হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান কোনো দিনই অত্যাচারী ছিল না বরং ইরান সবসময় মযলূম। অন্যায় আগ্রাসন কারী ও অত্যাচারী (যালেম) জবরদখলকারী দখলদার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কারী দেশ ও রাষ্ট্র হচ্ছে খোদ মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) সরকার।
সুতরাং অত্যাচারী ইরানের অস্তিত্ব না থাকাটা আসলে দেও দৈত্যের অস্তিত্ব না থাকার মতো। কারণ দেও-দৈত্য কোনো দিন ছিল না। তাই মধ্যপ্রাচ্যের যে অত্যাচারী ইরানের কথা ট্রাম্প বলেছে তা আসলে সম্পূর্ণ কাল্পনিক বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্ব নেই।
আর এত ভয়ঙ্কর যুদ্ধের পর ইরান যে ভালো ভাবে বিজয়ী হয়ে টিকে আছে তা অতিগুরুত্বপূর্ণ হোর্মুয প্রণালী গত পাঁচ মাসের অধিক কাল ধরে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং এ দেশটি কর্তৃক মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিদ্যমান মাযুরার সামরিক ঘাঁটি সমূহ ধ্বংস করে দেওয়া থেকে প্রমাণিত হয়।
অথচ এ প্রণালী ইরানের হাত থেকে জবরদখল করার জন্য এই গত জুলাই মাসে (২০২৬) দুই সপ্তাহ ধরে প্রাণপনে যুদ্ধ করেও মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) সক্ষম হয় নি।আর এ প্রণালী দিয়ে যুদ্ধের পূর্বে কয়টা জাহাজ চলাচল ও যাতায়াত করত এবং যুদ্ধের পরে এই কয় মাসে কয়টা জাহাজ চলাচল ও যাতায়াত করছে সেই পরিসংখ্যানটা বের করলেই ট্রাম্পের দাবী যে অলীক ও মিথ্যা তা প্রমাণিত হয়ে যাবে।
"হোর্মুয প্রণালী মাযুরার হাতে ও উন্মুক্ত আছে।"- এ কথা বললে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও দর কম ও স্থিতিশীল থাকে এবং আসন্ন সিনেট ও কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী নির্বাচনে ভরা ডুবির হাত থেকে রিপাবলিকান পার্টি হয়তো রক্ষা পেতে পারে।
তাই এই জঘন্য মিথ্যুকের মুখে আল-হামদু লিল্লাহ বলা মোটেও শোভা পায় না।আর ট্রাম্পের মুখে আল-হামদু লিল্লাহ বলা ভূতের মুখে রাম রাম ধ্বনি উচ্চারণের মতই।
আর নিম্নোক্ত সংবাদ প্রতিবেদন থেকেও স্পষ্ট হয়ে যায় যে মাযুরার হাতে নয় বরং ইরানের হাতেই আসলে হোর্মুযের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
"ইরানের ভয়ে ট্রাম্পের ‘গোপন পলায়ন’ যে বার্তা দিচ্ছে" https://share.google/BnGuLRjPwltDrn23a
---এই রিপোর্টের এক স্থানে উল্লেখিত হয়েছে:
"ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা ওয়াশিংটনের জন্য সহজ হচ্ছে না।"
সুতরাং হোর্মুয প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত মিথ্যাবাদী ট্রাম্পের দাবি যে মিথ্যা তা প্রমাণিত হয়ে গেল।
আবার এ ধরনের দাবির পর পর ট্রাম্প বলতে পারে যে ইরানের বিরুদ্ধে মাযুরা যুদ্ধে জয়লাভ করেছে এবং এ কথা বলে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের ঘূর্ণাবর্ত,গোলক ধাঁধা ও মরণ ফাঁদ থেকে নিজেকে বের করার চেষ্টা চালাতে পারে।
ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট