সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ - ১০:১৮
হিজবুল্লাহ: শত্রুর মানচিত্র লেবাননের প্রতি তাদের লালসার প্রমাণ; সরকারের ছাড় দেওয়ার নীতি দেশকে বড় ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে লেবাননের অধিকৃত দক্ষিণাঞ্চলকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। হিজবুল্লাহ বলেছে, এই মানচিত্র লেবাননের ভূখণ্ড, সম্পদ ও সামর্থ্যের প্রতি ইসরায়েলের লালসার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ওই মানচিত্রের বিষয়ে হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে:

“ইসরায়েলি শত্রুপক্ষ আজ এমন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যাতে লেবাননের অধিকৃত দক্ষিণাঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এটি লেবানন, এর ভূমি, সম্পদ ও সক্ষমতার প্রতি ইসরায়েলের লালসার একটি অকাট্য প্রমাণ। তারা কখনোই এসব দাবি থেকে সরে আসবে না।

লেবানন সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়টিও নতুন কোনো বাস্তবতা নয়; বরং এটি স্পষ্টতই সময়ক্ষেপণ এবং মাটিতে নতুন বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।

লেবানন সরকার ইসরায়েলি শত্রুপক্ষকে একের পর এক ছাড় দেওয়া এবং বিনামূল্যে সুবিধা তুলে দেওয়ার নীতি অব্যাহত রাখার কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় বহন করছে।

তাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে—তারা যেন নিজেদের নীতি পুরোপুরি পুনর্বিবেচনা করে এবং পথ সংশোধন করে। একই সঙ্গে এমন অপমানজনক সরাসরি আলোচনা বন্ধ করতে হবে, যার পেছনে কোনো কার্যকর চাপ বা দর-কষাকষির শক্তি নেই।

এ বিষয়ে সরকারের উচিত অবিলম্বে সব পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া—মন্ত্রিসভা থেকে শুরু করে সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিল পর্যন্ত। এ লক্ষ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জরুরি বৈঠক আহ্বান করা উচিত। এসব পদক্ষেপের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অবিলম্বে অভিযোগ দাখিল করা।

এমনকি সরকার যদি ইসরায়েলের কাছে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে তাদের বিরুদ্ধে আইনি বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়ে থাকে, তবুও এখন লেবাননের প্রতি ইসরায়েলের লালসার বাস্তবতা উপেক্ষা করার আর কোনো অজুহাত নেই।

সব শ্রেণি ও রাজনৈতিক মতের লেবানিজদের উপলব্ধি করা উচিত যে, ছাড় দেওয়ার নীতি এবং অপমানজনক আলোচনার পথে অবিচল থেকে সরকার দেশকে কতটা বড় বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

জাতীয় স্বার্থের দাবি হলো—ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও এর লালসার বিরুদ্ধে লেবাননের সব প্রচেষ্টা ও অবস্থানকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ড ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পূর্ণ অধিকার রক্ষা করা।

একই সঙ্গে এটিও বুঝতে হবে যে, ইসরায়েলের লালসা শুধু দক্ষিণ লেবাননে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাদের লক্ষ্য পুরো লেবানন।”

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha