হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৫ শাবান : মহানবীর ( সা ) পবিত্র আহলুল বাইতের (আ) বারো মাসূম ইমামের দ্বাদশ অর্থাৎ সর্বশেষ মাসূম ইমাম , সাহিবুয যামান (যুগের অধিপতি) , যুগের ইমাম (ইমাম - ই যামান ) , আল -হুজ্জাহ্ ( সৃষ্টি জগতের ওপর মহান আল্লাহর ঐশী প্রমাণ ও দলীল ) মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল - মাহদীর ( আ ) শুভ জন্মদিন। তিনি প্রতিশ্রুত মাহ্দী ( মাহদী -ই মৌঊদ্ ) তিনি অন্তর্ধানে ( গাইবত) আছেন এবং মহান আল্লাহর অনুমতি ও ইচ্ছায় শেষ যামানায় ( কিয়ামতের পূর্বে) আবির্ভূত হয়ে সমগ্র বিশ্বকে ন্যায় , সুবিচার , ইনসাফ ও আদালত দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেবেন ঠিক তেমন ভাবে যেমন ভাবে তা অন্যায়, অত্যাচার , অবিচার ও যুলম দিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে । আর শেষ যামানায় সর্বশেষ ইমাম মাহদীর ( আ) আবির্ভাব ও আগমনের ব্যাপারে সকল মুসলিম উম্মাহ একমত । যেহেতু তাঁর আবির্ভাব ও যুহূরের মাধ্যমে বিশ্বের সকল নিপীড়িত নির্যাতিত মুস্তায'আফ্ জনতা সকল যুলুম , অন্যায় ও অত্যাচার থেকে নাজাত পাবে সেহেতু ইরানে এ দিবসের নাম করণ করা হয়েছে রূযে মুস্তায'আফীন্ ( বিশ্ব মুস্তায'আফ দিবস ) ।
আর ১৫ শাবানের রাত লাইলাতুল কদরের রাতের পর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত। মহান আল্লাহ এ রাতে বান্দাদেরকে স্বীয় ফযল ( কৃপা ও অনুগ্রহ ) হতে দান করেন এবং তাদেরকে নিজের দয়া ও উদারতা দিয়ে ক্ষমা করে দেন । অতএব এ রাতে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভে বান্দাগণ সবাই চেষ্টা করবে । এ রাতে মহান আল্লাহ স্বীয় পবিত্র সত্তার কসম দিয়ে ওয়াদা করেছেন যে যে কেউ তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে তাকে তিনি খালি হাতে ফিরিয়ে দেবেন না যে পর্যন্ত না সে অবাধ্যতার সন্ধান করে ( পাপাচারে লিপ্ত হয় )। মহান আল্লাহ যেমন লাইলাতুল কদরকে ( কদরের রজনী ) মহানবীর (সাঃ) জন্য মনোনীত ও নির্ধারিত করেছেন ঠিক তেমনি এ রাতকেও (১৫ শাবানের রজনী ) মহানবীর (সাঃ) আহলুল বাইতের (আ) জন্য মনোনীত ও নির্ধারিত করেছেন। তাই এ রাতে সবার উচিত দুআ ও সানা ( মহান আল্লাহর গুণকীর্তন) করার ক্ষেত্রে (যথাসাধ্য ) চেষ্টা করা । এ রাতের এ সব ফযীলত ও মর্তবা ইমাম জা'ফার সাদিক্ব ( আ) ইমাম বাক্বির ( আ) থেকে বর্ণনা করেছেন (মাফাতীহুল জিনান দ্রষ্টব্য ) । এ রাতের বরকত সমূহের অন্তর্ভুক্ত সর্বশ্রেষ্ঠ বরকত হচ্ছে এই যে ২৫৫ হিজরী সালের এ রাতের ( ১৫ শাবান ) সাহারের সময় ( সুবহে সাদিক অর্থাৎ ফজরের ওয়াক্তের কাছাকাছি সময় ) ইরাকের সামাররা নগরীতে হযরত সুলতান - ই আসর ইমাম - ই যামান মাহদী ( আ) জন্মগ্রহণ ( বেলাদত ) করেন । তাঁর শুভ জন্মগ্রহণের কথা আহলে সুন্নাতের বেশ কিছু আলেম , মনীষী , ইতিহাস রচয়িতা এবং নসবনামাবিদ নিজেদের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম মাহদীর ( আ) পিতা মহানবীর (সাঃ) আহলুল বাইতের (আ) একাদশ মাসূম ইমাম হযরত হাসান ইবনে আলী আল - আসকারী ( আ )। একাদশ মাসুম ইমাম শাহাদাত বরণ করলে দ্বাদশ ইমাম মাহদী ২৬০ হিজরী সালে গাইবত বা অন্তর্ধানে অর্থাৎ লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান। তাঁর অন্তর্ধান ( গাইবত ) দুই পর্যায়ের যথা: ১. সংক্ষিপ্ত ছোট অন্তর্ধান কাল বা গাইবত-ই সুগরা ( ২৬০ হিজরী থেকে ৩২৯ হিজরী সাল ) এবং ২. বৃহৎ অন্তর্ধান কাল বা গাইবত - ই কুবরা যা ৩২৯ হিজরী থেকে আজ পর্যন্ত অব্যাহত আছে এবং মহান আল্লাহ যখন ইচ্ছা করবেন কিয়ামতের পূর্বে আখেরী যামানায় ( শেষ যুগে) তিনি ( ইমাম মাহদী) অন্তর্ধান ( গাইবত : লোকচক্ষুর অন্তরাল ) থেকে আবির্ভূত হবেন এবং বিশ্বব্যাপী ন্যায় ও সত্যের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন এবং কিয়ামতের পূর্বে অর্থাৎ আখেরী যামানায় বারো মাসূম ইমামের সর্বশেষ ইমাম অর্থাৎ দ্বাদশ মাসূম ইমাম হযরত মাহদীর ( আ ) আগমন এবং বিশ্বব্যাপী তিনি যে সত্য ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন সে ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্য ( ইত্তিফাক) বিদ্যমান যা ইজমা হতেও উচ্চতর ।
এ রাতের বেশ কিছু বিশেষ আমল দুআর কিতাবাদিতে ( যেমন: মাফাতীহুল জিনান) বর্ণিত হয়েছে।
পহেলা শাবান থেকে ১৫ শাবান - এই প্রথম পক্ষকাল ( ১৫ দিন ) আ'ইয়াদ - ই শা'বানীয়াহ ( শাবান মাসের ঈদ ও উৎসব সমূহ ) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। শাবান মাস এমন এক মাস যে মাসে মহানবীর (সাঃ) পবিত্র আহলুল বাইতের (আ) কেউ শাহাদাত বরণ করেন নি । এ মাসে কোনো শাহাদাত দিবস নেই। আ'ইয়াদ- ই শা'বানীয়াহর উৎসবের চূড়ান্ত পর্যায় ও দিবস হচ্ছে জাশন ও ঈদে বেলাদত - ই সাহিবুয যামান হযরত মাহদী ( আ ) অর্থাৎ যুগের অধিপতি ইমাম মাহদীর ( আমাদের জীবন প্রাণ তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোক ) শুভ জন্মোৎসব ।
ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট