রবিবার ২৩ আগস্ট ২০২৬ - ১৫:৩০
খ্রিস্টানদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে নিরাপদ ভূখণ্ড হলো ‘ইরান’

রাওয়ালপিন্ডিতে ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে খ্রিস্টানদের জন্য ইরানের ভূখণ্ড সুদীর্ঘকাল ধরে আজ পর্যন্ত একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, রাওয়ালপিন্ডি খ্রিস্টান স্টাডিজ সেন্টারের খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একদল শিক্ষার্থী রাওয়ালপিন্ডিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন রাওয়ালপিন্ডি খ্রিস্টান স্টাডিজ সেন্টারের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং পাকিস্তানের জাতীয় ‘সায়বান’ অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক ক্রিস্টোফার শরফ। তাঁরা ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহদি তাহেরির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

তাহেরি ইরানে খ্রিস্টানদের উপস্থিতির ইতিহাস ও পটভূমি তুলে ধরেন এবং ইরানি সমাজের গঠন ও অগ্রগতিতে দেশটির খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানি খ্রিস্টানদের মূল্যবান সেবা, অবদান ও অর্জনের কথাও তুলে ধরেন। ইরানি সমাজের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসজুড়ে ইরানের খ্রিস্টানরা দেশটির বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ সামাজিক পরিচয়ের একটি অংশ হিসেবে রয়েছে। সংস্কৃতি ও শিল্প, শিক্ষা ও গবেষণা, ক্রীড়া, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং জাতীয় ও রাজনৈতিক বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা সক্রিয়, গঠনমূলক ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছে।

তাহেরি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের খ্রিস্টান ব্যক্তিত্ব ও মেধাবী নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ও অর্জনের কথা তুলে ধরে তাঁদের অবদানকে দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পদের একটি অংশ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি আরও বলেন, ইরানে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের ঐতিহাসিক সহাবস্থানের কথা উল্লেখ করে পারস্পরিক সংলাপ, একে অপরকে জানা এবং ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মানের গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁর মতে, এ ধরনের পারস্পরিক যোগাযোগ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে বোঝাপড়া, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির উপযুক্ত ভিত্তি তৈরি করে।

ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইরানে খ্রিস্টানদের দীর্ঘ ঐতিহাসিক উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায় শত শত বছর ধরে এই ভূখণ্ডে বসবাস করছে এবং দেশের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাক্ষাৎকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেন। পাশাপাশি ইরান ও পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, আন্তধর্মীয় সমন্বয় ও সংলাপ জোরদার করা, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও উপলব্ধি বৃদ্ধির বিষয়েও ফলপ্রসূ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

মেহদি তাহেরি আরও জানান যে, তিনি এই ধারার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও সম্প্রসারণ এবং ইরান ও পাকিস্তানের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ শুরু করার ব্যাপারে প্রস্তুত। তিনি বলেন, এ ধরনের যোগাযোগ দুই দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য একে অপরের অভিজ্ঞতা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক ভূমিকার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার মূল্যবান সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও জোরদার করার ক্ষেত্র তৈরি করবে।

ক্রিস্টোফার শরফও তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই সফর তাঁদের ইরানের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সভ্যতাগত দিক সম্পর্কে সরাসরি জানার একটি মূল্যবান সুযোগ করে দিয়েছে।

রাওয়ালপিন্ডি খ্রিস্টান স্টাডিজ সেন্টারের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প ব্যবস্থাপক বলেন, সংস্কৃতি ও সভ্যতার দিক থেকে ইরান অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় একটি দেশ। বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা শত শত বছর ধরে এই ভূখণ্ডে শান্তি, পারস্পরিক সম্মান ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশে পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘুরাও দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নিজেদের ভূমিকা পালন করছে। তাঁদের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য রক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে সরকারও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

তাহেরি আরও বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক ও গবেষণামূলক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলে ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha