শনিবার ১৮ জুলাই ২০২৬ - ২০:৪৮
‘আমেরিকান শত্রুর জন্য ইরানি জাতির কাছে এমন শিক্ষা রয়েছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না’: সর্বোচ্চ নেতা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনেয়ী এক বার্তায় বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা লঙ্ঘনের ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘শহীদে ইরান’-এর বিদায় উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশাল গণসমাবেশ এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে সর্বোচ্চ নেতার একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে:

বার্তায় তিনি বলেন, শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.)’র জানাজায় ঐতিহাসিক গণসমাবেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা লঙ্ঘন করে আবারও প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর কতটা মূল্যহীন ও অবিশ্বস্ত। তিনি বলেন, জবরদস্তি, আধিপত্যবাদ এবং বর্বরতা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও আচরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও তার প্রকৃত ও মুখোশহীন চেহারা উন্মোচন করেছে। তাদের অপরাধ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের এই অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের মিথ্যাচার, অযৌক্তিকতা, অবিশ্বস্ততা এবং অসৎ চরিত্রের আরেকটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, “আজ আমেরিকান শত্রু যদি যুদ্ধের আগুন জ্বালাতে এবং আরও বড় মূল্য ও অপমান বরণ করতে চায়, তবে জেনে রাখা উচিত—ইরানি জাতি এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের কাছে তাদের জন্য এমন শিক্ষা রয়েছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণাঞ্চলের সাহসী যোদ্ধাদের বীরত্ব সেই শিক্ষারই কিছু নমুনা তুলে ধরেছে।”

‘জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব’
বার্তায় তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে মৌলিক বিষয়গুলোর একটি হলো জনগণ ও রাষ্ট্রের সব স্তরে পবিত্র ঐক্য এবং জাতীয় সংহতি বজায় রাখা। ইসলামী বিপ্লবের উচ্চ আদর্শ বাস্তবায়ন, ইরানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিশেষ করে ‘অপরাধী ও ধূর্ত আমেরিকান শত্রুর’ মোকাবিলায় এই ঐক্য অপরিহার্য।

তিনি বলেন, পূর্বেও বহুবার এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তাই বিভেদ, বিবাদ, রাজনৈতিক মতানৈক্য এবং সামাজিক পার্থক্যকে উসকে দেওয়া থেকে বিরত থাকা সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, বিপ্লব, ইমাম ও শহীদ নেতার প্রতি অনুগত ব্যক্তিদের ভূমিকা জাতীয় সংহতি রক্ষায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল।

‘সমালোচনা হোক, তবে তা যেন ঐক্য বিনষ্ট না করে’
সর্বোচ্চ নেতা বলেন, জনগণ যদি তিন অঙ্গের দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থা অব্যাহত রাখে, তবে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, কোনো কোনো ব্যক্তি আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থেকে কিছু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে পারেন। এ ধরনের উদ্বেগ ও দায়িত্ববোধ তিনি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সমালোচনার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।

প্রথমত, কোনো নির্দোষ ব্যক্তির প্রতি যেন অবিচার না হয়; কারণ তা আল্লাহর অনুগ্রহ ও বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, সমালোচনা যেন জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সংহতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। তিনি বলেন, এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে গঠনমূলক সমালোচনা দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, “শত্রু যেন আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের দুর্বলতার লক্ষণ দেখতে না পায়। আমরা যদি ঐক্য ও সংহতি অটুট রাখতে পারি, তবে শত্রু শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হবে।”

খবরটি পূর্ণ করা হবে...

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha