হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসনা’র বরাতে মাশরেক নিউজ জানিয়েছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাকদি শুক্রবার (২৮ মার্চ) ইরানের কারাজ শহরেই বিশ্ব কুদস দিবসের এক সমাবেশে গাজায় চলমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, “সেখানে সব বসতবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, কিছুই অবশিষ্ট নেই। কিন্তু যারা মানবাধিকারের দাবিদার, তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে না। এটিই পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রকৃত চিত্র। তবে বিশ্ব এখন এই সত্য দেখতে পেয়েছে এবং জাগ্রত হয়ে মাঠে নেমেছে।”
তিনি যোগ করেন, “যে জনগোষ্ঠী দেড় বছর ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধ ও পানি ছাড়া বেঁচে আছে, আমরা কেন তাদের পাশে দাঁড়াবো না? গাজাবাসী সম্মান ও সাহসিকতার সাথে দাঁড়িয়ে আছে, তাহলে আমরা কেন তাদের সহায়তা করবো না? কোন মানব সন্তান এই অবস্থা সহ্য করতে পারে? সবাইকে মাঠে নামতে হবে।”
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি আমাদের জাতি ও যুবকদের অধৈর্য করে তুলেছে। তারা অবিরাম আমাদের কাছে আবেদন করছে যেন তাদেরকে প্রতিরোধ ফ্রন্টে পাঠানো হয়।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমাদেরকে একটি বড় অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে এবং তাদের (শত্রুদের) কাজ শেষ করতে হবে। নিশ্চিত থাকুন, তাদের পতন অবশ্যম্ভাবী। আজ আমেরিকা ও ইসরাইলী শাসন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।”
জেনারেল নাকদি আরও উল্লেখ করেন, “আমেরিকা সকল ক্ষমতার সূচকে পিছিয়ে পড়েছে। অর্থনীতিতে, যা তাদের প্রধান ভিত্তি, তাদের ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ রয়েছে এবং তাদের আয়ের ১৭% শুধু ঋণ পরিশোধে খরচ হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের সমস্ত আয় এই ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে হবে। রাজনীতিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের মিত্রদের সাথেও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে তারা নিজেদের জনগণের বিদ্রোহের মুখোমুখি।”
তিনি বলেন, “ইয়েমেনের হুতিদের দ্বারা তাদের বিমানবাহী রণতরীগুলো লোহিত সাগরে অবরুদ্ধ হয়েছে, তারা মিসাইল ও ড্রোন হামলার শিকার হয়ে পিছু হটেছে। তাদের পরাজয় নিশ্চিত। ইসরাইলের অবস্থা আরও শোচনীয়—১২০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে তারা আমেরিকার দৈনন্দিন আর্থিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল।”
আপনার কমেন্ট