হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর ফরিদউদ্দীন ফরিদ আসর, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে ধারাবাহিক ও কার্যকর যোগাযোগের লক্ষ্যে এবং ভারতের বোহরা আলাভি সম্প্রদায়ের প্রধান ও দাঈ-ই-মুতলাক হাতেম জাকিউদ্দীনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে বারোদা শহর সফর করেন। তিনি সেখানে বোহরা সম্প্রদায়ের উপাসনালয় পরিদর্শন করেন এবং তাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করেন।
হাতেম জাকিউদ্দীন ইরানের জনগণ ও সরকারের প্রতি সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করে বলেন:
আমরা গভীর মনোযোগ ও উদ্বেগের সঙ্গে অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং ইরানের জনগণের সাহসী প্রতিরোধ পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের বিশ্বাস, এই সংঘাতের চূড়ান্ত বিজয় ইসলামী ইরানেরই হবে এবং আজকের ইরান বিশ্বে ইসলামী উম্মাহ ও শিয়া সম্প্রদায়ের গৌরবের উৎস।
তিনি আরও ভারতে ইসমাঈলি আলাভি দাঈদের ইতিহাস এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরে বলেন: আমাদের ও আপনাদের বিশ্বাসের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। আমাদের সম্প্রদায় সম্পর্কে যে অস্পষ্টতা ও প্রশ্ন রয়েছে, সেগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা ধর্মীয় ও একাডেমিক সংলাপে আগ্রহী।
ভারতে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম হাকিম ইলাহী দ্বাদশী শিয়া (ইসনা আশারিয়া) ও ইসমাঈলি শিয়াদের মধ্যে বিভিন্ন অভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন: আমরা যত বেশি পারস্পরিক সংলাপ করব, তত বেশি একে অপরকে জানব এবং মতপার্থক্যও তত কমে আসবে।
তিনি আরও দুই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক সফর বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় কমিটিতে অংশগ্রহণের জন্য ইরান সফরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ভারতে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর ফরিদ আসর বলেন: ইরানের শিয়াদের সঙ্গে ভারতের বোহরা সম্প্রদায়ের সম্পর্ক শুধু ধর্মীয় নৈকট্যের ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং এর শিকড় গভীর সভ্যতাগত বন্ধনের মধ্যে নিহিত।
তিনি ইরানের জনগণ ও ভারতের গুজরাট রাজ্যের মানুষের সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইসমাঈলি ঐতিহ্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ফারসি ভাষায় রচিত হয়েছে। তিনি গুজরাটের বোহরা সম্প্রদায়কে ভারতের পারসি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি ভারতে ইরানি ভাষা ও সংস্কৃতির অন্যতম রক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেন।
সফরের আরেকটি অংশ হিসেবে ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর বোহরা সম্প্রদায়ের জামে মসজিদ, সমাধিস্থল, পবিত্র জনস্থান এবং তাদের গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন। ওই গ্রন্থাগারে বহু মূল্যবান পাণ্ডুলিপি ও লিথোগ্রাফ মুদ্রিত গ্রন্থ সংরক্ষিত রয়েছে। উভয় পক্ষ এসব মূল্যবান গ্রন্থের কিছু অংশ সম্পাদনা, প্রকাশ এবং পুনরুজ্জীবনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আপনার কমেন্ট