হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিরোধের মহান নেতা সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ কমিটিগুলো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ভূমির মহান জনগণ, আরব ও মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বের সকল মুক্তিকামী মানুষের সঙ্গে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ কমিটিগুলো কুদসের পথে শাহাদাতবরণকারী হযরত সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ কমিটিগুলো আরও বলেছে, সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আমরা এমন একজন নেতাকে স্মরণ করছি, যিনি তাঁর জীবনের কয়েক দশক ফিলিস্তিনের আদর্শ এবং দখলদারিত্ব ও আধিপত্যবাদী-ঔপনিবেশিক প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পথের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তাঁর শাহাদাতের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ নাসরুল্লাহর নাম এখনও প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার সমর্থকদের হৃদয়ে জীবন্ত রয়েছে। ফিলিস্তিন ও কুদস এখনও সেই বিষয়গুলোর শীর্ষে রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, অবস্থান এবং জিহাদি জীবন গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিল।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ জোর দিয়ে বলেছে, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ তাঁর জীবনে এমন এক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, যিনি রাজনৈতিক উপস্থিতিকে প্রতিরোধের প্রতি অঙ্গীকারের সঙ্গে সমন্বয় করেছিলেন এবং তাঁর অবস্থানের কেন্দ্রে ফিলিস্তিন ও কুদসকে স্থান দিয়েছিলেন।
তিনি ফিলিস্তিনের আদর্শকে এর আরব ও ইসলামী পরিমণ্ডল থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং তাঁর ভূমিকা ও মর্যাদা সাংগঠনিক ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করেছিল।
বিবৃতি অনুযায়ী, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর নাম ইহুদিবাদী শত্রুর সঙ্গে সংঘাতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং ফিলিস্তিনের আদর্শকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সমার্থক হয়ে উঠেছিল। আজ যখন ফিলিস্তিনি জনগণ এখনও যুদ্ধ, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও অবরোধের প্রভাব মোকাবিলা করছে, তখন আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি-যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের সবার প্রতি আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ থাকব।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ কমিটিগুলো স্পষ্ট করে বলেছে, ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো সকলের প্রতি আমাদের আনুগত্য কেবল স্লোগানের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে না; বরং সেই পবিত্র শহীদদের উত্তরাধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে তা প্রকাশ পাবে, যারা কুদসের পথে নিজেদের রক্ত ও জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের নীতিগত অবস্থানের প্রতি অটল ছিলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমরা সেই সকল জাতি ও শক্তির প্রতি সালাম জানাই, যারা আমাদের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে; এবং তাদের প্রতিও সালাম জানাই, যারা রাজনৈতিক, মানবিক ও সামরিকভাবে গাজার পাশে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলন, ইরাকের প্রতিরোধ এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে সালাম জানাই-যারা ইহুদিবাদী শত্রুর অপরাধ মোকাবিলা এবং এই অঞ্চলে তাদের প্রকল্পগুলো নস্যাৎ করার ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক শহীদ ও ত্যাগ স্বীকার করেছে।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ তাদের বিবৃতিতে আরও ঘোষণা করেছে, হযরত সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি-ফিলিস্তিন সংগ্রামের দিকনির্দেশক, কুদস ঐক্যের প্রতীক এবং শহীদদের রক্ত আমাদের জনগণের জাতীয় ও ঐতিহাসিক স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়েছে, মহান শহীদ নেতা হযরত সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর নাম চিরকাল ইতিহাসের সেইসব মহান নেতার তালিকায় অমর হয়ে থাকবে, যাদের পথ, বক্তব্য ও অবস্থান ফিলিস্তিন ও কুদসের আদর্শের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল এবং যারা এর জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
আপনার কমেন্ট