হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের হাওজায়ে ইলমিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আয়াতুল্লাহ আরাফির সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ বার্তা তুলে ধরা হয়েছে:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
১৭ মোরদাদ (৮ আগস্ট) সেইসব কলমযোদ্ধার সাধনা ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যারা সত্য অনুসন্ধানের পথে “নূন, শপথ কলমের এবং তারা যা লেখে তার” আদর্শ অনুসরণ করেছেন। তাঁরা দায়িত্বশীল কলম, বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গি ও নিরলস উপস্থিতির মাধ্যমে সত্যকে তুলে ধরেন এবং সমাজকে সচেতন ও আলোকিত করার পথে এক মুহূর্তের জন্যও তাঁদের প্রচেষ্টা থামান না।
এ বছর সাংবাদিক দিবস এমন এক সময়ে উপস্থিত হয়েছে, যখন বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ মহান নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা ইমাম সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী, প্রতিরোধ ফ্রন্টের মহান যোদ্ধা এবং সম্মান ও মর্যাদার পথে শাহাদাতবরণকারী শহীদদের হারিয়ে শোকাহত। কিন্তু এসব শাহাদাত কেবল এই পথে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি করেনি তা নয়; বরং তা মুসলিম উম্মাহর শিরায় নতুন রক্ত সঞ্চার করেছে এবং আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার অপরাধের ওপর থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছে।
প্রিয় সাংবাদিকদের উদ্দেশে-জিহাদে তাবয়িনের সৈনিকেরা
আজ শত্রুর নরম যুদ্ধ শুধু একটি গণমাধ্যম যুদ্ধ নয়; এটি মানুষের ইচ্ছাশক্তি দখল এবং তাদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ পরিবর্তনের যুদ্ধও।
আমি আপনাদের আহ্বান জানাই, এই সংগ্রামের ময়দানে ‘পেশাগত নৈতিকতা’ ও ‘দৃষ্টিসম্পন্ন বিশ্লেষণ’-এই দুই অস্ত্র হাতে নিয়ে আপনারা যেন ঘটনাবলির প্রথম সারির বর্ণনাকারী হন।
এই ময়দানে আমাদের প্রধান কৌশল হতে হবে ‘বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে আশাবাদ সৃষ্টি’ এবং ‘সংশোধনের লক্ষ্যে সহানুভূতিশীল সমালোচনা’।
আপনাদের কলম যেন সার্চলাইটের মতো শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অন্ধকারকে ছিন্ন করে এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা শক্তিশালী অথচ মজলুম ফ্রন্টের বাস্তবতাকে বিশ্বের মুক্তচিন্তার অধিকারী, স্বাধীনতাকামী মানুষ এবং সমগ্র মানবজাতির কাছে পৌঁছে দেয়।
আজ হাওজায়ে ইলমিয়ার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন সত্যের সন্ধানী বিশ্বের সঙ্গে ‘বুদ্ধিদীপ্ত যোগাযোগের সেতু’ নির্মাণ করা।
আপনারা সাংবাদিকেরা মহানবী (সা.) ও আহলে বাইত (আ.)-এর জ্ঞান ও শিক্ষা এবং হাওজায়ে ইলমিয়ার অমূল্য ঐতিহ্য তুলে ধরার দূত। ‘হাওজা’ সংবাদ সংস্থা ও হাওযাভিত্তিক গণমাধ্যমগুলোর কাছে প্রত্যাশা হলো-দেশের অন্যান্য গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় করে আধুনিক গণমাধ্যম প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক ভাষার ব্যবহার করে ‘সভ্যতা নির্মাণে সক্ষম হাওযা’ এবং ‘অগ্রগামী ও শীর্ষস্থানীয় হাওজা’-কে তার সব বৈজ্ঞানিক, নৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতাসহ দেশের জনমত ও বিশ্বপরিসরের সামনে তুলে ধরবে।
পরিবর্তনের যুগে হাওজায়ে ইলমিয়া নিজেকে শুধু কিতাব ও শিক্ষাকেন্দ্রের গণ্ডিতে আবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখে না; বরং সমকালীন মানুষের চিন্তাগত ও নৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর উত্তর প্রদানে নিজেদের অগ্রণী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
হাওজাভিত্তিক গণমাধ্যমকে হাওযার আলেম-গবেষকদের কণ্ঠস্বর এবং হাওযার ছাত্র ও শিক্ষকদের বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন হতে হবে-যাঁরা সমাজের সামাজিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক সংকটগুলোর জন্য পবিত্র ইসলাম ও আহলে বাইতের (আ.) আদর্শ থেকে উৎসারিত সমাধান উপস্থাপন করছেন।
হাওজাভিত্তিক গণমাধ্যমকে সমাজের সঙ্গে হাওযায়ে ইলমিয়ার অব্যাহত ও সক্রিয় সম্পৃক্ততার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে হবে। এমনভাবে তা তুলে ধরতে হবে, যাতে সবাই উপলব্ধি করতে পারে যে, হাওজায়ে ইলমিয়ার শিকড় জনগণের মাঝে প্রোথিত এবং মানুষের কষ্ট ও উদ্বেগের সঙ্গে হাওজা একইভাবে সম্পৃক্ত।
আপনাদের কলম এমন একটি হাতিয়ার হওয়া উচিত, যার মাধ্যমে প্রিয় হাওজার ছাত্রদের ‘সহানুভূতিশীল উপস্থিতি’ ও ‘জিহাদি সেবা’-সামাজিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, পরিবর্তনমূলক নানা কর্মসূচি এবং হাওজার বিস্তৃত কর্মকাণ্ড-সমাজের সামনে তুলে ধরা যায়। একই সঙ্গে হাওজার সব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কার্যক্রমও গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।
এভাবেই আহলে বাইতের (আ.) জ্ঞান ও শিক্ষার সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তখন সবাই উপলব্ধি করতে পারবে যে, হাওযা এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা মানুষের সমস্যার সমাধান এবং দ্বীনের পতাকাকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়ে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সক্রিয় রয়েছে।
সাংবাদিক শহীদদের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের সব গণমাধ্যমকর্মী, সংবাদ অঙ্গনের সক্রিয় ব্যক্তিবর্গ এবং বিশেষভাবে ‘হাওজা’ সংবাদ সংস্থার সাংবাদিক ও কর্মীদের সাংবাদিক দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
সত্যকে আলোকিত করা এবং সত্যের বাণীকে সমুন্নত করার পথে আপনাদের উত্তরোত্তর সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি।
আলীরেজা আরাফি
দেশের হাওজায়ে ইলমিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক
আপনার কমেন্ট