হাওজা নিউজ এজেন্সি: দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা ও গণমাধ্যমের অবিরাম কোলাহলের মধ্যে আমরা অনেকেই আত্মিক প্রশান্তি এবং হৃদয়ের অস্থিরতার প্রতিকার খুঁজে বেড়াই। এ ক্ষেত্রে আল্লাহর জিকির—যা যুগে যুগে আধ্যাত্মিক সাধক ও আল্লাহওয়ালাদের সর্বজনস্বীকৃত উপদেশ—বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদার অধিকারী।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যায়— নিয়মিত জিকির করার পরও কেন অনেক সময় আমাদের চরিত্র, আচরণ ও অন্তর্জগতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখা যায় না?
এই প্রশ্নের উত্তরে উস্তাদ সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ ফাতেমিনিয়া (রহ.) আয়াতুল্লাহুল উযমা মুহাম্মদ তাকী বাহজাত (রহ.)-এর একটি মূল্যবান বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহ বাহজাত (রহ.) এমন এক মহামানব ছিলেন, যার নাম উচ্চারিত হলেই মানুষের মনে আল্লাহভীতি, ইবাদত এবং আধ্যাত্মিকতার কথা জেগে উঠত। আল্লাহর কসম! তাঁর আধ্যাত্মিক মর্যাদা সম্পর্কে এমন অনেক বাস্তবতা রয়েছে, যা আল্লাহভীরু মানুষ সহজে মুখে আনতেও সাহস পান না।
একজন আলেম অশ্রুসজল নয়নে বলেছিলেন— “হে আল্লাহ! যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আমীরুল মুমিনীন আলী (আলাইহিস সালাম)-এর নূরের সামান্য একটি ঝলকও আয়াতুল্লাহ বাহজাত (রহ.)-এর মতো একজন মানুষকে এমন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে, তবে সেই মহান ব্যক্তিত্বদ্বয়ের প্রকৃত মহিমা ও মর্যাদা কত অপরিসীম!”
আয়াতুল্লাহ বাহজাত (রহ.) বলতেন— “জিকির তখনই কবুল হয় এবং ফলপ্রসূ হয়, যখন জিহ্বার সঙ্গে হৃদয়েরও সংযোগ থাকে।”
অতএব, জিকির কেবল মুখে কিছু শব্দ উচ্চারণের নাম নয়। মানুষের জিহ্বা যদি আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকে, অথচ তার হৃদয় ও চিন্তা অন্যত্র বিচরণ করে, তবে সেই জিকির থেকে প্রকৃত আধ্যাত্মিক পরিবর্তন বা কাঙ্ক্ষিত ফল লাভের আশা করা উচিত নয়।
আপনার কমেন্ট