সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬ - ১৫:২২
ইরান সত্য ও ন্যায়ের পথে

বাংলাদেশের গ্র্যান্ড মুফতি মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমি শপথ করে বলছি, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সত্য ও ন্যায়ের পথে রয়েছে এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর দোয়া সবসময় তার সঙ্গে রয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, চট্টগ্রামের জামিয়াতুল উলুম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান এবং সাবেক নিজাম-ই-ইসলাম পার্টির আমির মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন।

সাক্ষাৎকালে ইরানে শহীদ নেতার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের সময় ইরানি প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে মুফতি ইজহারুল ইসলাম বলেন, ওই সময় আপনাদের উপস্থিতি আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ইসলামী বিপ্লবের বার্তা পৌঁছে দেওয়া বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

নিজাম-ই-ইসলাম পার্টির ইতিহাস এবং জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় দলটির ভূমিকা তুলে ধরে তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি তাঁর সমর্থনকে স্পষ্ট ও সাহসী বলে বর্ণনা করেন।

১২ দিনের যুদ্ধের আগে, যখন শিয়া মুসলমান ও ইরান সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনোভাব ততটা ইতিবাচক ছিল না, সেই সময় তাঁর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মুফতি ইজহারুল ইসলাম বলেন, আমি শপথ করে বলছি, ইরান সত্যের পথে রয়েছে। আধিপত্যবাদী শক্তির জোটের বিরুদ্ধে ইরানের ন্যায়সংগত অবস্থান ও শক্তি মুসলিম ও অমুসলিম-সব জাতির কাছেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরের সঙ্গে সহযোগিতায় নিজাম-ই-ইসলাম পার্টির প্রস্তুতির কথা জানিয়ে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে যৌথ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর মেহদি মোল্লায়ি আরানি মুফতি ইজহারুল ইসলাম ও তাঁর সফরসঙ্গীদের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং চট্টগ্রামে তাঁদের বিশেষ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানান।

তিনি বর্তমান বিশ্বে মুসলিম উম্মাহর পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দৃঢ় প্রতিরোধ-যা মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে দুই বৃহৎ আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে-বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদাবোধ পুনরুজ্জীবিত করতে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা এবং মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা পুনরুদ্ধারে আলেম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা; দ্বিতীয়ত, প্রধান শত্রুদের মোকাবিলায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর আরও উল্লেখ করেন যে মুফতি ইজহারুল ইসলাম ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ ও সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষার উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha