যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হামলায় অংশ নিয়েছে। তাঁর দাবি, এসব দেশ বন্ধু-শত্রু চেনার ক্ষেত্রে দূরদর্শিতার অভাব দেখিয়ে নিজেদের ভূখণ্ড মুসলিমদের প্রধান শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে এবং এর পরিণতি তাদেরকেই একদিন ভোগ করতে হবে।
এই সুন্নি আলেম বলেন, গত এক সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী আবাসিক এলাকা, শহর এবং যোগাযোগপথে বহু হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বহু ইরানি নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। অথচ এসব ঘটনার পরও জাতিসংঘ নীরব রয়েছে। তাঁর মতে, এই নীরবতা যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ অব্যাহত রাখার এক ধরনের সবুজ সংকেত।
মামোস্তা রাস্তি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে এবং তারা হতাশ হয়ে পড়ছে। তাঁর দাবি, এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারবে না; বরং তাদের ইতিহাসে এটি একটি বড় পরাজয় হিসেবেই লিপিবদ্ধ হবে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর বক্তব্য বিশেষভাবে ওইসব আঞ্চলিক দেশের উদ্দেশে, যারা স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম নয় এবং বর্তমানে প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান, এমনকি সামরিক হস্তক্ষেপও করছে।
সানানদাজের ইফতা পরিষদের এই সদস্য শেষ পর্যন্ত দাবি করেন, এই অসম মোকাবিলায় চূড়ান্ত বিজয় ইরানেরই হবে। আর এই সংঘাতে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উপসাগরীয় অঞ্চলের সেই দেশগুলো, যারা নিজেদের দুর্বলতা আড়াল করতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
আপনার কমেন্ট