হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর মেহদি মোলায়ি-আরানি এবং বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমিন সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।
মোহাম্মদ রফিকুল আমিন ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সমর্থনের ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এমন একটি দেশ, যারা বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর মোকাবিলায় সাহস প্রদর্শন করেছে এবং তাদের হামলা ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো মুসলিম দেশ ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের দিকে ইরানের মতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি। আমরা ইরানের অবস্থান ও যুদ্ধসংক্রান্ত প্রকৃত সংবাদ নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি।
বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বৈশাখী টেলিভিশন সবসময় সত্য ও মানবতার কথা বলে। এই টেলিভিশন নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর।
তিনি আরও বলেন, যখন ইরান অন্যায়ের শিকার হয়েছে, তখন আমরা নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত সত্য সম্প্রচারের চেষ্টা করেছি। আমাদের অবস্থান সবসময় মানবতার পক্ষে। আমি মনে করি, সত্য তুলে ধরা প্রতিটি গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা অসহায়, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার গণমাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করি।
বাংলাদেশে ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর মোলায়ি-আরানি বলেন, ইরান ও বাংলাদেশ দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের জনগণ ইরানকে সমর্থন করেছেন এবং ইরানের সমর্থনে রাস্তায় মিছিল করেছেন। তাঁরা যুদ্ধে শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়া করেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো এই যুদ্ধের সংবাদ ন্যায্যভাবে সম্প্রচার করেছে এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান যুগ গণমাধ্যমের যুগ। বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো গণমাধ্যম। যখন গণমাধ্যম কোনো ব্যক্তি বা দেশকে বাস্তবতার তুলনায় অতিরিক্ত শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরে, তখন মানুষ মনে করতে পারে যে ওই ব্যক্তি বা দেশ বাস্তব অবস্থার চেয়ে বেশি শক্তিশালী।
ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর জোর দিয়ে বলেন, আবার গণমাধ্যম যখন কোনো ব্যক্তি বা দেশকে বাস্তবতার তুলনায় ছোট বা দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করে, তখন মানুষ মনে করতে পারে যে ওই ব্যক্তি বা দেশ প্রকৃতপক্ষে যতটা শক্তিশালী, তার চেয়ে দুর্বল। তাই গণমাধ্যম যদি নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশন করে, কেবল তখনই বিশ্বের মানুষ প্রকৃত সত্য জানতে পারবে এবং বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত হতে পারবে।
বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে ইরান কীভাবে এত শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে-এ প্রসঙ্গে মোলায়ি-আরানি বলেন, শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার পেছনে দুটি শক্তি কাজ করেছে। একটি হলো হার্ড পাওয়ার বা সামরিক শক্তি এবং অন্যটি হলো সফট পাওয়ার-যার মধ্যে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও বিশ্বাস অন্তর্ভুক্ত-অথবা ঐশী শক্তি। ইসলামের শত্রুদের রয়েছে কেবল একটি শক্তি, আর তা হলো হার্ড পাওয়ার বা সামরিক শক্তি।”
তিনি বলেন, সামরিক শক্তির পাশাপাশি আমাদের আরও একটি শক্তি রয়েছে, যাকে ঐশী শক্তি বলা হয়। সামরিক শক্তির পাশাপাশি যারা মানসিক দৃঢ়তা ও ঐশী শক্তিতে শক্তিশালী, তাদের পরাজিত করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। আর এটাই প্রধান কারণ যে, ইরান বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
আপনার কমেন্ট