শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৪:২৪
শাহাদাতের ৪টি স্থায়ী প্রভাব

বুশেহরের জুমার ইমাম বলেন, একজন শহীদ তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমে পৃথিবীতে চারটি বড় ও স্থায়ী প্রভাব রেখে যান। তিনি নিজের জন্য লাভ করেন চিরন্তন জীবন ও আল্লাহর ভালোবাসা; দেশের জন্য রেখে যান মর্যাদা ও শক্তি; দ্বীনের জন্য গৌরব; আর পরিবারের জন্য রেখে যান সম্মান ও সুনাম।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রদেশের ওয়ালিয়ে ফকিহ ও বুশেহরের জুমার ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন গোলামআলী সাফায়ি বুশেহরি আজ শহীদ পরিবারের সদস্য এবং প্রদেশের শহীদ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বলেন, একজন শহীদ তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমে পৃথিবীতে চারটি বড় ও স্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করেন।

তিনি নিজের জন্য চিরন্তন জীবন ও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা, দেশের জন্য মর্যাদা ও শক্তি, দ্বীনের জন্য গৌরব এবং পরিবারের জন্য সম্মান ও সুনাম রেখে যান।

শহীদদের স্মৃতি, শহীদদের ইমাম এবং ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, আজ আমাদের জন্য একটি আলোকময়, মূল্যবান ও স্মরণীয় দিন। সম্মানিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে উপস্থিত হওয়া একটি বড় সৌভাগ্যের বিষয়।

ইসলামী সংস্কৃতিতে শহীদের মর্যাদা সম্পর্কে তিনি বলেন, একজন শহীদ তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমে পৃথিবীতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেন। প্রথমত, তিনি নিজের ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবন বিসর্জন দিয়ে এর পরিবর্তে লাভ করেন চিরন্তন জীবন, মর্যাদা এবং আল্লাহর ভালোবাসা।

বুশেহরের ওয়ালিয়ে ফকিহ আরও বলেন, শহীদ তাঁর দেশের জন্যও মর্যাদা ও সুরক্ষা সৃষ্টি করেন। শহীদ দেশের শক্তি ও দৃঢ়তার কারণ হন এবং তাঁর রক্ত নিজ ভূখণ্ডের মর্যাদা ও স্বাধীনতার ভিত্তি সুদৃঢ় করে।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাফায়ি বুশেহরি বলেন, শহীদ দ্বীনের জন্যও গৌরব ও স্থায়িত্ব নিয়ে আসেন। তিনি হামলা ও আগ্রাসনের মুখে আল্লাহর দ্বীনকে বিলীন হতে দেন না। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমরা হযরত সাইয়্যেদুশ শুহাদা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলন এবং কারবালার শহীদদের মধ্যে দেখতে পাই।

তিনি শাহাদাতের চতুর্থ প্রভাবকে শহীদের পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বলেন, শাহাদাত শহীদের পরিবারের জন্য সম্মান বয়ে আনে এবং শহীদ পরিবারগুলো সমাজের বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এভাবে এসব পরিবারের সুনাম ইতিহাসে স্থায়ী হয়ে থাকে।

বুশেহরের জুমার ইমাম শহীদ রাইসআলী দেলভারি-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, মরহুম রাইসআলী দেলভারি তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমে নিজের জন্য অমর নাম রেখে গেছেন। তিনি বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলাম ও নিজের ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা করেছেন এবং নিজের পরিবার ও জনগণের জন্যও সুনাম রেখে গেছেন।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাফায়ি বুশেহরি বলেন, শহীদরা কখনো বিস্মৃত হন না। মহান আল্লাহর অন্যতম নাম “শাহিদ” এবং শহীদও তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমে স্থায়ী প্রভাব ও বরকত রেখে যান। তাই সমাজের জনপরিসরে শহীদের নাম কখনো মুছে যায় না বা বিস্মৃত হয় না; কারণ তা আল্লাহর নামের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে গেছে।

শহীদদের জীবিত থাকার বিষয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের কাছে রিজিকপ্রাপ্ত।

তিনি বলেন, এই জীবন ও চিরস্থায়িত্ব এমন এক বাস্তবতা, যা একজন শহীদ তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমে অর্জন করেন।

বুশেহরের ওয়ালিয়ে ফকিহ শাহাদাতকে মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম সর্বোচ্চ মর্যাদা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানুষ তার জীবনে বহু নেক কাজ করতে পারে; কিন্তু শাহাদাতের রয়েছে বিশেষ মূল্য ও মর্যাদা। এ কারণেই আল্লাহর বহু ওলি ও নেক বান্দাও শাহাদাতের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাফায়ি বুশেহরি ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতের প্রতি আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করে বলেন, সর্বোচ্চ নেতা সবসময় শহীদদের স্মরণ করেছেন এবং আল্লাহর পথে শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। আজও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জন্য সর্বোচ্চ নেতার উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও শক্তির উৎস।

তিনি বুশেহর প্রদেশের জিহাদ ও শাহাদাতের ঐতিহাসিক পটভূমির কথাও উল্লেখ করে বলেন, বুশেহরের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে জিহাদ ও শাহাদাতের সঙ্গে পরিচিত। আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রামের ইতিহাস বহু শতাব্দী পুরোনো।

বুশেহরের জুমার ইমাম বলেন, প্রায় পাঁচশ বছর আগে যখন পর্তুগিজরা এই অঞ্চলে হামলা করেছিল, তখন এই ভূখণ্ডের জনগণ মাতৃভূমি ও দ্বীনের প্রতিরক্ষায় দাঁড়িয়ে গিয়েছিল এবং বহু শহীদ পেশ করেছিল। এসব প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের বরকতে এই ভূখণ্ডের এক বিঘত মাটি বা এক বিন্দু জলও বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়নি।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাফায়ি বুশেহরি দেশের ও বুশেহর প্রদেশের শহীদ ও ইসারাগার ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠানগুলো জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা উচিত এবং সমাজে শহীদদের স্মৃতি জীবন্ত রাখতে হবে। কারণ ইমাম খোমেইনি (রহ.) এবং ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতাও এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে সম্মানিত শহীদ ও ইসারাগার পরিবারগুলোর সেবা কার্যক্রমও গুরুত্বের সঙ্গে অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে শহীদদের পথ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমরা আশা করি, শহীদদের স্মৃতি-যা একটি আকাশী ও চিরন্তন সত্য-কর্মকর্তা ও জনগণের প্রচেষ্টায় বুশেহর প্রদেশসহ সমগ্র ইরানে সর্বদা জীবন্ত ও স্থায়ী থাকবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha