হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
লেখা: মজিদুল ইসলাম শাহ
সারসংক্ষেপ
নবী করীম (সা.)-এর জন্ম কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল সৃষ্টিজগতের ব্যবস্থায় এক মহান পরিবর্তনের সূচনালগ্ন। তাঁর জন্মের সময় সংঘটিত বিস্ময়কর ঘটনাবলির মধ্যে কিসরার প্রাসাদের বারান্দা (ইওয়ান) ধসে পড়া, পারস্যের অগ্নিমন্দিরের আগুন নিভে যাওয়া, সাওয়া হ্রদ শুকিয়ে যাওয়া এবং আমেনার গৃহে ফেরেশতাদের অবতরণ-এসবই জাহেলিয়াতের যুগের অবসান এবং হেদায়াতের সূর্যোদয়ের নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এই প্রবন্ধে নির্ভরযোগ্য বর্ণনামূলক ও ঐতিহাসিক উৎসের আলোকে মহানবী (সা.)-এর জন্মের সময় সংঘটিত অলৌকিক ঘটনাবলি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং দেখানো হয়েছে যে, এসব ঘটনা পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী এবং আল্লাহর সর্বশেষ নবীর আবির্ভাবের নিশ্চিত নিদর্শন ছিল।
মূলশব্দ: জন্মকালীন অলৌকিক ঘটনা, নবী করীম (সা.), ইওয়ান-এ-কিসরা, পারস্যের অগ্নিমন্দির, সাওয়া হ্রদ, ফেরেশতাদের অবতরণ, আসমানি ভবিষ্যদ্বাণী।
ভূমিকা
হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-এর জন্ম মানবজাতির ইতিহাসে কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল বিশ্বের বিশ্বাসব্যবস্থা, সামাজিক কাঠামো ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এক মহান বিপ্লবের সূচনালগ্ন। এই ঘটনা সমগ্র সৃষ্টিজগতে এমন গভীর প্রভাব ফেলেছিল যে, এর আসমানি ও পার্থিব নিদর্শনগুলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রাচীন ইরানে অত্যাচার ও জুলুমের প্রতীক রাজপ্রাসাদের ধসে পড়া থেকে শুরু করে হাজার বছরের প্রাচীন অগ্নিমন্দিরগুলোর আগুন নিভে যাওয়া, পবিত্র হ্রদগুলো শুকিয়ে যাওয়া, ফেরেশতাদের অবতরণ এবং আসমানি সুসংবাদ ঘোষিত হওয়া-সবকিছুই এমন এক শিশুর জন্মের ইঙ্গিত বহন করছিল, যিনি সমগ্র বিশ্বকে পরিবর্তন করার জন্য আবির্ভূত হতে যাচ্ছিলেন।
এই প্রবন্ধে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ও ঐতিহাসিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব অলৌকিক ঘটনা ও নিদর্শন পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে তুলে ধরা হয়েছে যে, কীভাবে নবী (সা.)-এর জন্ম একটি অতিপ্রাকৃত ঘটনা হিসেবে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহ-তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাবুরে-পূর্বাভাসিত হয়েছিল এবং তাঁর জন্মের সঙ্গে এমন বহু আলামত ও নিদর্শন প্রকাশিত হয়েছিল, যা কোনো পুরোহিত, যাদুকর কিংবা জ্যোতিষী অস্বীকার করতে পারেনি।
১. কিসরার প্রাসাদের ইওয়ান ধসে পড়া এবং অগ্নিমন্দিরগুলোর আগুন নিভে যাওয়া
১-১. ইওয়ান-এ-কিসরা; অপরাজেয় শক্তির প্রতীক
নবী (সা.)-এর জন্মের সময় সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল তিসফুন (মাদায়েন)-এ অবস্থিত কিসরার রাজপ্রাসাদের কিছু অংশের কেঁপে ওঠা ও ধসে পড়া। শাইখ সাদুক, ইমাম সাদিক (আ.) থেকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মরাতে কিসরার ইওয়ান কেঁপে উঠেছিল এবং এর চৌদ্দটি কংগ্রা ভেঙে পড়েছিল।[1]
ঐতিহাসিক বিভিন্ন সূত্রে লিপিবদ্ধ এই ঘটনাকে সাসানীয় শাসনের আধিপত্যবাদী শক্তির ওপর আল্লাহর ইচ্ছার বিজয় এবং সেই ক্ষমতার পতনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
অন্যান্য বর্ণনা অনুযায়ী, ইরানের সম্রাট কিসরা এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর তাঁর জ্যোতিষী ও পুরোহিতদের ডেকে পাঠান এবং তাঁদের কাছে এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে বলেন। কিন্তু সেই রাতে জাদুকরদের জাদু ও পুরোহিতদের গণনা ব্যর্থ হয়ে যায়; তাঁদের কেউই সম্রাটকে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। অবশেষে ‘সায়িব’ নামের এক আরব জ্যোতিষী ঘোষণা করেন যে, এই ঘটনা হিজাজের ভূখণ্ডে একজন নবীর আবির্ভাবের নিদর্শন।[2]
১-২. পারস্যের অগ্নিমন্দিরের আগুন নিভে যাওয়া; সহস্রাব্দব্যাপী অগ্নিপূজার অবসান
কিসরার ইওয়ান ধসে পড়ার সঙ্গে একই সময়ে পারস্যের সেই অগ্নিমন্দিরের আগুন, যা প্রায় এক হাজার বছর ধরে অবিরাম জ্বলছিল, হঠাৎ নিভে যায়। এই আগুন ছিল জরথুস্ত্রবাদী ধর্মের প্রতীক এবং মুবাদদের (ধর্মীয় পুরোহিতদের) উপাসনার বিষয়। নবী (সা.)-এর জন্মরাতে সেই আগুনের শিখা স্তিমিত হয়ে নিভে যায়।[3]
সেই রাতে মুবাদরা ভয়ংকর সব স্বপ্ন দেখেছিলেন। এরপর এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য তাঁরা নানা উপায় অবলম্বন করেন; কিন্তু পুরোহিতদের কোনো গণনা কিংবা জাদুবিদ্যার কোনো পদ্ধতিই কার্যকর হয়নি।
এই দুটি মহান ঘটনা মূর্তিপূজা ও অগ্নিপূজার যুগের অবসান এবং তাওহিদ ও একেশ্বরবাদের যুগের সূচনার নিদর্শন বহন করছিল।
২. সাওয়া হ্রদ শুকিয়ে যাওয়া এবং সাওয়া উপত্যকায় পানির প্রবাহ সৃষ্টি হওয়া
২-১. যে হ্রদ ছিল পবিত্র
সাওয়া হ্রদ, যা কাশানের নিকটে অবস্থিত ছিল এবং ইরানিদের কাছে পূজিত হতো, নবী (সা.)-এর জন্মরাতে হঠাৎ পানি হারিয়ে মাটির নিচে চলে যায় এবং শুকিয়ে যায়।[4] এই হ্রদটি তার কথিত চিকিৎসাগুণ ও পবিত্রতার কারণে জরথুস্ত্রবাদীদের কাছে সম্মানিত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এটি লবণাক্ত মরুভূমিতে পরিণত হয়। একই সময়ে, সাওয়া উপত্যকায়, যেখানে বহু বছর ধরে কোনো পানি প্রবাহিত হয়নি, আকস্মিকভাবে পানি প্রবাহিত হতে শুরু করে এবং তা পানিতে পূর্ণ হয়ে যায়।[5]
প্রকৃতির এই আকস্মিক পরিবর্তনগুলো শুধু প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় আল্লাহর ইচ্ছার প্রকাশই নির্দেশ করে না; বরং মানুষের বিশ্বাস ও চিন্তাধারায় আসন্ন এক মহান পরিবর্তনেরও সুসংবাদ বহন করে।
২-২. কিসরার স্বপ্ন ও সাতিহের ব্যাখ্যা
ইরানের সম্রাট কিসরা সেই রাতে স্বপ্ন দেখলেন যে, একদল আরবীয় উট আরবীয় ঘোড়াগুলোকে টেনে নিয়ে দজলা নদী পার হয়ে আজমের ভূখণ্ডে আক্রমণ করছে।[6]
এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা পারস্যের পণ্ডিতদের কাছে অস্পষ্ট থাকায় কিসরা হিরার রাজা নুমান ইবনে মুনযিরের কাছে একটি চিঠি লিখে অনুরোধ করলেন, যেন তিনি এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করার জন্য একজন আরব পণ্ডিতকে তাঁর কাছে পাঠান। নুমান ‘আব্দুলমাসিহ ইবনে আমর গাসসানি’-কে পাঠালেন। তিনি শামের উদ্দেশে রওনা হয়ে ‘সাতিহ’ নামের এক সাধকের কাছে গেলেন।
সাতিহ তখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। তিনি কিসরার স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে বললেন: কিসরার প্রাসাদের যতগুলো কংগ্রা (প্রাসাদের দেয়ালের উপরের খাঁজযুক্ত অংশ) ভেঙে পড়েছে, ততজন আরব শাসক সিংহাসনে আরোহণ করবে; এরপর তাদের রাজত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে।[7]
এই ব্যাখ্যাটি ছিল অত্যন্ত নির্ভুল ও বিস্ময়কর। পরবর্তীকালে তা বাস্তবে পরিণত হয় এবং আরব ও আজমের রাজনৈতিক ও সামাজিক চিত্র চিরতরে পরিবর্তিত হয়ে যায়।
৩. আমেনার ওপর ফেরেশতাদের অবতরণ এবং আসমানি সুসংবাদ
৩-১. আমেনার পাশে জান্নাতি হুরদের উপস্থিতি
নবী (সা.)-এর জন্মের সময় সংঘটিত সবচেয়ে সুন্দর অলৌকিক ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল আমেনার পাশে ফেরেশতা ও জান্নাতি হুরদের উপস্থিতি। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, তাঁর জন্মরাতে আমেনার ঘরের ছাদ বিদীর্ণ হয়ে যায় এবং চারজন নূরানী নারী পান্না ও মুক্তাখচিত পাত্র হাতে আকাশ থেকে অবতরণ করেন।[8]
তাঁরা আমেনার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে জান্নাতি পানীয় পান করান, যাতে তাঁর অন্তর থেকে ভয় ও আতঙ্ক দূর হয়ে যায়। একই সময়ে জান্নাতি পাখিরাও আমেনার কক্ষে সমবেত হয় এবং আনন্দ ও অভিনন্দনের সুরে গান গাইতে থাকে।
৩-২. গোসল ও কাফনের জন্য জিবরাইল ও মিকাইলের অবতরণ
হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের পর জিবরাইল ও মিকাইলও আকাশ থেকে অবতরণ করেন। জিবরাইলের হাতে ছিল একটি স্বর্ণের পাত্র এবং মিকাইলের হাতে ছিল আকিক পাথরের তৈরি একটি কলসি। তাঁরা নবজাতক নবী (সা.)-কে গোসল করান এবং জান্নাতি সুগন্ধি দ্বারা সুগন্ধময় করেন।
জিবরাইল আমেনাকে বলেন: আমরা তাঁকে কোনো অপবিত্রতা দূর করার জন্য গোসল করাচ্ছি না; তিনি নিজেই পবিত্র ও পবিত্রতাদানকারী। বরং তাঁর নূর ও পবিত্রতা আরও বৃদ্ধি করার জন্য আমরা তাঁকে গোসল করিয়েছি।[9]
৩-৩. নবী (সা.)-এর প্রতি ফেরেশতাদের সালাম
গোসলের পর আকাশের দরজাগুলো খুলে যায় এবং দলে দলে ফেরেশতা আমেনার ঘরে প্রবেশ করেন ও নবী (সা.)-কে সালাম জানান। তাঁরা বলছিলেন: আসসালামু আলাইকা ইয়া মুহাম্মাদ, আসসালামু আলাইকা ইয়া আহমাদ, আসসালামু আলাইকা ইয়া মাহমুদ।[10]
এই সালামসমূহ আল্লাহ ও ফেরেশতাদের কাছে এই নবজাতকের বিশেষ মর্যাদার পরিচায়ক ছিল।
৩-৪. কাবা ও বাইতুল মুকাদ্দাসে জান্নাতি পতাকা স্থাপন
আল্লাহ তাআলা সেই রাতে জান্নাত থেকে চারটি পতাকা পৃথিবীতে প্রেরণ করেন: একটি ক্বাফ পর্বতে, একটি আবু কুবাইস পর্বতে, একটি কাবার ছাদে এবং একটি বাইতুল মুকাদ্দাসে। এসব পতাকায় শাহাদাতাইন, তাওহিদের বাণী এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের সুসংবাদ খোদাই করা ছিল।[11]
এই পতাকাগুলো চল্লিশ দিন পর্যন্ত নিজ নিজ স্থানে ছিল; এরপর সেগুলো আকাশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
৪. নবী (সা.)-এর জন্ম সম্পর্কে পুরোহিত ও সন্ন্যাসীদের সুসংবাদ
৪-১. সাতিহ ও তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী
নবী (সা.)-এর জন্মের সময় সংঘটিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল শামদেশীয় সন্ন্যাসী ‘সাতিহ’-এর ভবিষ্যদ্বাণী। সাতিহ অলৌকিক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। নবী (সা.)-এর জন্মরাতে তিনি আকাশ ও পৃথিবীতে সংঘটিত মহান পরিবর্তনগুলো প্রত্যক্ষ করে উপলব্ধি করেন যে, একজন হাশেমি নবীর আবির্ভাব ঘটেছে।[12]
তিনি কুরাইশদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ‘মুহাম্মদ’ নামের এক নবীর আবির্ভাবের সংবাদ দেন। তিনি বলেন, এই নবী এমন এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তরবারি ও লক্ষ্যভেদী তীরের অধিকারী হবেন এবং সমগ্র মানবজাতিকে একত্ববাদের দিকে আহ্বান করবেন।
৪-২. ইয়েমেনের জারকা ও ফাতিমা বিনতে আসাদ
‘জারকা’ নামের ইয়েমেনি এক ভবিষ্যদ্বক্তা নারীও নবী (সা.)-এর জন্ম সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি আবু তালিব ও কুরাইশদের বলেন যে, আব্দুল মুত্তালিবের বংশ থেকে এমন একজন নবী প্রেরিত হবেন, যাঁর নাম ‘মুহাম্মদ’ এবং ‘আহমদ’; তিনি মূর্তিগুলো ভেঙে দেবেন।[13]
জারকা হজরত আলী (আ.)-এর জন্ম সম্পর্কেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন-যিনি নবী (সা.)-এর উত্তরাধিকারী ও সহায়ক হবেন। তিনি এই সংবাদও কুরাইশদের কাছে প্রকাশ করেন।
৪-৩. হাবিব সন্ন্যাসী ও নবী (সা.)-এর প্রতি ঈমান
‘হাবিব’ নামের তায়েফের এক নির্জনবাসী সন্ন্যাসীও আসমানি নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে নবী (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনয়নকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বর্ণনায় এসেছে, আমেনার গর্ভধারণের সময় পাহাড় ও গাছপালা একে অপরকে সুসংবাদ দিচ্ছিল যে, অচিরেই নবীদের সর্দার জন্মগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। হাবিব সেই আওয়াজ শুনতে পান এবং নবী (সা.)-এর জন্মের প্রতি ঈমান আনেন।[14]
৫. আল্লাহর দরবারে পাহাড় ও বৃক্ষের সিজদা
বিভিন্ন রেওয়ায়েতে এসেছে যে, আমেনার গর্ভধারণের পুরো সময়জুড়ে জগতের বিভিন্ন সৃষ্টি-পাহাড়, গাছপালা, সমুদ্র এমনকি প্রাণীরাও-কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে সিজদায় অবনত হতো।
উদাহরণস্বরূপ, ফাযায়েলে শাযান-এর একটি রেওয়ায়েত এসেছে যে, গর্ভধারণের তৃতীয় মাসে আবু কুহাফার (আবু বকরের পিতা) উটনী মক্কার নিকটবর্তী স্থানে হঠাৎ সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। তাকে যতই প্রহার করা হয়, সে মাথা উঠায়নি।[15]
এই ঘটনা সমগ্র সৃষ্টিজগতের সঙ্গে আল্লাহর ইচ্ছার সামঞ্জস্য এবং বিশ্বজগতের ব্যবস্থার সঙ্গে নবী (সা.)-এর গভীর সম্পর্কের নিদর্শন বহন করে।
উপসংহার:
নবী করীম (সা.)-এর জন্মের সময় সংঘটিত অলৌকিক ঘটনা ও নিদর্শনসমূহ, যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনামূলক ও ঐতিহাসিক সূত্রে লিপিবদ্ধ হয়েছে, প্রমাণ করে যে তাঁর জন্ম ছিল একটি অতিপ্রাকৃত ঘটনা এবং এর সঙ্গে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ জড়িত ছিল। সাসানীয় প্রাসাদের ধসে পড়া ও অগ্নিমন্দিরগুলোর আগুন নিভে যাওয়া থেকে শুরু করে আমেনার গৃহে ফেরেশতাদের অবতরণ, পুরোহিত ও ভবিষ্যদ্বক্তাদের ভবিষ্যদ্বাণী এবং প্রকৃতিতে সংঘটিত বিস্ময়কর পরিবর্তন-সবকিছুই হেদায়াতের সূর্যোদয় এবং জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগের অবসানের নিদর্শন বহন করে।
এই ঘটনাবলি তাওরাত ও ইঞ্জিলেও পূর্বাভাসিত ছিল এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছেও তা পরিচিত ও শনাক্তযোগ্য ছিল। সাতিহ, জারকা ও হাবিব-প্রত্যেকেই তাঁদের নিজ নিজ আসমানি কিতাবের মাধ্যমে এসব ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং মানুষকে আল্লাহর সর্বশেষ নবীর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
পরিশেষে বলা যায়, নবী (সা.)-এর জন্ম শুধু ইসলামের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণই ছিল না; বরং এটি ছিল সমগ্র মানবজাতির ভাগ্যে এক বিস্ময়কর পরিবর্তনের সূচনালগ্ন।
- কামালুদ্দীন, খণ্ড ১, পৃ. ১৯১।
- ফারাজুল মাহমুম, পৃ. ৩২; তারিখুত তাবারি, খণ্ড ১, পৃ. ৪৭০।
- তারিখে ইয়াকুবি, খণ্ড ২, পৃ. ৫৫; কামালুদ্দীন, খণ্ড ১, পৃ. ১৯১।
- তারিখে ইয়াকুবি, খণ্ড ২, পৃ. ৫৫; কামালুদ্দীন, খণ্ড ১, পৃ. ১৯১।
- কামালুদ্দীন, খণ্ড ১, পৃ. ১৯১।
- কামালুদ্দীন, খণ্ড ১, পৃ. ১৯১।
- কামালুদ্দীন, খণ্ড ১, পৃ. ১৯১–১৯২।
- মানাকিবে ইবনে শাহর আশুব, খণ্ড ১, পৃ. ৫৩।
- ফাযায়েলে শাযান ইবনে জিবরাইল, পৃ. ১৫–২৫।
- রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পৃ. ৬৮।
- ফাযায়েলে শাযান, পৃ. ১৫–২৫।
- আল-খারায়িজ ওয়াল-জারায়েহ, খণ্ড ১, পৃ. ১২৭।
- আল-আনওয়ার, পৃ. ১৩৩–১৭৭।
- ফাযায়েলে শাযান, পৃ. ১৫–২৫।
- ফাযায়েলে শাযান, পৃ. ১৫–২৫।
আপনার কমেন্ট