হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় এই সুন্নি আলেম বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে এবং ইরাকের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সম্মান থাকা উচিত। তবে সার্বভৌমত্বের অর্থ এই নয় যে ইরাক অন্যদের ইচ্ছা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, ইরাকের জনগণকে এমন সংঘাত বা নীতির মূল্য দিতে বাধ্য করা উচিত নয়, যা তাদের স্বার্থে নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টির উপায়ে পরিণত করাও উচিত নয়।
মুফতি আল-সুমাইদাই ইরানের সঙ্গে ইরাকের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ইরান একটি প্রতিবেশী মুসলিম দেশ। দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তের পাশাপাশি রয়েছে গভীর ধর্মীয়, সামাজিক, ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক। তাঁর প্রশ্ন, কঠিন পরিস্থিতিতে যে দেশের জনগণ ইরাকের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের সঙ্গে পরবর্তীতে শত্রুর মতো আচরণ করা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
বিশেষ করে দায়েশ বা আইএসের বিরুদ্ধে ইরাকের লড়াইয়ের সময় যারা দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন তিনি। তাঁর মতে, সেই সহযোগিতার পরিণতি যেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাধারণ নাগরিকদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়া না হয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বোঝা রোগী, শিক্ষার্থী, জিয়ারতকারী ও সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও ন্যায়সংগত নয়।
আল-সুমাইদাই স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর বক্তব্য আইন লঙ্ঘনের আহ্বান নয়; আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা কিংবা ইরাকের সার্বভৌমত্ব উপেক্ষা করাও তাঁর উদ্দেশ্য নয়। বরং তিনি এমন একটি ইরাকি নীতির আহ্বান জানাচ্ছেন, যা দেশের মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং একই সঙ্গে ইরাকের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক থাকা জনগণকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
তিনি সরকারের প্রতি ইরাকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব থেকে দেশ ও জনগণকে রক্ষায় বিদ্যমান সব কূটনৈতিক ও আইনগত উপায় ব্যবহারের আহ্বান জানান। বিশেষ করে মানবিক, চিকিৎসা, শিক্ষাগত ও ধর্মীয় যাতায়াতকে ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচনার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে বলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরাকের বিমানবন্দরগুলো যেন জনগণের ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ারে পরিণত না হয়। রাজনৈতিক পদক্ষেপ যেন কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের জন্য সম্মিলিত শাস্তিতে রূপ না নেয়।
তিনি আরও বলেন, যারা ইরাকের সংকটের সময় দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছে, তারা অন্তত ন্যায়বিচার, আনুগত্য ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণের অধিকারী। মার্কিন আগ্রাসনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অন্যদিকে যারা ইরাক ও তার জনগণের ক্ষতি করেছে, তাদের আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। তবে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে পুরো একটি জনগোষ্ঠীকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।
বার্তার শেষাংশে আল-সুমাইদাই বলেন, “প্রথমে ইরাক, প্রথমে ইরাকের সার্বভৌমত্ব, প্রথমে ইরাকের জনগণের স্বার্থ এবং সবার সঙ্গে ন্যায়বিচার—এটাই আমাদের পথ।”
তিনি আল্লাহর কাছে ইরাক ও দেশটির জনগণকে ফিতনা ও সংঘাত থেকে রক্ষা এবং দেশের কল্যাণ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্বশীলদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক কামনা করেন।
আপনার কমেন্ট