বুধবার ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৪:০৮
নেতাজির অবমাননার প্রতিবাদে বজবজে ‘সাগর থেকে পাহাড় পদযাত্রা’

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর অবমাননার প্রতিবাদে বজবজের নেতাজী ব্রিগেডের আহ্বায়ক অতীন হালদার একাকী গঙ্গাসাগর তট থেকে দার্জিলিংয়ের ম্যালে পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করেছেন। দক্ষিণ কলকাতার তারাতলা থেকে এলগিন রোডের নেতাজী ভবন পর্যন্ত ইয়ং বেঙ্গলের সভাপতি কৃষ্ণেন্দু দাস তাঁর সঙ্গে এই প্রতিবাদ পদযাত্রায় সামিল হন। পথে নেতাজী ভবনে নেতাজীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে পদযাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত:- দেশিকোত্তম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর অবমাননার প্রতিবাদে বজবজের নেতাজী ব্রিগেড এর পক্ষ থেকে "সাগর থেকে পাহাড় পদযাত্রা" আয়োজন করা হয়। বজবজের ভূমিপুত্র;  সুভাষবাদী সমাজসেবী ও নেতাজী ব্রিগেড এর আহ্বায়ক 'শ্রী অতীন হালদার' মহাশয় একাকী গঙ্গাসাগর তট থেকে দার্জিলিং এর ম্যালে পর্যন্ত পদযাত্রা করছেন।

নেতাজী ব্রিগেড এর আহ্বায়ক অতীন বাবুর এই উদ্যোগকে স্বাগত ও সমর্থন জানাতে দক্ষিন কলকাতার ভূমিপুত্র সুভাষবাদী সমাজসেবী ও হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর সংগঠন "ইয়ং বেঙ্গল" এর সভাপতি 'কৃষ্ণেন্দু দাস' তারাতলা থেকে এলগীন রোডের নেতাজী ভবন পর্যন্ত অতীনবাবুর সাথে এই প্রতিবাদ পদযাত্রায় সামিল হন।

নেতাজী ব্রিগেড এর আহ্বায়ক অতীন হালদারের মতে- "ভারতমাতার বীর সন্তান নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু কোনোও রাজনৈতিক দলের অথবা বসু পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি নন; তিনি দেশের তথা ভারতের জাতীয় আবেগ তথা আরাধ্য দেবতা।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ সরকার ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত ভারতের নরমপন্থী ও চরমপন্থী শহীদ বিপ্লবীদের আত্মবলিদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সরকার ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ, আমেরিকা সাম্রাজ্যবাদ ও ইহুদী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সর্বোতভাবে যুদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন।

স্বামীজী ও গান্ধীজীর পর একমাত্র নেতাজী জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একত্রিত করেছিলেন! এহেন পূত পবিত্র ব্যক্তিত্ত্বকে যে যারা অবমাননা করছেন তাদের গালে সরব চপেটাঘাত হিসেবে আমার নিরব প্রতিবাদের প্রয়াস:!

ইয়ং বেঙ্গল এর সভাপতি কৃষ্ণেন্দু বলেন- ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যে বা যারা সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে; আজ তারা ভারতবাসীকে দেশপ্রেমের জ্ঞান দিচ্ছে। নেতাজী ও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে আরএসএস-হিন্দু মহাসভা, মুসলিম লীগ ও কমিউনিস্টরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিসাধন করেছে।

আজ সংঘ পরিবার ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিপ্লবীদের মধ্যে হিন্দু মুসলমান বিভেদের চেষ্টা করছে তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে; যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি জীবিত অবস্থায় জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিরোধীতা করে বৃটিশদের সাথে আঁতাত করে মুসলিম লীগ সমর্থিত  ফজলুল হকের সাথে সরকার গড়েছিলো, যে মনিপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজ ও সর্বোপরি নেতাজীকে হত্যা করতে হিন্দু সেনা পাঠিয়েছিলো, যে সাভারকর সেলুলার জেল পরবর্তী জীবনে স্বাধীনতা অপেক্ষা বৃটিশদের আশ্রয় নিরাপদ মনে করে হিন্দুদের ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার ফতোয়া দিয়েছিলো;

আজ তাদের উত্তরসুরীরা সেই শ্যামাপ্রসাদ কে ভারতের রক্ষাপিতা সাজানোর অপচেষ্টা করছে; তার জন্য তারা নীলবিদ্রোহী শহীদ তীতুমীরের নাম মুছে ফেলছে; শহীদ সিধু-কানহু মুর্তি রাতের অন্ধকারে ক্ষতিসাধন করছে, নেতাজীর মুর্তি ধ্বংস করছে! কিন্তু সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া যায় না।

সেদিন যারা ইউনিয়ন জ্যাককে স্যালুট করতো; ভিক্টোরিয়া মাতা কি জয় বলতো, তারা আজ আমাদের বন্দে মাতরম্ সম্পর্কে জ্ঞান দিচ্ছে!

আর কমিউনিস্টরা পিছন থেকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ও স্বাধীনতার পর ক্ষতিসাধন করেছে! ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় এরা নেতাজীকে কুইসলিং, তোজোর কুকুর অপবাদ দিয়েছে, ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা করে কুখ্যাত খুনি স্ট্যালিনের নির্দেশে বৃটিশদের সাথে হাত মিলিয়ে ভারতের বিপ্লবীদের ধরিয়ে দিয়েছে!

এই সেই কুখ্যাত স্ট্যালিন যে ভারতের দুই বিপ্লবী সরোজিনী নাইডুর ভাই বিপ্লবী বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও বিপ্লবী অবনী মুখোপাধ্যায় কে হত্যা করে। ভারতের বিপ্লবীদের বিভ্রান্ত করার জন্য সেলুলার গেলে বৃটিশরা কমিউনিস্ট এজেন্টদের প্রেরণ করতো!

স্বাধীনতার পর ভারত-চীন যুদ্ধে এরা সরাসরি চীনকে সমর্থন করে! এই কমিউনিস্টরা শ্রী অরবিন্দ গলায় জুতোর মালা পড়ায়। ১৯৪৬ সালে এই কমিউনিস্ট ও হিন্দু মহাসভা জোট করে বাংলা বিধানসভায় কংগ্রেস নেতা শরৎ বসুকে পরাজিত করে মুসলিম লীগকে জিতিয়ে কলকাতা দাঙ্গার বাস্তবায়নে ভুমিকা নেয়। আজ তারা আমাদের জাতীয়তাবাদের জ্ঞান দিচ্ছে! এই দ্বিচারিতা বিরুদ্ধে আমাদের নীরব প্রতিবাদ"।

এদিন অতীন হালদার ও কৃষ্ণেন্দু দাস নেতাজী ভবনে নেতাজীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে এই পদযাত্রা এগিয়ে নিয়ে চলেন।

সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিক গোপাল চক্রবর্তী

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha