মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬ - ১৩:০৯
সৌদিতে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান

সৌদিতে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান

খুবই দুঃখজনক! খুবই লজ্জাকর! খুবই হতাশা ব্যঞ্জক এ খবর!

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার প্রেক্ষিতে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলায় সৌদি আরব লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে—এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার বিশেষ করে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনীর কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেনা গোলাম, ভৃত্য ও চাকর? ইরানের বিরুদ্ধে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও ইতরাইলের (ইসরাইল) অন্যায় আগ্রাসন, হামলা ও যুদ্ধে সৌদী আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আরব আমিরাত ও ওমান নিজেদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে হানাদার মার্কিন সেনাবাহিনীকে।ইরান এ যুদ্ধে মযলূম এবং মাযুরা-ইতরাইলের আগ্রাসন, আক্রমণ ও হামলার শিকার। তাই মাযুরা ও ইতরাইল হচ্ছে যালেম আগ্রাসন কারী ও যুদ্ধাপরাধী। আর এ সব আরব দেশ যালেম মাযুরার সাহায্য কারী এবং ইরানের বিরুদ্ধে কৃত সকল অন্যায় ও অপরাধে মাযুরা ও ইতরাইলের সাথে অংশীদার।যুলুম ও অন্যায়ে  সহায়তা করতে পবিত্র কুরআনে নিষেধ করেছেন মহান আল্লাহ মানব জাতিকে এবং এ কাজ হারাম।হূসী-আনসারুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইয়ামানের ওপর সৌদি আরব সম্প্রতি হামলা চালালে হূসীরাও সৌদিতে পাল্টা জবাব দিলে পাকিস্তান ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছে যে সৌদি আরব হচ্ছে দেশটির নাকি রেড লাইন। তাই সৌদী আরব আক্রান্ত হলে পাকিস্তান নাকি মাযুরা-ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে।কারণ সৌদিদের সাথে দেশটির প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তি আছে।
সৌদী আরব নিঃসন্দেহে যালিম‌ আগ্রাসী রাষ্ট্র। ৮ বছর ধরে (২০১৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত) সৌদীরা মাযুরা ও পশ্চিমাদের প্রত্যক্ষ সাহায্য, সহযোগিতা ও সমর্থন নিয়ে হূসী নিয়ন্ত্রিত ইয়ামানের ওপর বর্বর যুদ্ধ, আগ্রাসন ও হামলা চালিয়ে হাজার হাজার নিরীহ ইয়ামানী নারী, পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করেও পরাজিত ও ব্যর্থ হয়েছে। নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করেছে সৌদীরা ইয়ামানের ওপর। কিন্তু গাযায় ইসরাইলের চাপানো যুদ্ধ, আগ্রাসন, জবরদখল,৭০,০০০-এর অধিক গাযাবাসীকে হত্যা করা সত্ত্বেও একটা গুলিও ছুঁড়ে নি এই সৌদীরা আত্রাইয়ের দিকে। অথচ ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে সৌদী সহ সকল আরব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করছে মাযুরা। আর সেই যালিম সৌদীদের সাহায্য করতে যুদ্ধে জড়ানোর হুমকি দিয়েছে ইরানকে মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) পাচাটা ভৃত্য নির্লজ্জ চশমখোর পাকিস্তান সরকার। যালিম সৌদীদের সাথে যতই চুক্তি টুক্তি করুক না কেন পাকিস্তানের উচিত ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে মযলূমের পক্ষে ও যালিমের বিপক্ষে দাঁড়ানো।আর এটা যদি না করে এ দেশটি তাহলে তা নাপাকিস্থানে পরিণত হবে যালিমের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করার জন্য। পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার মতো শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলো দু:খজনক ভাবে
ন্যায়, সত্য ও মযলূমের পক্ষে না দাঁড়ানোর জন্যই যালিম আগ্রাসী দখলদার মাযুরা, যুরা, ইতরাইল ও পশ্চিমারা (ন্যাটো) ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, সিরিয়া, লেবানন, গাযা ও ইরানের মতো মুসলিম দেশগুলোর ওপর আগ্রাসন, হামলা ও যুদ্ধ করছে এবং মুসলিম বিশ্বের ওপর নিজেদের অবৈধ বেআইনি হারাম আধিপত্য, কর্তৃত্ব ও প্রভুত্ব বজায় রাখতে পারছে। এখন বিশ্বের সকল মুসলিম দেশগুলোকে ঈমানের অগ্নি পরীক্ষা দিতে হবে নতুবা মহান আল্লাহর গযব তাদের ওপর আপতিত হবে এবং পরকালে তাদের মুক্তি অসম্ভব হয়ে যেতে পারে। কুফর, যুলুম, অন্যায়, অবিচার ও অপকর্মের মূর্ত্য প্রতীক মাযুরা ও ইতরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদ ও যুদ্ধ করা  পাকিস্তান সহ সকল মুসলিম দেশের ওপর ফরয ও অবশ্য কর্তব্য। 'মহান আল্লাহ কখনোই মুমিনদের ওপর কাফিরদের কর্তৃত্বের পথ দেন না (অর্থাৎ কখনোই তাদের কর্তৃত্বের বৈধতার বিধান দেন না বা প্রণয়ন করেন না)'।-পবিত্র কুরআনের সূরা -ই নিসার ১৪১ নং আয়াতের আলোকে পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার মতো মুসলিম দেশগুলোর উচিত (ফরয) আরব ও মুসলিম দেশ ও ভূখণ্ডের ওপর কাফির বিধর্মীদের অবৈধ দখলদারিত্ব, আধিপত্য ও কর্তৃত্বের অবসান ঘটানো। কিন্তু নামধারী মুসলিম দেশসমূহ কি দ্বীনী এ দায়িত্ব ও কর্তব্য ঠিকমতো পালন করছে?!!!
(একটা বিষয় প্রণিধানযোগ্য। আর তা হলো যে পাকিস্তানের সরকার থেকে দেশটির জনগণ আলাদা। ইরানের প্রতি পাকিস্তানী জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের জোরালো সমর্থন রয়েছে। মাযুরা-ইতরাইলের আগ্রাসন ও আক্রমণে ইসলামী বিপ্লবের মহান রাহবার আয়াতুল্লাহ আল-উযমা ইমাম আলী খামেনেয়ীর শাহাদাতের খবর শুনে পাকিস্তানী জনগণ তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদে ফেটে পড়ে এবং করাচী ও লাহোরে মাযুরার কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ কালে কনস্যুলেট প্রহরীদের গুলিতে বেশ কিছু প্রতিবাদ ও বিক্ষোভকারী শাহাদাত বরণ করেন।)

ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha