হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও ওমানের চিন্তাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার করা এবং ওমানি মনীষীদের দৃষ্টিতে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত সক্ষমতাগুলো তুলে ধরার লক্ষ্যে ‘মিন মাসকাত ইলা আরদে ফারস’ গ্রন্থের পরিচিতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল-‘ওমানি লেখকদের ভ্রমণকাহিনিতে ইরানের চিত্রের পুনর্মূল্যায়ন’।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওমানি লেখক ও সাংবাদিক ইয়াহইয়া আল-মা‘শারি এবং মাসকাটে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ যুলফিকারি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মাকতাবাতুল কুররা লিল-মা‘রিফা।
এই সাংস্কৃতিক সভায় ওমানের বিভিন্ন লেখক, গবেষক, ভ্রমণসাহিত্য অনুরাগী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। সভায় পারস্পরিকভাবে জাতিগুলোকে বোঝার ক্ষেত্রে ভ্রমণকাহিনির ভূমিকা এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ইয়াহইয়া আল-মা‘শারি তাঁর বই পরিচয় করিয়ে দিয়ে গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন: এই বইটি ইরান সফরের আমার দুটি পৃথক ভ্রমণের ফল। এই সফরগুলো অনুসন্ধানমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং পূর্বনির্ধারিত কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল।
তিনি বলেন, তিনি চেষ্টা করেছেন নিজের পর্যবেক্ষণগুলো অতিরঞ্জন ও পূর্বধারণা ছাড়াই একটি তথ্যভিত্তিক ও অনুভূতিনির্ভর ভ্রমণকাহিনির আকারে আরবি পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করতে, যাতে ইরানের সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে আরও কাছাকাছি একটি চিত্র তুলে ধরা যায়।
এই ওমানি সাংবাদিক তাঁর বইয়ের প্রধান বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে-ইরানিদের সাধারণ সংস্কৃতি, জীবনযাপন পদ্ধতি, রীতিনীতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয়, বাজার, প্রকৃতি, পরিবহন ব্যবস্থা, সামাজিক সম্পর্ক, ইরানের সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং ইরান ও ওমানের সাংস্কৃতিক মিল ও পার্থক্য।
তিনি আরও বলেন: এই গ্রন্থ রচনার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরান সম্পর্কে একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করা এবং ওমানি পাঠকদের ভ্রমণ ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সরাসরি এই দেশকে জানার জন্য উৎসাহিত করা।
ওমানে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ যুলফিকারি লেখকের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ‘মিন মাসকাত ইলা আরদে ফারস’ গ্রন্থটিকে সমকালীন ওমানি ভ্রমণসাহিত্যের একটি মূল্যবান উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক পরিচিতি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন: সরকারি ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোর বিপরীতে, ভ্রমণকাহিনি সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। তাই ভুল ধারণা সংশোধন, মানসিক দূরত্ব কমানো এবং জনকূটনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এর বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান ও ওমানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের সভ্যতাগত, সাংস্কৃতিক ও মানবিক অভিন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সাহিত্যকর্ম দুই দেশের সাংস্কৃতিক অভিজাতদের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে এবং বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংলাপ সম্প্রসারণের পথ তৈরি করতে পারে।
তিনি ওমানি লেখক ও গবেষকদের আহ্বান জানান, তারা যেন ইরান সফর করে দেশটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও সামাজিক সক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন এবং ভ্রমণসাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গবেষণার ক্ষেত্রে আরও বেশি কাজ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীরা সমকালীন আরবি সাহিত্যে ইরানের চিত্র, সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে ভ্রমণসাহিত্যের ভূমিকা, আরব লেখকদের রচনায় ইরানি সংস্কৃতির উপস্থাপন এবং ইরান-ওমানের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও যৌথ প্রকাশনার উন্নয়নের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
আপনার কমেন্ট