হাওজা নিউজ এজেন্সি আল-মানার টিভির ইংরেজি ওয়েবসাইটের বরাতে জানিয়েছে, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ রোববার সংগঠনটির সাবেক দুই মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ও সাইয়্যেদ হাশেম শাফিউদ্দিনের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে একটি স্মরণসভা আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্য দেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম।
শেখ কাসেম বলেন, “আমরা হিজবুল্লাহর দুই মহাসচিবের শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছি। এই স্মরণ আমাদের শহীদদের প্রতি সম্মান জানায় এবং প্রতিরোধের ধারাবাহিকতা ও দৃঢ়তার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে।”
শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহকে উদ্দেশ করে হিজবুল্লাহর মহাসচিব বলেন, “আপনি বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। আপনার শিক্ষা আজও বিদ্যমান এবং আপনি যে পথ নির্মাণ করে গেছেন, তা অব্যাহত থাকবে। ফিলিস্তিন ও আমাদের ভূমির মুক্তি আমাদের অগ্রাধিকার হিসেবেই থাকবে।”
সাইয়্যেদ হাশেম শাফিউদ্দিনকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “আপনার জীবন ছিল জিহাদ ও হিজবুল্লাহর সেবায় নিবেদিত। আপনি সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহর শক্তিশালী সমর্থক ও সহযোগী ছিলেন। প্রতিরোধের পথচলায় আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হয়ে থাকবেন।”
তিনি শহীদ সাইয়্যেদ আব্বাস আল-মুসাভি এবং ‘মাইটি ওয়ারিয়র্স’ যুদ্ধে নিহত হিজবুল্লাহর চার কমান্ডার—ফুয়াদ শুকর, ইব্রাহিম আকিল, আলী কারাকি ও সুহাইল হুসেইনি—এর প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
এ ছাড়া তিনি হিজবুল্লাহর কমান্ডার নাবিল কাওউক ও আব্বাস নীলফুরোশান এবং সাইয়্যেদ শাফিউদ্দিনের সঙ্গে নিহত হাজ্ব মুর্তজা, হাজ্ব আদেল বাহসুন ও হাজ্ব মাহের শাহিনকেও স্মরণ করেন।
২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর কার্যকর হওয়া চুক্তির প্রসঙ্গে কাসেম বলেন, “চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর লেবাননের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায়নি।”
তিনি বলেন, “প্রতিরোধযোদ্ধা ও প্রতিরোধের জনগণের সঙ্গে এবং এমন মনোবল ও আত্মত্যাগের পরিস্থিতিতে আমাদের সামনে অবিচল থাকা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আমরা পরাজিত হব না এবং কখনো অপমান মেনে নেব না।”
হিজবুল্লাহর এই নেতা আরও বলেন, “সমস্যা আগ্রাসন, প্রতিরোধ নয়। আগ্রাসন বন্ধ করার জন্য তার কাছে আত্মসমর্পণ করা মানে আত্মসমর্পণই।”
ইরানের আগ্রাসন প্রতিরোধের সক্ষমতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ প্রতিরোধের প্রতি অনুগত থাকবে। নাঈম কাসেমের ভাষায়, “ইরান বিশ্বকে প্রমাণ করবে যে, প্রতিরোধশক্তি ও মানবতার স্বার্থে তারা এই বিশ্বকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করেছে।”
ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংস হওয়া গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের উদ্দেশে কাসেম বলেন, “আপনারা সম্মান, মর্যাদা, গৌরব, মানবতা ও আত্মত্যাগের জীবন্ত প্রতীক। আপনারা শুধু আপনাদের ঘরবাড়িই নয়, আপনাদের সন্তান, নিজেদের জীবন এবং আপনাদের সন্তানদেরও ত্যাগ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি প্রতিরোধের জনগোষ্ঠীকে জানাচ্ছি, আমরা নিজেদের সম্পদ ও অনুদানের মাধ্যমে আশ্রয়, মেরামত ও পুনর্গঠনের ব্যবস্থা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনারও সমালোচনা করেন হিজবুল্লাহ প্রধান। তিনি বলেন, লেবাননের প্রেসিডেন্টের দেশের ভূখণ্ড, জনগণ ও সেনাবাহিনীর আত্মরক্ষার অধিকার ত্যাগ করার কোনো অধিকার নেই। একইভাবে দখলদারকে জবাবদিহির আওতায় আনার অধিকারও ত্যাগ করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, “লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রধান দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের।”
শেখ নাঈম কাসেম পুনরায় বলেন, “সমস্যা আগ্রাসন, প্রতিরোধ নয়। আগ্রাসন বন্ধ করার জন্য তার কাছে আত্মসমর্পণ করা মানে আত্মসমর্পণ।”
তিনি আরও বলেন, “আত্মসমর্পণ করা মানে আত্মসমর্পণ; আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি। লেবাননকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং তার ভূখণ্ডের কোনো অংশ ত্যাগ করা যাবে না। আত্মসমর্পণ দেশটির সহাবস্থান ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”
লেবানন সরকারের সঙ্গে ইসরায়েলকে ঘিরে আলোচনার কাঠামো নিয়ে কাসেম বলেন, “ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিটি লেবাননের কর্তৃপক্ষের জন্য একটি লজ্জাজনক ছাড়। এক বৈঠকেই তারা লেবাননের দর-কষাকষির ক্ষমতা ও সম্ভাব্য সব দাবি বিসর্জন দিয়েছে, যা ইসরায়েলের স্বার্থে গেছে।”
আপনার কমেন্ট