বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৭:৩০
সিরিকের বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধ, পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ‘অনুতাপসৃষ্টিকারী জবাব’ অব্যাহত থাকবে

ইরানের হাওজায়ে ইলমিয়ার পরিচালক আয়াতুল্লাহ আলী রেজা আরাফি হরমোজগান প্রদেশের সিরিক অঞ্চলের আবাসিক এলাকা ও একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই হামলাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘যুদ্ধাপরাধের’ সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত শত্রুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়াতুল্লাহ আলী রেজা আরাফি এক বিবৃতিতে হরমোজগান প্রদেশের সিরিক অঞ্চলের আবাসিক এলাকা ও একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বাহিনীর ভোররাতের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বিবৃতির পূর্ণাঙ্গ পাঠ নিম্নরূপ:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ

وَ مَن قُتِلَ مَظْلُومًا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِیِّهِ سُلْطَانًا فَلَا یُسْرِف فِّی الْقَتْلِ إِنَّهُ کَانَ مَنصُورًا.

আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়েছে, তার উত্তরাধিকারীকে আমি (প্রতিশোধ গ্রহণের) অধিকার দিয়েছি। তবে সে যেন হত্যার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন না করে। নিশ্চয়ই সে সাহায্যপ্রাপ্ত! [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৩]

আবারও আধিপত্যবাদ ও বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যের কদর্য ও মানবতাবিরোধী চেহারা, বিশেষত আগ্রাসী মার্কিন সরকারের প্রকৃত রূপ, একটি নৃশংস অপরাধের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেল। হরমোজগান প্রদেশের সিরিক অঞ্চলের আবাসিক এলাকা ও একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আজ (গতকাল) ভোরে পরিচালিত বিমান হামলা, যাতে নারী ও নিষ্পাপ শিশুসহ বহু নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন, এই কাপুরুষোচিত আগ্রাসনের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ইসলামাবাদ সমঝোতা লঙ্ঘন এবং ইরানের নির্যাতিত জনগণের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক নৃশংস হামলার অংশ হিসেবে সংঘটিত এই অপরাধ—যার মধ্যে মিনাবের শাজেরে তাইয়্যেবা স্কুলে বোমা হামলা ও কয়েক ডজন শিক্ষার্থীকে শহীদ করা, লামার্দ স্টেডিয়াম, হাসপাতাল ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় হামলাও রয়েছে—আরও একবার প্রমাণ করল যে মার্কিন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের কোনো সীমা নেই এবং নিরপরাধ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রতি তাদের কোনো মূল্য নেই। এসব ভয়াবহতার ব্যাপারে মানবাধিকারের কথিত প্রবক্তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর লজ্জাজনক নীরবতা গভীরভাবে ভাবার ও প্রশ্ন তোলার বিষয়।

বিদ্বেষপরায়ণ শত্রুরা জেনে রাখুক, গর্বিত ইরান, প্রতিরোধের অক্ষ (محور المقاومة) এবং দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠান—আল্লাহর অনুগ্রহে—ইসলাম, ইরান ও মুসলিম উম্মাহর ওপর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে। মহান আল্লাহর সাহায্য এবং হযরত ওয়ালিয়ে আসর (আ.ফা.)-এর অনুগ্রহে আধিপত্যবাদী ও শয়তানি বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি নতুন অধ্যায় ও নতুন আদর্শ রচনা করা হবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সভ্যতামূলক পর্যায়ের রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে।

হাওজায়ে ইলমিয়ার ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ও সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানসমূহ সব সম্মানিত হাওজাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে স্বদেশবাসীদের শাহাদাতের ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে এবং আহত ও জানবাজদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে। একই সঙ্গে তারা এই বর্বরোচিত ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে, যা সব আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘যুদ্ধাপরাধের’ সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত।

এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের আহ্বান জানাচ্ছে—তারা যেন সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (দা.বা.)-এর নির্দেশনা অনুসরণ করে শত্রুকে ‘অনুতাপসৃষ্টিকারী জবাব’ প্রদান অব্যাহত রাখে, যতক্ষণ না পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা অর্জিত হয়; একই সঙ্গে ইসলামী প্রতিরোধের অক্ষ ও মুসলিম উম্মাহর শক্তি ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করে।

وَ مَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ.

আর বিজয় তো কেবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

আলী রেজা আরাফি
পরিচালক, হাওজায়ে ইলমিয়া

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha