হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, জাপানে ইরানের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা শাহরোজ ফলাহাতপিশে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার বার্ষিকীর সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমভিত্তিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। যুদ্ধের মানবিক দিক, ঐতিহাসিক স্মৃতি ও শান্তির বার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি ইরানের জনগণের প্রতিরোধের বয়ান পুনরায় তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, অভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো এবং যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মানবিক ক্ষয়ক্ষতিকে তুলে ধরা আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে জনকূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলোর মধ্যে পড়ে।
ফলাহাতপিশে আরও বলেন, হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার বার্ষিকী ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহিংস কর্মকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতির মুখে বিভিন্ন জাতির মধ্যে আবেগগত সংযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরির উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করে।
উল্লেখ্য, জাপানে ইরানের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা ইরানের জনগণের প্রতিরোধের অভিজ্ঞতাকে জাপানি সমাজের ঐতিহাসিক স্মৃতির পাশে তুলে ধরে একটি মানবিক ও অনুপ্রেরণামূলক পরিসর তৈরির চেষ্টা করেছেন। এর মাধ্যমে সাম্প্রতিক ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের জাতীয় ভাবমূর্তি উন্নত করা এবং ইরানের প্রতিরোধের বয়ান তুলে ধরাই ছিল লক্ষ্য।
এই গণমাধ্যমভিত্তিক পুনর্নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল জাপানি দর্শকদের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি এবং লক্ষ্যভুক্ত সমাজের নৈতিক সমর্থন ও সংহতি অর্জন। এই পদ্ধতিতে নরম কূটনীতির নীতিগুলো অনুসরণ করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো জাপানি দর্শকদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য উপায়ে উপস্থাপন করা হয়।
এই ধারাবাহিকতায় যুদ্ধের সময় শিশুদের অভিন্ন দুর্ভোগ, মিনাব ও হিরোশিমার নিহতরা, হিরোশিমার পারমাণবিক গম্বুজ, জাপানের কাগজের সারস, মিনাবের প্রজাপতি, শান্তির বার্তা এবং শহীদ মাকান নাসিরির পরিবারের টোকিও ও হিরোশিমা সফর-এসব বিষয়কে ইরানের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্বের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
মিনাব থেকে হিরোশিমা
হিরোশিমা বার্ষিকী উপলক্ষে তৈরি বিশেষ কনটেন্টে মিনাব ও হিরোশিমার নিহতদের ছবি পাশাপাশি ব্যবহার করে এই বার্তাটি তুলে ধরা হয়েছে যে, যুদ্ধে শিশুদের অভিন্ন দুর্ভোগ সীমান্ত ও জাতীয়তার ঊর্ধ্বে।
হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার বার্ষিকী
দ্বিতীয় কনটেন্টে ৬ আগস্ট হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে হিরোশিমার পারমাণবিক গম্বুজের ছবি ব্যবহার করা হয় এবং শান্তির জন্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
জাপানের কাগজের সারস ও মিনাবের প্রজাপতি
তৃতীয় কনটেন্টে জাপানের কাগজের সারস ও মিনাবের প্রজাপতিকে পাশাপাশি উপস্থাপন করা হয়। এগুলোকে শান্তির প্রতীক এবং ঐতিহাসিক স্মৃতি ধরে রাখার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
বিশ্বের সব শিশুর জন্য শান্তির বিশ্ব
প্রতিনিধিত্বের চতুর্থ গণমাধ্যমভিত্তিক কার্যক্রমের মূল বিষয় ছিল শহীদ মাকান নাসিরির পরিবারের টোকিও ও হিরোশিয়া সফরকে গণমাধ্যমে তুলে ধরা এবং মিনাবের ঘটনাবলি ও মানুষের অভিজ্ঞতার বয়ান উপস্থাপন করা।
আপনার কমেন্ট