হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত রাত থেকে এবং আজ ভোরের প্রথম প্রহর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ, ধর্মীয় সংগঠন, মাতম ও শোক মিছিলের দল পবিত্র অষ্টম ইমাম-হযরত ইমাম রেজা (আ.)-এর নূরানী দরবারের দিকে যাত্রা শুরু করেন। ফলে পুরো মাশহাদ নগরী শোক ও মাতমের আবহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শোকানুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল বিপুলসংখ্যক আলেম, হাওজা ইলমিয়ার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ধর্মীয় পণ্ডিতের অংশগ্রহণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও মাশহাদ শহর থেকে আলেম ও শিক্ষার্থীরা শোকের পোশাক পরিধান করে এবং শোকের পতাকা বহন করে সুসংগঠিত সারিতে হেঁটে এসে ইমাম রউফ (দয়ালু ইমাম)-এর হৃদয়বিদারক শাহাদাতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন। তাঁরা নওহা পরিবেশন, জিয়ারতে আমিনুল্লাহ ও জিয়ারতে আশুরা পাঠের মাধ্যমে শোকসভা আয়োজন করেন।
দেশের অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি আলেম ও হাওজা ইলমিয়ার শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি অষ্টম ইমাম (আ.)-এর পবিত্র সত্তার প্রতি সমাজের ঐক্য ও গভীর ভালোবাসার এক অনন্য চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ধর্মীয় সংগঠন, দানশীল ব্যক্তি, সেবক এবং ঈমানদার ও বেলায়েতপ্রেমী জনগণের উদ্যোগে পবিত্র মাশহাদ শহরের প্রবেশপথ, রাজাভী মাজারের আশপাশের সড়ক এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে জিয়ারতকারী ও শোকাহতদের সেবা ও আপ্যায়নের জন্য অসংখ্য মাওকিব (সেবাকেন্দ্র) স্থাপন করা হয়েছে। এসব মাওকিবে চা, শরবত, খাবার, থাকার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা ইমাম রউফ (আ.)-এর জিয়ারতকারীদের সেবা করার সৌভাগ্য অর্জন করছেন।
এই দিনগুলোতে এবং বর্তমান সময়ের ভিড়ের কারণে অষ্টম ইমাম (আ.)-এর পবিত্র মাজারে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো পায়ে হেঁটে যাওয়া। বিপুল জনসমাগমের কারণে যানবাহন চলাচলের জন্য কোনো পথ অবশিষ্ট নেই।
এছাড়াও পবিত্র মাজারের দিকে যাওয়া পথগুলোতে রেজভি দরবারের খাদেমগণ, জরুরি সেবাকর্মী, রেড ক্রিসেন্ট এবং গাড়ি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা আজ সকাল থেকেই জিয়ারতকারী ও শোকাহতদের সেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
আপনার কমেন্ট