হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, শোকের সুরে বেজে ওঠে কারবালার কাহিনী-প্রতি বছর ইসলামি পঞ্জিকার প্রথম মাস মহররম এলেই কলকাতার বুকে এক ভিন্ন রূপ দেখা যায়।
আজাদারি বা শোকের এই অনুষ্ঠানটি শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তারা হজরত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতের ঘটনা স্মরণ করেন । 'আজাদারি' শব্দটির অর্থ শোক পালন, যা এই দিনগুলোতে বুক চাপড়ে মাতম, মর্সিয়া (শোকগাথা) গান এবং তাজিয়া মিছিলের মাধ্যমে ফুটে ওঠে ।
শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে গোলকোঠি ইমামবাড়া (রবীন্দ্র সরনি) অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
১৮৫২ সালে নির্মিত এই স্থাপনাটি শিয়া মুসলিমদের মজলিস বা সমাবেশের জন্য পরিচিত, যেখানে মহররম মাসব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । করুণার এই দিনগুলোতে কলকাতার রাস্তায় বের হয় বিশাল মিছিল। অযোধ্য পরিবার, মুঘল পরিবার এবং সিবতানাবাদ ইমামবাড়া থেকে প্রথাগত তাজিয়া ও আলমের মিছিল বের হয়, যা শহরের প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে থাকে ।
এই আয়োজনগুলি আয়োজন, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। কলকাতা পুলিশ প্রতি বছর কঠোর নির্দেশিকা জারি করে, যাতে কোনো নতুন মিছিলের অনুমতি না দেওয়া হয় এবং শুধুমাত্র বহু বছর ধরে প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী মিছিলগুলো নির্দিষ্ট শর্তে অনুষ্ঠিত হতে পারে ।
শোকের এই আচার-অনুষ্ঠান কলকাতার বহুসংস্কৃতির চিত্রপটে এক বিশেষ মাত্রা যুক্ত করে, যেখানে ধর্মীয় আবেগ, ঐতিহ্য ও শহুরে জীবনযাত্রা পরস্পর সাযুজ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আপনার কমেন্ট