হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হুগলি ঈমাম বাড়িতে অনুষ্ঠিত জুমার নামাজে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা মহসিন রেজা আব্দী জুমার খুতবায় পবিত্র কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত তুলে ধরে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে হৃদয়স্পর্শী ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। জুমার এই খুতবায় স্থানীয় অসংখ্য মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন এবং ইমাম জুমার বক্তব্য মনোযোগসহকারে শ্রবণ করেন।
খুতবার শুরুতে ইমাম জুমা পবিত্র কুরআনের সূরা জুমার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত তিলাওয়াত করেন:
"يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ"
হে ঈমানদারগণ! যখন জুমার দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ছুটে চলো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করো। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।
ইমাম জুমা তাঁর খুতবায় এই আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা মুমিনদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন যে, জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন প্রতিটি মুসলমানের উচিত সকল পার্থিব কাজকর্ম-বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য-বন্ধ করে দ্রুত আল্লাহর স্মরণে তথা জুমার নামাজের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই নির্দেশ শুধু একটি ধর্মীয় বিধান নয়; বরং এটি মুসলিম উম্মাহর জীবনে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, সময়ের মূল্য এবং আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসের প্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, জুমার নামাজের জন্য আহ্বান করা হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে নামাজে যাওয়াই মুমিনের জন্য অধিক কল্যাণকর। কিন্তু অনেক মানুষ এই কল্যাণকে উপলব্ধি করতে পারে না, কারণ তারা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী লাভের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। অথচ প্রকৃত কল্যাণ রয়েছে আল্লাহর স্মরণে এবং তাঁর নির্দেশ পালনে।
ইমাম জুমা তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, জুমার নামাজ শুধুমাত্র একটি ইবাদত নয়; এটি মুসলিম সমাজের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সংহতি ও সামাজিক বন্ধনের এক অনন্য প্রতীক। সপ্তাহের একদিন সকল মুসলমান একত্রে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আল্লাহর ঘরে উপস্থিত হন, যা সমাজে ভেদাভেদ দূর করে এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে।
তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, জুমার দিনকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। জুমার প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করা, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং সময়মতো মসজিদে উপস্থিত হওয়া সুন্নত। এছাড়াও খুতবা মনোযোগসহকারে শোনা এবং নামাজ আদায়ে কোনো অবহেলা না করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইমাম জুমা আরও বলেন, আজকের এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে, দুনিয়ার কাজকর্ম কখনোই আল্লাহর ইবাদতের প্রতিবন্ধক হওয়া উচিত নয়। বরং দুনিয়ার প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হওয়া উচিত। জুমার নামাজ আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়-আল্লাহর নির্দেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
জুমার খুতবায় ইমাম জুমা মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা যেন জুমার নামাজ যথাযথ গুরুত্বসহকারে আদায় করেন, আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলেন এবং সমাজে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, যদি আমরা আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করি, তাহলে ইহকাল ও পরকালে সফলতা লাভ করতে পারব।
জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা ইমাম জুমার বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন গড়ার প্রতিজ্ঞা করেন। স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে এই খুতবার বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচিত হতে থাকে।
আপনার কমেন্ট