সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ - ২২:২১
আহলে বাইতের মর্যাদা ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষার আলোকে এক ঐতিহাসিক আলোচনা

রাসূলুল্লাহ (সা.) শিক্ষা নিতে আসেননি, শিক্ষা দিতেই এসেছিলেন"-সূরা জুমার দ্বিতীয় আয়াতের ব্যাখ্যা, হযরত ইউসুফ (আ.)-এর বিসমিল্লাহ লেখার ঐতিহাসিক ঘটনা এবং আহলে বাইতের মর্যাদা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরলেন মাওলানা আসগার আলী গাইন। বারগাহে সকিনা ঈমাম বাড়িতে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ইউসুফ নবী যখন ১১-১২ বছর বয়সে লিখতে-পড়তে পারতেন, তখন তাঁর সর্দার কেন লিখতে পারবেন না? আহলে বাইতের অনুসারীদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বকচরা, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ - সম্প্রতি বারগাহে সকিনা ঈমাম বাড়িতে (বকচরা, উত্তর ২৪ পরগনা) এক আলোচনা সভায় বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মাওলানা আসগার আলী গাইন সূরা জুমার দ্বিতীয় আয়াতের ব্যাখ্যা ও নবীজীবনের বিভিন্ন ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

আলোচনার শুরুতে মাওলানা আসগার আলী গাইন সূরা আল-জুমআ

, هُوَ الَّذِی بَعَثَ فِی الأمِّیِّینَ رَسُولا مِنْهُمْ یَتْلُو عَلَیْهِمْ آیَاتِهِ وَیُزَکِّیهِمْ وَیُعَلِّمُهُمُ الْکِتَابَ وَالْحِکْمَةَ وَإِنْ کَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِی ضَلالٍ مُبِینٍ ﴿٢﴾

আয়াত নং ২-এর ওপর আলোকপাত করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে: “তিনিই নিরক্ষরদের মধ্যে তাদেরই একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পবিত্র করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে ছিল।” 

বক্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ‘উম্মী’ হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষিত মূর্খ ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি শিক্ষা নিতে আসেননি, বরং শিক্ষা দিতেই এসেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন, যিনি মানুষকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোয় নিয়ে এসেছেন। 

হযরত ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনা ও বিসমিল্লাহর মাহাত্ম্য

আলোচনার এক পর্যায়ে মাওলানা আসগার আলী গাইন হযরত ইউসুফ (আ.)-এর ঐতিহাসিক ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হযরত ইউসুফ (আ.) যখন মাত্র ১১ বা ১২ বছর বয়সে কূপ থেকে উদ্ধার হয়ে মিশরের বাজারে বিক্রির জন্য আনা হয়, তখন তাঁর সৌন্দর্য ও গুণে মুগ্ধ হয়ে ক্রেতারা প্রতিযোগিতা শুরু করে। 

বর্ণনা মতে, অনেক সোনা-দানা দিয়েও কেউ তাকে কিনতে পারছিল না। তখন হযরত ইউসুফ (আ.) কাগজ-কলম আনতে বলেন এবং তাতে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' লিখে রাখতে বলেন। এরপর যখন ঐ কাগজটি তুলা-পাল্লায় রাখা হয়, তখন তা ভারী হয়ে যায়। বক্তা এখানে 'বিসমিল্লাহ'-এর বা-এর নীচের বিন্দুটির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন-এই বিন্দুটি হলো আলী (আ.)-এর প্রতীক, এবং আলী (আ.)-এর আগমনে পাল্লা ভারী হয়ে যায়, অর্থাৎ হযরত ইউসুফ (আ.)-কে ক্রয় করা সম্ভব হয়। 

শিক্ষা ও জ্ঞানের গুরুত্ব

বক্তা প্রশ্ন তোলেন, হযরত ইউসুফ (আ.) যদি ১১-১২ বছর বয়সে লিখতে-পড়তে পারেন, তাহলে যিনি ইউসুফ নবীর সর্দার বা কর্তা, তিনি কেন লিখতে-পড়তে পারবেন না? এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, জ্ঞান ও শিক্ষা নবুয়তের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং সকল নবীই জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন।

আহলে বাইতের অনুসরণ ও জান্নাতের প্রতিশ্রুতি

আলোচনার শেষভাগে মাওলানা আসগার আলী গাইন আহলে বাইতের মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, যারা আহলে বাইতের অনুসরণ করে তারা জান্নাতে যাবে, কারণ জান্নাত আহলে বাইতের জন্য নির্ধারিত। তিনি হাদিস উল্লেখ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে ঘোষণা করেছেন: “আমি তোমাদের মধ্যে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা ধারণ করলে তোমরা কখনও পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার আহলে বাইত।” 

এছাড়া তিনি আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত ঘটনা উল্লেখ করেন, যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি কালো পশমী চাঁদরে হাসান, হুসাইন, ফাতিমা ও আলী (আ.)-কে আশ্রয় দিয়ে বলেন: “হে আহলে বাইত! আল্লাহ তায়ালা তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে চান।” (সূরা আহযাব: ৩৩) 

উপসংহার

আলোচনা সভায় বক্তা কোরআনের আয়াত, হাদিস ও ঐতিহাসিক ঘটনার আলোকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষকের ভূমিকা, হযরত ইউসুফ (আ.)-এর জ্ঞান ও বিসমিল্লাহর মাহাত্ম্য এবং আহলে বাইতের অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। উপস্থিত শ্রোতারা এই আলোচনা থেকে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন এবং আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও অনুসরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বারগাহে সকিনা ঈমাম বাড়ি (বকচরা, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত) এ আয়োজিত এই আলোচনা সভা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও আহলে বাইতের মর্যাদা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha