হাওজা নিউজ এজেন্সি: রজব ও শাবান মাস হলো হৃদয় পরিশুদ্ধ করার এবং রমজানের ঐশী মেহমানিতে অংশগ্রহণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার এক অমূল্য সুযোগ।
পবিত্র রজব মাস উপলক্ষে, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ সম্পর্কে বিষয়ে—হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (দা.বা.)–এর নির্বাচিত কিছু বক্তব্য সম্মানিত পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো:
গাফেল হৃদয় শয়তানের আক্রমণের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত থাকে। যখন শয়তান মানুষের হৃদয় ও আত্মার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে, তখনই পৃথিবীতে অশুভতা ও দুর্নীতির জন্ম হয়।
বিশ্বের যেকোনো ধরনের অশুভতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গভীর ও প্রকৃত মোকাবেলার একমাত্র পথ হলো আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং নিজের হৃদয় ও আত্মাকে শয়তানের অনুপ্রবেশ ও প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখা।
যদি সেই মানুষগুলোর হৃদয়ের ওপর শয়তানের আধিপত্য না থাকত, যাঁরা বিশ্বসমাজে বড় বড় প্রভাব বিস্তার করেন, তবে পৃথিবী কখনোই অশান্ত হতো না; বরং মানবজাতি নিরাপত্তা ও শান্তিতে জীবনযাপন করত।
মানবজাতির সব দুর্ভাগ্য ও বিপর্যয়ের মূল কারণ হলো আল্লাহ থেকে দূরত্ব। সে কারণেই ইসলামে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে বিশেষ ও গভীর সম্পর্ক স্থাপনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট সময় ও মৌসুম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম হলো পবিত্র রজব মাস। রজব মাসের মর্যাদা ও গুরুত্ব উপলব্ধি করুন। এ মাসে যে দোয়াগুলো বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো কেবল মুখে উচ্চারণের জন্য নয়; বরং সেগুলো মানুষকে পথ দেখায় ও শিক্ষা দেয়।
এই দোয়াগুলো হৃদয়ের উপস্থিতি নিয়ে, গভীর মনোযোগের সঙ্গে এবং তাদের অর্থ অনুধাবন করে হৃদয় ও জিহ্বায় জারি করুন। যদি একজন মুসলমান—যুবক বা বৃদ্ধ, নারী বা পুরুষ—রজব মাসে এবং পরবর্তীতে শাবান মাসে আল্লাহর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও নিকটবর্তী করে, তবে সে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রমজান মাসে প্রবেশ করতে পারবে।
তখনই রমজান মাস প্রকৃত অর্থে এক ঐশী মেহমানিতে পরিণত হবে। কেননা, মেহমানিতে প্রবেশের পূর্বে প্রস্তুতি গ্রহণ করা অপরিহার্য।
“নিজেকে পরিশুদ্ধ করো, তারপরই আল্লাহর মেহমানির পথে অগ্রসর হও”
এই আত্মশুদ্ধি ও অন্তর পরিস্কারের কাজ রজব ও শাবান মাসে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে রমজান মাসে আল্লাহর দস্তরখানে বসে সেখান থেকে যথাযথভাবে অনুগ্রহ, বরকত ও আত্মিক কল্যাণ লাভ করা যায়।
বক্তব্য: সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ
৪ অক্টোবর ২০০১
আপনার কমেন্ট